
Blog
-

শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখলেন আব্দুর রউফ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ পরাজিত হলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি শাখরা–কোমরপুর সড়কের জরাজীর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ী না হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ব্রিজ সংস্কারসহ সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস পান। এরই ধারাবাহিকতায় শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের জন্য ৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা-২ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আব্দুর রউফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আব্দুর রউফ। এ সময় তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাইনি। আমি আগে যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিজ সংস্কারের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে ইনশাল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ধাপে ধাপে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি পাবেন।
-

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে সাতক্ষীরা নিউমার্টে চত্বর থেকে তুফান কোম্পানি মোড় সংলগ্ন সড়কের পথচারি ও দোকানদারদের মাঝে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অপরদিকে তুফান কোম্পানী মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার পর্যন্ত গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান। কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির জেলা আহবায়ক কামরুজ্জামান বুলু, বিডিপির সদস্য সচিব, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারী ও মেয়ার প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম প্রমুখ। লিফলেট বিতরণকালে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, অবিলন্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তিনি বলেন গণভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, একনায়কতন্ত্র বন্ধ হবে, সংসদে উচ্চ কক্ষ গঠন হবে এজন্যই বিএনপি গণভোট মানে না। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য। এজন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন আমাদেরকে জেল-জুলুম, অত্যাচারের ভয় দেখাবেন না। এসব পার করে আমরা আজ এখানে এসেছি। যদি দেশ ভালো চালাতে চান তবে সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। কিন্তু আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচনও অবৈধ। বিএনপি সরকার জনগণের বিপক্ষে হাঁটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বিপক্ষে কেবলমাত্র ফ্যাসিবাদী সরকার হাঁটে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না। -

সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরের অনুমোদিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। তিনি বলেন, খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখে এবং সাঁতার একটি জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা। সাঁতার জানলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। তাই সবাইকে সাঁতার শেখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফুটবল কোচ ইকবাল কবির খান বাপ্পি, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ শেখ মাসুদ আলী এবং সাঁতার প্রশিক্ষক জাহিদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজকেরা জানান, মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে জেলার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।
-

শ্যামনগরে বিশ্ব পানি দিবস পালিত
এবিএম কাইয়ুম রাজ : “পানির প্রবাহ যেখানে, সমতার হাসি সেখানে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের হরিসখালী ঘাটে রূপান্তর গোফরইমপ্যাক্ট কর্মসূচি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ আয়োজনে র্যালি, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ভয়েস অব সিটিজেন্সের সভাপতি খাইরুল আলম মিলন, হরিসখালী ঘাটের সদস্যবৃন্দ, মোটর শ্রমিক প্রতিনিধি, স্থানীয় যুবসমাজ, নারী নেত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির কর্মীরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নদী-নালা ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে পানি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই পানির অপচয় রোধ, নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
-

জ্বালানি বিক্রয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সময়সূচি নির্ধারণ
বিশেষ প্রতিনিধি: চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন পেট্রোল ও অকটেন বিক্রয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণসহ বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ-এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, জেলা সদরের সকল ফিলিং স্টেশন ও ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন দুই শিফটে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা যাবে। এতে বলা হয়, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়সীমায় সরকারের জরুরি পরিসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যক্তিদের জ্বালানি গ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আরও উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়ার সময় চালকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট সঙ্গে রাখতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো মোটরসাইকেল ফিলিং স্টেশনের ভেতরে অবস্থান করতে পারবে না। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া, কোনো অবস্থাতেই বোতল বা কন্টেইনারে পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করা যাবে না বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন, ডিলার ও অনুমোদিত এজেন্ট পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-

দেবহাটায় জামায়াতের বাছাইকৃত কর্মী শিক্ষা বৈঠক
দেবহাটা ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবহাটা উপজেলা তারবিয়াত বিভাগের উদ্যোগে বাছাইকৃত কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলা জামায়াত অফিসে এ বাছাইকৃত কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ শিক্ষা বৈঠকে উপজেলা তারবিয়াত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, বাছাইকৃত কর্মী শিক্ষা বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের চিন্তা, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতিকে আরো সুসংগঠিত করা। আমরা যে পথের যাত্রী, সেটি কোনো সাধারণ পথ নয়; এটি একটি দায়িত্বপূর্ণ, ত্যাগের এবং ধৈর্যের পথ। আমাদের মনে রাখতে হবে, একজন কর্মী শুধু সংগঠনের সদস্য নয়, বরং তিনি একজন দাওয়াতের বাহক। তার প্রতিটি আচরণ, কথা ও কাজের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠতে হবে। ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন এবং সামাজিক জীবনে আমাদের আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সেক্রেটারী এইচ এম ইমদাদুল হক, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
-

সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগে হামের প্রকোপ বাড়ছে
সন্দেহভাজন রোগী ৩৩৭ : এক শিশুর মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগে হামে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগজুড়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ জনে। এর মধ্যে নতুন শনাক্ত হয়েছে ১ জন এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১টি। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া হামের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এসব রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে কুষ্টিয়ায়। জেলাটিতে মোট ১০১ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে, যার মধ্যে নতুন শনাক্ত ২৫ জন। এছাড়া যশোরে ৫৭ জন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকায়ও ৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বাগেরহাটে মোট ১৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন, ঝিনাইদহে ১৩ জন, খুলনা জেলায় ৫ জন, মাগুরায় ২৮ জন, মেহেরপুরে ১৮ জন, নড়াইলে ১৭ জন এবং সাতক্ষীরায় ২০ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কেএমসিএইচ)-এ গত রোববার রাতে হামে আক্রান্ত সন্দেহে ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি সোমবার প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি। একইসঙ্গে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও পৃথকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জনসাধারণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে খুলনায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) শিশু রোগীদের জন্য আলাদা করে হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে চরম বেড সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় শিশু রোগীদের অনেককে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম কর্ণারে মোট ১৪টি বেড থাকলেও এর মধ্যে একটি বেড ভাঙা থাকায় তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কার্যকর ১৩টি বেডে বর্তমানে ২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে একটি বেডে দুইজন রোগী রাখার পাশাপাশি অনেককে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। নতুন রোগী এলে তাদেরও ফ্লোরে থাকতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুষ্টিয়া জেলায়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। খুমেক হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, গত কয়েকদিনে হাম কর্নারে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ১ এপ্রিল ভর্তি ছিল ১১ জন, ২ এপ্রিল ১৫ জন, ৩ এপ্রিল ১৯ জন, ৪ এপ্রিল ১৪ জন, ৫ এপ্রিল ১৫ জন এবং ৬ এপ্রিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান স্যায়েদা রুখশানা পারভীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।তবে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন জানান, বর্তমানে খুলনা জেলা আপাতত ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানিয়েছে, রোগীর চাপ মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খুলনা সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি বিশেষায়িত হাসপাতাল নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রয়োজন হলে সেখানে চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।




