স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন ও পূর্ণাঙ্গ তপশীল ঘোষণা করা হয়েছে। সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ চলবে বিরতিহীনভাবে সমিতির দ্বিতীয় তলায়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সবুরকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ১২ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট স. ম. মোমতাজুর রহমান মামুন, আ. ক. ম. সামছুদ্দোহা খোকন, মো. ফকরুল আলম বাবু, মো. আবুল বাসার, আজমির হোসেন রোকন, সাহেদুজ্জামান সাহেদ, এম আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান অনিক, এম এ হাসান, শংকর কুমার মজুমদার ও রাব্বি আহম্মেদ। ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১ এপ্রিল। এ তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ করা হবে ২ এপ্রিল এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে ৬ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ৮ এপ্রিল (দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত) এবং যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ৯ এপ্রিল (দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত)। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৩ এপ্রিল। সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নান বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বাবু আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
Category: সাতক্ষীরা
-

সাতক্ষীরা স্কলার হাবের উদ্যোগে ইতালিতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অনেক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা, তথ্যের অভাব ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে তা অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। তবে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কলারহাব-এর উদ্যোগে ইতালির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে DSU Scholarship Programme-এর আওতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে।
এই স্কলারশিপের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের প্রাথমিক বাছাই শেষে অভিভাবকসহ সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া হবে। ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে।
আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিল ২০২৬। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৮৯৪৫৪৮৯৩৫ নম্বরে।
এছাড়া প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী আসলাম, জব প্লেসমেন্ট অফিসার, সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (মোবাইল: ০১৬১৮৬১৮৭৫১)।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে।
-

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম
স্টাফ রিপোটার: গত কয়েক সপ্তাহে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক মাসে আক্রান্তের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাতে এবং ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এই প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতাই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ। প্রধান উপসর্গ ও ঝুঁকি: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিতে বলেছেন:* তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।* নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।* শরীরে ছোট ছোট লালচে দানার মতো র্যাশ ওঠা।* কাশি এবং শ্বাসকষ্ট।বিশেষজ্ঞের মতামত: “হাম কেবল একটি সাধারণ জ্বর নয়; সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ এমনকি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি।” ডা. মাহফুজুর রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সরকারি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার যা করণীয়: ১. আপনার শিশুর টিকার কার্ড চেক করুন এবং হামের (গজ) ডোজ পূর্ণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। ২. আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন এবং প্রচুর তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার দিন। ৩. গুজব এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করাবেন না।
-

সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি
স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণে জ্বালানি মিলছে না। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এর মধ্যে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি রয়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তেমনভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। এ কারণে বিআরটিএ অফিসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ৩০০ থেকে ৪০০টি পড়েছে। ঈদ ও ছুটির কারণে সংখ্যাটি কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের হাতে টাকা থাকলে বাইক কেনে, কিন্তু বর্তমানে টাকার সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্দিষ্ট আবেদন সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ এসব আবেদন অনলাইনে করা হয়। তবে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরার মোটরসাইকেল বাজারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমছে পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি, আর বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা। সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’ শোরুমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের ১০ থেকে ১২টি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত। শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে মোট বিক্রি বেড়েছে। তবে তেলচালিত বাইক কমে গেছে, মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে। তেলের সংকটই এর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, শহরের চায়না বাংলা মোড়ে অবস্থিত ‘ইকো মটরস’-এর ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ১৫টি। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ৮-১০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯-১০টি বিক্রি হলেও মার্চে এসে ২০ থেকে ২৫টি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের বাইকের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেকে শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনছেন না। জ্বালানি পাওয়া ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। জেলায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যুক্ত হওয়ায় পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামগ্রিক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
-

সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ: কারাদণ্ড, জরিমানা
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত এবং বিক্রির অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের সময় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ যমুনা পেট্রোলিয়ামের লোগোযুক্ত একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চালকসহ চারজন ডিলারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার গাভা এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটক চালক মো. রিপন শেখ (৩৮)। তিনি খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে গাভা এলাকায় একটি ট্রাক সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ট্রাকটির কাগজপত্র যাচাই করতে চাইলে চালক তা দেখাতে পারেননি। পরে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয় এবং চালককে আটক করা হয়। জব্দ করা পেট্রোলের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ জব্দ করা ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আটক চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, যমুনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, ওই পেট্রোল তাদের ওখান থেকে বের হয়নি। এ কারণে পেট্রোলের দাবিদার ওই চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোমবার বিকেলে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার পেট্রোলের দাবিদার চার ডিলারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তারা হলেন- মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, মেসার্স আলেয়া অয়েল সাপ্লাইয়ের মো. ইউনুস আলী মৃধা, মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী এবং মেসার্স এম এ জলিল এন্টারপ্রাইজের মো. জলিল। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এদিকে বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার দুপুরে শহরের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সিআরবি’র সহযোগিতায় ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পলাশপোল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে পলাশপোল শাহাজুদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে রক্ষিত ৩০ লিটার পেট্টোল ও অকটেন পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, এসব পেট্টোল ৩শ থেকে ৫শ টাকা লিটারে বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া আনোয়ার হোসেনকে ৫হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খোকনকে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রির দায়ে আটক করা হয়। পরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
-

মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা
স্টাফ রিপোটার: মেসার্স সাধু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর প্রতারণার শিকার হয়ে দুই ব্যবসায়ী খুইয়েছেন ১৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের ১৫ কোটি টাকা এবং মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী লিটন কুমার আইজের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জানা গেছে, ডিও ব্যবসার আড়ালে এই টাকা হাতিয়ে নেয় মাহাদেব সাহা। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মামলা করে হয়রানির করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইজকে। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচাতে ও জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রতারক মাহাদেব সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন ও রাধিকা ডাল মিল অ্যান্ড ওয়েল কোম্পানির মালিক লিটন কুমার আইজ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়িক লেনদেনের নামে প্রতারণা, চেক ডিজঅনার, নারী ধর্ষণ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬টির বেশি মামলা রয়েছে। তারপর ভিন্ন কৌশলে ব্যবসার নামে প্রতারণা করে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে র্দীঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার ভাগিনাসহ ১৫ -১৬ জনের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন রতন জানান, ২০২৫ সালে চট্টগামের জনৈক ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মাহমুদের মাধ্যমে টেলিফোনে পরিচয় হয় প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর সঙ্গে। মাহদেব চন্দ্র সাধু নিজেকে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী জয়দেব সাহার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেন। পরে জয়দেব সাহা নামে আমার কাছ থেকে ভুট্টা নেয়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেন। ভুট্টার পাশাপাশি মুসর ডাল, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্যের ডিও ক্রয়-বিক্রয় শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ১৫ কেটি টাকার পণ্য নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কথিত জয়দেব সাহা। পরে ওই থানায় গিয়ে প্রথমে জানতে পারি সে জয়দেব সাহা নয়, তার আসল নাম মহাদেব চন্দ্র সাহা। শুধু আমার সঙ্গে নয়, দেশের আরও অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট প্রতারক মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীদের আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার পর মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে আদালত থেকে জামিন নেন; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাহা ও তার ভাগিনা শুভ সাহা অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ আমাকে (ইসমাইল হোসেন রতন) গ্রেফতার করে। ১০ দিনের জেল খেটে ১৭ মার্চ জামিন পান। ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় আমার বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ইসমাইল অভিযোগ করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধু বর্তমানে টাকা যাতে আমাকে পরিশোধ করতে না হয় এজন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছে। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। এ সময় তার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাহাবার এগ্রোর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, রাধিকা ডাল অ্যান্ড ওয়েল মিলের মালিক লিটন কুমার আইজ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নাহিদ, বালু লাল চক্রবতীসহ অনেকে।
-

কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার
এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর জেলে পাড়ায় দুর্যোগকালীন প্রয়োজন নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ‘আবির্ভাব’ টিম। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে টিমের সদস্যরা সরাসরি স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির সংকট এবং জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ঘাটতি তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবও প্রকট আকার ধারণ করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ‘আবির্ভাব’-এর কো-ফাউন্ডার এস এম জান্নাতুল নাঈমসহ সুজয় চক্রবর্তী, জেবা তাসনিয়া, হাসনা হেনা ও খালিদ হোসেন। তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘আবির্ভাব’ টিম জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও প্রয়োজনভিত্তিক কিট নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
-

লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট
এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
-

কুরআন-সুন্নাহর সৌন্দর্য সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্যই ঈদের আগমন: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে শহরের আল-আমিন ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জেলা আকরাম পরিষদের সদস্য ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, কেবল আল্লাহর গোলামি করার মাধ্যমেই প্রকৃত ঈদের স্বার্থকতা অর্জিত হয়। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা বাহ্যিক আনন্দের জন্য নয়; বরং মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করে কুরআন-সুন্নাহর সৌন্দর্য সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্যই ঈদের আগমন।” তিনি আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান উপেক্ষা করে মানবসৃষ্ট আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হলে প্রকৃত ঈদের আনন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। তিনি বলেন, ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য উপলক্ষ। এ ধরনের পুনর্মিলনী সামাজিক ঐক্য ও সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, প্রভাষক ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গনি প্রমুখ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসান, মানিকগঞ্জ পৌর আমির হুমায়ুন কবীর, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজাদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে শেষ হয়।
-

ঈদের ছটিতে ভাই-বোনসহ ৪ জনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরায় ঈদে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে ঘেরের পানিতে ডুবে আপন দুই খালাতো ভাই বোনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকাল তিনটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পানিতে ডুবে মৃত দুই শিশু হলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামের মো. ফারুক গাজীর ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন (১৩) ও নলতা কাশিমপুর গ্রামের মো. আহসান আলী খা’র মেয়ে জান্নাতুল (১০)। প্রত্যক্ষদর্শী দক্ষিণ নলতা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, জাকারিয়া ও জান্নাতুল আপন দুই খালাতো ভাই বোন। ঈদে তারা নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামের নানা আব্দুল মজিদ ঢালীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে তারা দুই ভাই-বোন একসাথে নানার মাছের ঘেরে বেড়াতে যায়। ঘেরের বাঁধের উপর দিয়ে হাঁটার সময় এক পর্যায়ে তারা দুইজনেই পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর জাকারিয়া পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ সময় গ্রামবাসী তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি পানির মধ্য থেকে খুঁজে জান্নাতুলের মরদেহ উদ্ধার করে। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়ার জন্য সিরিয়াল দিতে যাওয়ার পথে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের মধ্যে পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেবহাটা উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের কুলিয়া খাসখামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম ফরহাদ হোসেন (১৬)। তিনি দেবহাটা উপজেলার সেকেন্দ্রা গ্রামের মো. সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ হোসেন মোটর সাইকেলে তেল নিতে আগে থেকে সিরিয়াল দেয়ার জন্য পেট্রোল পাম্পে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দেবহাটা উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের কুলিয়া খাসখামার এলাকায় পৌঁছালে সড়কে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের ভিতরে ১৫ ফিট উপর থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা: মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুষ্পকাটি ইটভাটা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ফরহাদ হোসেন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুষ্পকাটি ইটভাটা সংলগ্ন কালভার্ট সংস্কার কাজ চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ হোসেন সেকেন্দ্রা গ্রামের সিদ্দিক সরদারের বড় ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পুষ্পকাটি এলাকায় সংস্কারাধীন কালভার্টের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারান ফরহাদ। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
