আলা মামুন,তালা প্রতিনিধি: তালার খেশরা ইউনিয়নের রাজাপুর ও হরিহরনগর বাজারে জামায়াতে ইসলামীর পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টায় রাজাপুর ও সন্ধারপর হরিহরনগর বাজারে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। খেশরা ইউনিয়ন শাখার আমির মাওলানা আব্দুল গফুর’র সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাতক্ষীরা-১ ( তালা-কলারোয়া ) আসনের নমিনী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, কোনো দুর্বলের ওপর জালিমের অত্যাচার সহ্য করা হবে না। দুর্নীতিবাজদের সমাজের সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করতে দেওয়া হবে না। কোর্ট,কাচারি ও আদালতকে দলীয় কার্যালয় করতে দেওয়া হবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি সুন্দর সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই ।
Category: তালা
-

তালার রাজাপুর ও হরিহরনগরে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর পথসভা
-

যুবকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসী : জামায়াতে আমীর
অনলাইন: যুবকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসী মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যে যুবকেরা আগামীর বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিয়ে বলেছে, ‘বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’ সেই যুবকদেরকে সম্মানিত করতে শুধু জামায়াত না, তাদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসীও।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বাদ মাগরিব চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ মিলেমিশে সমান অধিকারের ভিত্তিতে বসবাস করবে। সর্বক্ষেত্রে দেশাত্ববোধের মাধ্যমে দেশকে উন্নত করতে সচেষ্ট থাকবে। কোনো চাঁদাবাজ, দুষ্কৃতিকারী, দুর্নীতিবাজ থাকবে না। কেউ কোনোভাবে অন্যায়ের শিকার হবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আন্দোলন করে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে পারিনি। তার পতন ঘটিয়ে যে সন্তানেরা আজ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিল, এদেশের মানুষকে মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে দিল তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চিরিরবন্দর উপজেলা শাখা আয়োজিত পথসভায় উপজেলা আমির মো: রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
এছাড়া সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজউদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মাহাবুবুর রহমান বেলাল, দিনাজপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী মোহাম্মদপুর (দক্ষিণ) থানা আমির শাখাওয়াত হোসেন, সাবেক জেলা আমির ও সাবেক চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাবউদ্দীন মোল্লা, জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমান পলাশ ও সাইদুল ইসলাম সৈকত, জামায়াতের জেলা কর্মপরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন, জেলা ইউনিট সদস্য মাওলানা লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমির আনিছুর রহমান, চিরিরবন্দর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল মমিন, পার্বতীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো: আবু সায়েদ, খানসামা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আতাউর রহমান, খানসামা ওলামা বিভাগের সভাপতি মনিরুজ্জামান নিয়াজী, চিরিরবন্দর উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহসিন আলী, পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি মো: রাজিউল ইসলাম, খানসামা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কাফি, উপজেলা ছাত্রশিবিরের (উত্তর) সভাপতি মো: হারুনুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের (দক্ষিণ) সভাপতি হেলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। -

মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুরের ইন্তেকাল, জানাযা সম্পন্ন
শফিকুল ইসলাম, লাঙ্গলঝাড়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুর মাস্টার আব্দুল আজিজ (৮০) ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন। বুধবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় বার্ধক্য জনিত কারণে নিজ বাড়ি কলারোয়ার লাঙ্গলঝাড়ায় ইন্তেকাল করেন।
জানাযা পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা ওমর আলী, মাস্টার হাফিজুর রহমান, লাঙ্গল ঝড়া জামে মসজিদের ইমাম আজহারুল ইসলাম, মরহুমের ছোট ছেলে অধ্যাপক মহসিন রেজা পিন্টু প্রমুখ।
-

সব স্রোত মিশেছে জামায়াতের কমীর্ সম্মেলনে, লোকে লোকারন্য
সাতক্ষীরা শহর গতকাল ছিল লোকে লোকারন্য, জনস্রোত, মানুষ আর মানুষ, শহরের সীমানা পেরিয়ে জনস্রোত এর । সুবিশালতা ছড়িয়ে পড়ে কদমতলা, বিনেরপোতা আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা। বিস্মিত, হতভম্ব, শহরবাসি, হাজার ছাড়িয়ে লাখ এবং লাখের মধ্যে কেবল সীমাবদ্ধ ছিল না জনসাগর। কয়েক লক্ষ লোকের সরব, স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নারায়ে তাগবীর, আল্লাহু আকবর ধ্বনি প্রতিধ্বনি সাতক্ষীরার আকাশ বাতাশকে প্রকম্পিত করছিল। সব জনস্রোত ছিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠমুখি। আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানের সাতক্ষীরায় আগা উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরাবাসীর সাথে যে আবেগ, আগ্রহ, উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে জেলার ইতিহাসে এমন আগ্রহময় জনস্রোত দেখা যায়নি এমনটি বলেছেন জায়ায়াতের কর্মী সম্মেলনে। আগতদের অনেকে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, চিকিৎসা বিদ্যায় পাদদর্শী ডাঃ শফিকুর রহমান বিগত পতিত সরকারের সময়গুলোতে যেভাবে নির্যাতিত নিষ্পেষিত এবং জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তা নজিরবিহীন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস ফ্যাসিস্ট এর কারাগারে অন্তরীণ থেকেছেন যে কারণে দেশবাসির কাছে তিনি মজলুম নেতা হিসেবে কেউ আমাদের জন্য হুমকি হোক এটা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়েও সরকারি উচ্চ জামায়াত শিবিরের কর্মী সমর্থকরাই সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল গতকালের জনস্রোতের । শত সহস্র মহিলারা শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অবস্থান নিয়ে কর্মী সম্মেলনে। কর্মী সম্মেলনের উপস্থিত অনেককে আক্ষেপ করতে দেখা গেছে আমীরে জামাতকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ না পাওয়াতে। কোন উত্তেজনাকর বা বেহিসেবী (নিবক্তৃতা নয়, অত্যন্ত ধীরস্থির ভাবে, হৃদয়ঙ্গম বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শান্তির বার্তা দিয়ে গেলেন সাতক্ষীরার বিশ লক্ষাধিক মানুষকে। হানাহানী, নৈরাজ্য নয় এদেশ আমাদের সব ধর্মের, বর্ণের। আগামীর বাংলাদেশ হবে শান্তির। এ দেশে ইসলামের পতাকা উড়বে। আমীরে জাময়াতের প্রতিটি শব্দ চয়ন ছিল অনন্য অসাধারণ। সাতক্ষীরার মাটি ৩৬ জামায়াত শিবিরের কর্মীর রক্তে রঞ্জিত। এই সে জমিন শহীদদের জমিন। গতকালে জনস্রোতের মহা উপস্থিতিতে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। শহরের প্রতিটি সড়কে ছিল লোকে লোকারণ্য। যে যেভাবে পেরেছে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনেছে। অনেকে বিদ্যালয় কর্মী সম্মেলন খুলে উপস্থিত হতে পারেনি। যে কেবল জনস্রোতে ছিলো তা নয় বিপুল সংখ্যক বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশে।
দুপুর দুইটায় কর্মী সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর বারটার পূর্বেই লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটে সম্মেলন স্থলে। পুরো শহরে যানযটের চিত্র ছিল না। অথচ সর্বকালের বৃহত্তম লোকসমাগম। জামায়াতের নিজস্ব জনবল স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে কোথাও সামান্যতম যানযট হতে দেয়নি। শহরের যতদূর চোখে দেখা যায় ততদূরেই ছিল মানুষ আর মানুষ। সাতক্ষীরার মানুষ মনে রাখবে এমন জনস্রোত
-

সাতক্ষীরায় বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১১ লাখ টাকার ভারতীয় পন্য ও ৬ টি হনুমান আটক
শাহ জাহান আলী মিটন, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্যসহ প্রায় এগারো লক্ষ টাকার ভারতীয় মালামাল ও ৬ টি হনুমান জব্দ করেছে বিজিবি।বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধিনস্থ ভোমরা, বৈকারী, কাকডাঙ্গা, মাদরা ও চান্দুরিয়া বিওপির সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ভারতীয় মালামাল ও ৬ টি মুখপোড়া হনুমান আটক করে বিজিবি।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আশরাফুল হক বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোমরা বিওপির পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর থানার লক্ষীদাড়ী নামক স্থান হতে ২৪ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ী আটক করে। বৈকারী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ০৬ টি বন্যপ্রানী (মুখপোড়া হনুমান) ভারতে পাচারকালে আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ আভিযানিক দল সদর থানার কেড়াগাছি এবং রাজ্জাকের মোড় নামক স্থান হতে ৩৭ বোতল ভারতীয় মদ ও ৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া থানার রাজপুর নামক স্থান হতে ১৫ বোতল ভারতীয় মদ ও ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। এছাড়াও, চান্দুরিয়া বিওপির বিশেষ দল গোয়ালপাড়া নামক স্থান হতে ০৮ বোতল ভারতীয় মদ আটক করে। যার সর্বমোট সিজার মূল্য ১০ লাখ ৪৪ হাজার ১শত টাকা।
বিজিবি অধিনায়ক আরো জানান, সাতক্ষীরা সদরের সাতানী নামকস্থান দিয়ে বাংলাদেশ হতে ভারতে বন্যপ্রানী পাচার করবে এমন গোপন সংবাদ প্রাপ্তির পর বৈকারী বিওপির নায়েব সুবেদার মোঃ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চৌকষ আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় গোপনে অবস্থান নেয়। এ সময় চোরাকারবারীরা বিজিবি’র উপস্থিতি বুঝতে পেরে ০৬টি হনুমান খাঁচাসহ সাতানী পাকা রাস্তার উপরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত প্রতিটি হনুমানের মূল্য ৪০ হাজার টাকা হারে সর্বমোট ৬ টি হনুমানের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
বিজিবি টহলদল কর্তৃক উদ্ধারকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা ও মাদকদ্রব্য সমূহ সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরী করতঃ পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের নিমিত্তে ষ্টোরে জমা এবং উদ্ধারকৃত বন্যপ্রানীর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
উল্লেখ্য, চোরাকারবারী কর্তৃক উক্ত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করে বিজিবি। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারনে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
-

সদরের শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করলেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক
শাহ জাহান আলী মিটন,সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শাল্যে গ্রামের পশ্চিম পাড়া মার্কেট চত্বরে বিভিন্ন ধর্মের ও পেশার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। মো. শাহিনুর রহমান শাহীন’র সঞ্চালনায় ও ইউপি সদস্য নূরুল হুদা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানার সেকেন্ড অফিসার (এস আই) এস এম শামীম আক্তার,শাল্যে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ অহিদুজ্জামান অহিদ, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম সানা, শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কবির হোসেন, মাস্টার সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন, আকরামুজ্জামান লিটন, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, কামরুজ্জামান খোকন, ডা. দেলোয়ার হোসেন, মোঃ সলিমুল্লাহ সুজন, হাফেজ আসাদুজ্জামান মনা, আল মুজাহিদ , মোঃ বিল্লাল হোসেন রিপন,মোঃ বজলুর রহমান, শাজাহান আলী বাবু, ইনজামামুল হক রানা, শ্রী আনন্দ মন্ডল, পুরোহিত দিনু ঠাকুর, আশুতোষ মন্ডল,গোবিন্দ,প্রকাশ সরকার, বিষ্ণুসহ এলাকাবাসী।
সদর থানার ওসি সামিনুল হক এলাকাবাসীর মতবিনিময়কালে বলেন, আপনাদের এলাকায় কোন প্রকার মাদকদ্রব্য ক্রয়- বিক্রয় ও সেবন করলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে ইনফরমেশন দেবেন আমরা তাদের ব্যাপারে আইনানক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও বলেন এলাকায় জুয়া, চুরি বা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। এ সময় তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জরুরী সেবার নাম্বার ৯৯৯,নিজের ও সদর থানার ডিউটি অফিসারের মোবাইল নাম্বার প্রদান করেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এর এমন পদক্ষেপ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন জানিয়েছে । -

পানিতে ভাসছে তালরা খেশরা ইউনিয়ন
স্টাফ রিপোটারঃ পানিতে ভাসছে কপোতাক্ষ নদী দ্বারা বেষ্টিত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁসে গড়ে উঠা ইউনিয়নটির ২১টি গ্রামের মধ্যে ১৮টি গ্রামই তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নটির উত্তরে জালালপুর, পূর্বে-কপোতাক্ষ, দক্ষিণে- আশাশুনি উপজেলা এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা সদর অবস্থিত। গত ১৫ দিন ধরে ইউনিয়নটির ৪০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মাদিয়ার খাল, শালিকা খাল, ছোট চর এবং বালিয়ার খাল পলিপড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া অবৈধ দখলদারা এসব খালে নেট-পাটা বিছিয়ে মাছ চাষ করায় পানি সরবরাহ সিমীত হয়ে আসায় অল্প বৃষ্টি পাতেই এলাকাটি পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ৩৫ হাজার ১৭০.৮৩ বিঘা জমি দ্বারা বেষ্টিতি ইউনিয়নটির ২৫ হাজার বিঘা জমি এখন পানির তলে। কয়েকশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসা সমূহে। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সেবা। দেখা দিয়েছে রোগব্যাধি। দ্বিপের উপর প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে এসেছে স্থবিরতা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ও খেলাধুলায় ইউনিয়নটির বিশেষ সূনাম থাকলেও পানি বদ্ধতায় ইউনিয়নটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। কালের স্বাক্ষী ৫০০ বিগার পাখিমারা বিল, ঐতিহ্য বাহী বটগাছ, বাবলা গাছের সুসজ্জিত র্দীর্ঘ ৫ কিঃ মিঃ রাস্তা, শাহাজাতপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় অবস্থিতিত কয়েকশ বছরের একটি পূরনো মসজিদ, শালিখা গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ১২ টি গেট সম্বলিত ১২ ফোকড় ব্রিজ সবই যেন তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। প্রত্যন্ত এ অঞ্চলটি ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। এসময় থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুফিজুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা ওয়াজেদ আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে পুরোপুরি ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রাণসায়ের খালের দুই মুখ উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো, আন্তঃনদী সংযোগ বিশেষ করে ইছামতি, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, বেতনা, শালিখা ও কপোতাক্ষকে খননের আওতায় এনে পানিপ্রবাহ সচল করণ, নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, অকেজো হয়ে পড়ে থাকা স্লুইসগেটগুলো সংস্কারকরণ, পৌর এলাকার মধ্যে মৎস্য ঘের নিষিদ্ধকরণ, নদীগুলো খননের সঙ্গে সঙ্গে সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোও টেকসই করে বেড়িবাঁধ বাঙন রোধ, বেড়িবাঁধে বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, নদী ও খালেরপ্রবাহ বিঘিœত হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করা, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশনের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ নিরুপণের মাধ্যমে জলবায়ু ফান্ডের অর্থ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবী ভুক্ত ভোগীদের।
খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম (লাল্টু) জানান, তার ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার বেশিরভাগ ঘের ও ফসলি জমি ভেসে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মন্দির এমনকি মানুষের বাড়ি-ঘরে পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়ন যুব বিভাগ সভাপতি শিমুল হোসেন ও সেক্রেটারী আলি হুসাইন জানান, ইউনিয়নের মৎস্য ঘের, আমন ধান এর আবাদ, কাঁচা সবজি, হলুদ ক্ষেত, ঝাল বেগুনসহ বিল অঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কৃষকদের কৃষি ফসল ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। বহু মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। মানুষের স্বাবাভিক জীবন যাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল জানান, প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পানি সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন খাস খাল দখলমুক্ত করে পানি নামানোর ব্যবস্থা করছেন। এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য সকল ইউপি ও সরকারি দফতরে তথ্য চাওয়া হয়েছে। জেলাপ্রশাসকের কাছে দ্রুত সমাধানের জন্য আর্থিক চাহিদা দেয়া হয়েছে। পানি দ্রুত নামানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বিভিন্ন খাল পরিষ্কার করছি। তিনি আরো জানান, পার্শ্ববর্তী জেলা যশোর থেকে আমাদের উপজেলার পানি আসার কারণে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিত নদী খনন, সংযোগ খাল উন্মুক্ত না থাকা এই উপজেলায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এখনই যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে খেশরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেকাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, শুধু খেরশা ইউনিয়নটিতে কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধ্যা খা বাবলি জানান, উপজেলায় ৫২০টি মাছের ঘের সম্পূর্ণরুপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৮২৭ দশমিক ৪৫ টন মাছ ভেসে গেছে। মাও ওয়াজেদ আলী জানান, ভয়াবহ পানিবদ্ধতায় এলাকাজুড়ে পানি থাকায় স্যানেটারি ব্যবস্থায় পড়েছে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। সুপ্রিয় পানির অভাবের পাশাপাশি, চর্ম রোগ, পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া জনিত রোগের আক্রান্ত বেড়ে গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাঁচ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৪৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
-

তালায় সাংবাদিক আঃ জব্বারের ইন্তেকাল
তালা (সাতকক্ষীরা) প্রতিনিধিঃতালার সিনিয়র সাংবাদিক সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার তালা ব্যুরো প্রধান ও তালা সদর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল জব্বার ( ৫২) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
শনিবার (৩১ আগষ্ট) বিকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি হার্ট ও শ্বাসজনিত রোগে গত কিছুদিন যাবত ভুগছিলেন।
তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারী ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবত তালা সদরে বসবাস করেন। তিনি তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মৃত গোলাপ সরদারের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি ১ পুত্র, ১ কন্যা ও স্ত্রী সহ অসংখ্য গুহগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ এশার নামাজের পর তার গ্রামের বাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তালা ও পাটকেলঘাটায় কর্মরত সাংবাদিক সহ বিভিন্ন সংগঠন।