সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিনের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুরে (সিটি কলেজের পিছনে) এ ঘটনা ঘটে।
কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিন জানান, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর ওই রাতেই তার বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-খ-১২-০৪১০) নিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়া হন। তিনি সেনা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। তার মা বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে তাকে আবারো হত্যার হুমকি দিলে গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। গত ১৭ আগস্ট থেকে তার প্রাইভেটকারটি সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পিছনে কওছার মুহুরীর ভাড়াটিয়া নেঙ্গী গ্রামের আজিজুর রহমানের জিম্মায় রেখেছিলেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওই প্রাইভেটকারটি পেট্রোলের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে
Category: জাতীয়
-

কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যানের প্রাইভেটকারটি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
-

বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সাধারণ মানুষকে হয়রানিকারীদের শাস্তির দাবী
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বাহিনী কর্তৃক চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা লাবসা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডর বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নং লাবসা ইউনিয়ানের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানসহ এলাকায় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতারা সরকারি খাস জমিতে ঘর বানিয়ে দেওয়া প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও বিএনপি -জামায়াতের সমর্থকদের বিভিন্ন নাশকতা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকার আব্দুল হান্নান বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, ৩ বিঘা খারস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চাঁষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম কিন্তু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ২০১৩ সালে নাশকতা মামলায় আমাকে জড়িয়ে কারাগারে পাঠিয়ে জমি দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। একই এলাকার হাসানুর রহমান হাসান বলেন, দোকান করার সময় জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আওয়ামী লীগনেতারা নাশকতা মামলার ভয় দেখিয়ে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়,আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে আমার টাকা ফেরত পায়। একই এলাকার ইসকান্দার মির্জা বলেন, জিয়াউর রহমান জিয়া ২০০৮ সালে বিনেরপোতা মাছ বাজার এলাকায় আমার জায়গা দখল করে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কার্যালয় বানায়। এছাড়া তারা আমাকে নাশকতায় মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠায়। ৭০ বছরে বৃদ্ধ কেঁদে কেঁদে জানান, বুড়ো বয়সে ৪ মাস জেল খাটিয়েছে তারা। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে আওয়ামীলীগনেতা মান্নান তার জমিতে আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে ৪২ হাজার টাকা মজুরী দেয়নি। টাকা চাইলে মান্নান বলে জামায়াতের কর্মী টাকা কিসের। আমি তার বিচার চাই। নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান আমি বিএনপির সমর্থক হওয়ায় দলীয় পাওয়ার দেখিয়ে জিয়াউর রহমান জিয়া, আব্দুল মান্নান, ইমাম বারী আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ৮ লক্ষ টাকা নিয়েছে। একই এলাকার আলীরাজ জানান, আমার কাছ থেকে খাস জমি দেওয়ার নাম করে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে সেই জমি একই এলাকার মফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার টাকায় দখলে দেয় জিয়াউর রহমান জিয়া । কিন্তু আমার ৬০ হাজার টাকা আজও ফেরত দেয়নি জিয়াউর রহমান বাবু।
গোলাম বারী ও হাসান আলী জানান, সাংবাদিক রেজাউল ইসলাম বাবলু ও আওয়ামীলীগনেতা জিয়াউর রহমান, মান্নান মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করলেন বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। সালমা বেগম নামে এক মহিলা জানান, আমার ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে আব্দুল মান্নান ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলো। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। ভূক্তভোগীরা আওয়ামীলীগনেতা জিয়াউর রহমান, মান্নানসহ যারা দীর্ঘ দিন অর্থলুটপাট, জমি দখল, জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
-

আন্তঃসীমান্ত ইছামতি নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা মেরামতে অংশ নিচ্ছেন সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশারসহ জামায়াত নের্তৃত্ববৃন্দ
বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমান্ত সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকার ইছামতি নদীর ভাঙ্গন কবলিত অংশ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ হল নদীর বাঁধ নির্মানের কাজ। শনিবার (৩১ আগস্ট) উপজেলার ভাতশালা বিশ্বাসবাড়ি এলাকায় এ কাজে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি সাতক্ষীরা জেলার আশরি মুহাদ্দিস রবিউল বাশারসহ ৪০০শতাধীক নেতৃবৃন্দ। সকালে ভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন ও স্বেচ্ছাশ্রমর ভিত্তিতে বাঁধের ভরাট কাজের উদ্বোধন করেন জেলা জামাতের আমীর হাফেজ মুফতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
এসময় মুহাদ্দিস রবিউল বাশার জানান, দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। নদী ভাঙন রক্ষায় যথাযর্থ বরাদ্দ দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মান করা হোক। না হলে এই এলাকা নদীর মধ্যে ভেসে যাবে। তাই দেশ রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশের সীমানা রক্ষায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা জামাতের আমীর হাফেজ মুফতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। পরে কোমরপুর এলাকায় নদীর বাঁধ ভাঙন এলাকার কাজ পরির্দশনে যান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাহাবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, জেলার অন্যতম সদস্য এম আসাদুজ্জামান মুকুল, উপজেলা জামাতের নায়েবী আমীর মহিউদ্দীন মাহমুদ, সখিপুর আলিম মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল আরিফ, উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা এইচ এম ইমদাদুল হক, পারুলিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, সাবেক নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, কুলিয়া ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আনারুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউনিয়ন আমীর আবু ইউসুফ, সখিপুর ইউনিয়ন সেক্রেটারী আফসার আলী, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুব আলম, দেবহাটা ইউনিয়ন আমীর আবুল হোসেন, উপজেলা ইউনিট সদস্য মাসুম খান চৌধুরী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম জানান, আমরা নদীর বাঁধ রক্ষায় জামায়াত ইসলামের প্রায় ৪ শতার্ধীক নেতাকর্মী এ বাঁধ রক্ষায় দেশ ও জাতির কল্যাণে এ কাজে অংশ নিয়েছি। সকলের প্রচেষ্টায়া প্রাথমিক ভাবে বাঁধ রক্ষা হয়েছে। আশা করি এর মাধ্যমে ভাঙনের হাত থেকে আমরা এবারের মত রেহায় পাব।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেয়। নদীর মুল বেঁড়িবাধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আশাঙ্কা দেখা দিলে ঢাকাস্থ দেবহাটা উপজেলা সমিতির প্রচেষ্টায় কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরে এ কাজের সহযোগী হিসাবে কাজ শুরু করে জামায়াত-শিবির, সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন দরদি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের টিম মানবিক পরিবার, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সর্বস্থরের মানুষ এ কাজে অংশ নেন। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্যালাইটিং দিয়ে বাঁধ দেওয়া হলে সেখানে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়। -

বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু
ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ এই বন্যায় এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০ লাখের বেশি মানুষ। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ১১টি জেলার ৬৪টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ফেনী, কুমিল্লা,
চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট।
বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জন মানুষ মারা গেছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফেনীতে ১৯, কুমিল্লায় ১৪, নোয়াখালীতে ৮, চট্টগ্রামে ৬, কক্সবাজারে ৩, খাগড়াছড়িতে ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১ ও মৌলভীবাজারে ১ জন রয়েছেন।
অন্যদিকে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা এখন ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২টি। আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। তিন হাজার ২৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি মানুষএদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে মোট ৫৬৭টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে। সেনাবাহিনী ও জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেখানে সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপনএছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।
বিপদসীমার নিচে সব নদীর পানি: ওদিকে বৃষ্টিপাত কমে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সকালে সংস্থাটির বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত কেবল মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল স্টেশনে ৫৪ মিলিমিটার নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত নেই। বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমর নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের মনু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে এ সময় এই অঞ্চলের মনু, খোয়াই, ফেনী, মুহুরি, গোমতী, তিতাস ইত্যাদি নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই। এ সময় এই অঞ্চলের সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। এদিকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি সমতল উজানে ফারাক্কা পয়েন্টে অপরিবর্তিত আছে (২২ দশমিক ৮২ মিটার) এবং দেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী পাংখা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমেছে (২০ দশমিক ৫১ মিটার)। -

গাজায় তিন দিন যুদ্ধ বন্ধ রাখবে ইসরায়েল: : জাতিসংঘ
গাজায় পোলিওর ভয়াবহ সংক্রমণের ফলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিরতিতে সম্মত হয়েছে তারা। গাজা উপত্যকায় তিন দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ রাখবে ইসরায়েল।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিক পিপারকর্ন বলেন, মধ্য গাজায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী পলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। টিকাদানের এ সময়জুড়ে মানবিক যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে।
ডব্লিউএইচও আরো বলছে, প্রতিদিন গাজার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে অন্তত আট ঘণ্টা যুদ্ধ বন্ধ রাখার লক্ষ্যে চুক্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচওর এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ সময়ে প্রথম দফায় গাজার ছয় লাখ ৪০ হাজার শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়া হবে।
গাজায় পয়োব্যবস্থার অভাব, স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবন্ধকতা ও টিকা সংকটে পোলিওর ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি এটি ইসরায়েলেও ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে গাজায় টিকাদানের জন্য যুদ্ধবিরতি কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
সংগঠনটির নেতা বাসেম নাইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে হামাস আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
-

যারা জীবন দিয়ে জালিম সরকারকে বিতাড়িত করেছে তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জুলুম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। জালেমরা শাসন করছিল। আমরা অনেকেই চেষ্টা করেছি জালেমদের প্রতিহত করার জন্য। দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেও সেটা সফলতায় রূপ দিতে পারি নাই। আমাদের স্কুল কলেজের ছাত্র, মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, রিক্সাওয়ালা ঠেলাগাড়িওয়ালা তাদের জীবন দিয়ে আন্দোলন সফল করেছে এই আন্দোলন সফল করেছে। যারা জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশের জালিম সরকারকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ।
গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরীর উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আমীর মোঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এবং মহানগর আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সামিউল হক ফারুকী ও কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া।
অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তায়াআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দুনিয়ার মত একটি জায়গা আমরা খুব স্বল্প সময়ের জন্য এসেছি। দুনিয়ার যে জীবন, সেই জীবনকে আমরা কাজে লাগিয়ে যেন সফল হতে পারি সেজন্য নবী রাসূল পাঠিয়েছেন, কিতাব পাঠিয়েছেন। যুগে যুগে যত ইসলামী আন্দোলনের নেতারা এসেছেন তারাই জমিনে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে গেছেন। তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ শহীদ আপনাদের এই ময়মনসিংহ অঞ্চলের। আমার কাছে ৬২ জনের একটি তালিকা এসেছে।
এদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিক শ্রেণীর লোকেরাই তাদের জীবন দিয়েছে। যারা ঈমান নিয়ে এই সংগ্রামী আন্দোলনের শরিক হয়েছিলেন সেই সমস্ত শহীদ ভাইদের শাহাদাত আল্লাহ তায়ালা যেন কবুল করেন। যারা জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশের জালিম সরকারকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের ভোটের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, অনেক অধিকার লঙ্গিত হয়েছে। এইসব অধিকার যদি ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে অন্তবর্তী সরকারকে একটু সময় দিতে হবে। তবে তা বেশি দীর্ঘায়িত করা যাবে না।
এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সার্বজনীন চিরসত্য কতগুলো বক্তব্য দিয়েছেন। যারা আল্লাহর পথে জীবন দেয় নিহত হয় তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। আল্লাহর পথে যিনি জীবন দেন শহীদ হন সেই আল্লাহ বলেছেন তোমরা তাকে মৃত বলো না তারা জীবিত। জীবিত সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে দেখতে পায়, শুনে ও রিজিক পায়। আমরা যা দেখি না, সেটা আল্লাহ তায়ালা তুলে ধরেছেন কালামে হাকিমে। সুতরাং আমাদের সন্তানরা যারা এই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, এখন আন্দোলনটা কি? আল্লাহর পথে যারা জীবন দেয়। আল্লাহর পথ হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা। এটা আল্লাহর একটি পথ। দ্বীন কায়েম করা আল্লাহর পথ, ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এটা আল্লাহর পথ। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল অন্যায়, মিথ্যা, জুলুম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি লড়াই। সুতরাং এই লড়াই যারা জীবন দিয়েছেন আমরা আশা করতে পারি আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী এই ব্যক্তিদেরকে শহীদ হিসেবে তিনি কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। এই শহীদদের ব্যাপারে এখন একজন মানুষের বড় সফলতা হলো পরকালীন সফলতা, দুনিয়া কিছুই না। শ্বাস নিঃশ্বাস শেষ দুনিয়ার সব সাঙ্গ হয়ে গেল। আপনার কোটি কোটি টাকা কোন কাজে আসবে না। যারা আজকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে জেলখানায় গেছেন তারা আজকে বুঝছেন ব্যাপারটা কি। একজন বলেছেন, ‘আমাকে ছেড়ে দেন আমি বাংলাদেশটা ঠিক করে দেব’।
তিনি আরো বলেন, কিয়ামুল হাশরের দিন কত মানুষ চিৎকার করে বলবে হে আল্লাহ আমাকে দুনিয়ায় যাবার আরো একবার সুযোগ দাও। আমি আর কোন অপকর্ম করব না ভালো কাজ করে ফিরে আসবো একবার শুধু সুযোগ দাও। কিন্তু তারা সেই সুযোগ পাবে না। ৬০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যারা দেশের বাইরে চলে গেছেন তারা বড়ই যন্ত্রণার মধ্যে আছেন। এরা কোনদিন ভাবে নাই তাদের এই উপদ্রবের জন্য দুনিয়াতেই তাদের বিচার হবে। আল্লাহ তায়াআলা বলেন, দুনিয়ায় তারা লাঞ্ছিত হবে, ঘৃণিত হবে, অপমানিত হবে। তিনি শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সন্তানরা আল্লাহর জন্য জীবন দিয়েছেন। আল্লাহ তায়াআলা তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন, আমীন।
এছাড়াও সভায় কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীরসহ ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
-

মোমবাতির আলোতেই জন্ম নিল শতাধিক শিশু
ফেনী সংবাদদাতা : ভারতীয় পানির চাপে সাম্প্রতিক বন্যায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালের নিচতলা তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় জেলা শহরে একের পর এক হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না বিভিন্ন রোগীর স্বজনরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের ৭টি হাসপাতালকে ডেডিকেটেড ঘোষণা করে চিকিৎসক দিয়ে সরকারি মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাওয়া যায়নি রোগীর খাবার ও প্রয়োজনীয় পথ্য। তবুও জেলার ৩টি সরকারি হাসপাতালে শুধুমাত্র মোমবাতির আলোতেই জন্ম নিল শতাধিক শিশু। যার ৯০ শতাংশই প্রসব হয়েছে স্বাভাবিক ভাবে। যদিও বাথরুম ও পরিচ্ছন্নতার পানিও ছিলোনা হাসপাতালগুলোতে। জেনারেটর রুমে পানি ঢুকে বিকল হয়ে গেছে যন্ত্র। স্বল্প পরিসরে দুজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স দিয়ে কোনো রকম প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা মিলছে না জেলার সর্ববৃহৎ এ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে। একই অবস্থার খবর পাওয়া গেছে বাকি ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকেও। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, ১ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে হাসপাতালের প্রবেশপথ। ভেতরে ঢুকতেই হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দেখা হয়। তারা জানান, বন্যার কারণে গত বুধবার রাতে আকস্মিকভাবে হাসপাতালটির নিচতলা ডুবে যায়।
এ সময় হাসপাতালের আশপাশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও দায়িত্বরত চিকিৎসক-কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের নিচতলায় থাকা নবজাতক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, স্টোর রুম, ডায়ালাইসিস ইউনিট, ডেন্টাল ইউনিটের সরঞ্জামে পানি ঢুকেছে। অবস্থা বেগতিক থাকায় জরুরি বিভাগের কার্যক্রম নিচতলা থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। তারা জানান, জেনারেটর চালু করার কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে পানি ঢুকে সেটিও বিকল হয়ে পড়ে। প্রবল অন্ধকারে সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে ৫দিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। নৌকা ও ট্রলার ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গুরুতর রোগী হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও মেলেনি কোনো চিকিৎসাসেবা। সড়ক ও হাসপাতাল এলাকায় ৫-৬ ফুট পানি থাকায় কর্মস্থলে আসতে পারেননি চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। সরজমিনে আরও দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় নিচতলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের দ্বিতীয় তলায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন দুজন চিকিৎসক ও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। তখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে দুই শতাধিক রোগী। গত দুদিন সড়কে পানি বেশি থাকায় আগত রোগীর সংখ্যা সীমিত ছিল। মঙ্গলবার পানি নেমে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের কোনো মতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শহরের ডেডিকেটেড হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, গত বুধবার থেকে হাসপাতালে আলো জ্বলেনি। বাথরুমে পানি নেই। হাসপাতালে ছিল না কোনো চিকিৎসক। পাওয়া যায়নি সরকারি খাবার ও পথ্য। মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের থেকে পাওয়া শুকনো খাবারে দিন পার করতে হচ্ছে। তবে স্বেচ্ছাসেবকরা মঙ্গলবার শুকনো খাবার, পানি ও মোমবাতি দিয়েছেন রোগীদের।
এমন অবস্থা শুধু ফেনী জেনারেল হাসপাতালেই নয়, একই চিত্র জেলার বাকি ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও।
এই অবস্থার খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এসে গত কয়েকদিন স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন সফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। গত শুক্রবার এ হাসপাতালে আসেন তিনি। দেখেন নতুন বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী আছে। কিন্তু কোনো চিকিৎসক বা নার্স নেই। পুরাতন ভবনে দুজন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সকে দেখেন। জেলার সর্ববৃহৎ হাসপাতালের এমন অবস্থা দেখে সফিকুল এখানে থেকে গেছেন। ও রোগীদের খাবার-পথ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু করেন।
ফরিদুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, গত রোববার তার সন্তানের ডায়রিয়া শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে শহরের আলকেমি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন হাসপাতালে তালা। সেখানকার নিরাপত্তারক্ষাকর্মীরা তাকে জানান, হাসপাতালে বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসক-নার্স নেই। তাই এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পরে সন্তানকে দ্রুত রিকশাযোগে পানি পার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এনে একই অবস্থা দেখেন ফরিদুল। হাসপাতাল থেকে তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। ২ ঘণ্টা পানিতে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সেবা না পাওয়ায় একটি ভ্যানে করে ছেলেকে অন্য হাসপাতালে নেন তিনি।
এমন বিড়ম্বনার শিকার ফরিদের মতো আরও কয়েকজনও হয়েছেন। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই রয়েছে গেছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসিফ ইকবাল বলেন, বন্যায় হাসপাতালটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এরপরও জেলা প্রশাসনের পরামর্শে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শহরের ৭টি প্রাইভেট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করে ওইসব হাসপাতালে সরকারি ৩০ চিকিৎসককে রোস্টার দায়িত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে না এলেও ডেডিকেটেড হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হওয়া রোগীদের সরকারি মূল্যে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ না থাকলেও মোমবাতির আলো দিয়েই বন্যা শুরুর প্রথম দিন থেকে এ পর্যন্ত এ ৪৮ জন প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে।’
এছাড়া জেলার ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার ৫ থেকে ৬ফুট উচ্চতায় পানি উঠে গিয়েছিল। এর পাশে নির্মানাধীন ৬তলা আরেকটি ভবনে বন্যাকবলিত মানুষজন আশ্রয় নিয়েছিলেন।তারপরও বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থার মাঝেও শুধুমাত্র মোমবাতির আলোতেই ২৪ ঘন্টা চালু ছিল জরুরি সেবা।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ মঈনদ্দীন মোর্শেদ জানান,এর মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১৯ অন্তঃসত্ত্বার স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।
অন্যদিকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় জানান, বন্যা পরিস্থিতির ৭দিনে সেখানেও ৪৪ জন নারী সাধারণ প্রসব করেছে। ৪ জনের সিজার লেগেছে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জানান, আমাদের বেশ কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পানির নিচে ছিল।বিচ্ছিন্ন ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ।এরপরও বিকল্প উপায়ে আমারা সেবা দিয়েছি। সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ আসে মঙ্গলবার। তবে থাকছেনা বেশিরভাগ সময়। বুধবার পুরোপুরি জেনারেল হাসপাতাল চত্বর থেকে পানি নামে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন,বিদ্যুৎ না থাকলেও বন্ধ ছিলনা ফেনীর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। জেলার একটি এবং ৬ উপজেলার ৬টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে সেবা চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার প্রথম ৫ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। তবুও মোমবাতির আলোতে চলছে সেবা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমদ বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে চিকিৎসক এনে ফেনীতে থাকা চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ডেডিকেটেড করে জরুরি অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। অচিরেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।
-

স্বৈরাচারের পতনকে চূড়ান্ত বিজয় ভাবার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে চূড়ান্ত বিজয় ভাবার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলার আকাশে এখনও শকুন উড়ছে। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষা এবং সুশাসন ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে আরও বড় ধরনের ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের আরও ত্যাগ শিকার করতে হবে।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সরকার সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। জামায়াতসহ সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে শেষ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল। এ অবস্থায় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাদের কাজ বিগত সরকারের ধ্বংস করা প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। আমরা তাদের সে সময় দিতে প্রস্তুত।
এ সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের আমলে সবার আগে আঘাত এসেছিল বিডিআরের ওপর। সেই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তারা এখনও শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আসেনি। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এরপর হামলা এসেছে জামায়াতে ইসলামীর ওপর। ইসলাম ধর্মের জন্য যারা নির্যাতন সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ আনা হলো। তাদের আটকের পর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে বিচারবিভাগীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হলো। এরপর সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যা করা হলো।’
জামায়াত আমির বলেন, সরকার জামায়াত নিষিদ্ধের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দেইনি। আমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছি ও আল্লাহর সহায়তা চেয়েছি। আল্লাহ আমাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এক মাস আগে যা কল্পনাও করিনি, সেই উপহার তিনি আমাদের দিয়েছেন।
এ সময় ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জামায়াত প্রধান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। তারা এ জাতিকে উদ্ধার করেছেন। এবার নিজেদের গড়তে হবে। তোমাদের প্রতি অনুরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে হবে। এটা তোমাদের শেষ আত্মত্যাগ নয়, এটা মাত্র শুরু। জ্ঞান, দক্ষতা অর্জন ও নিজেরা সৎ হতে হবে। একই সঙ্গে অন্যদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে হবে।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংবাদিকরা ওয়াচ টাওয়ারের মতো। তারা ওপর থেকে সব দেখেন ও জনগণের ভাষা বোঝেন। এ জন্য তাদেরকে জাতির বিবেক বলা হয়। কিন্তু তারা এতদিন মুক্তভাবে কাজ করতে পারেননি। অদৃশ্য ওপরের নির্দেশে তাদের কলম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনটা যেন আর না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকবে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন। আমাদের ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরবেন।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে এবং পরিষদের মহানগরী আহ্বায়ক প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, পেশাজীবীদের মধ্যে অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, সাবেক জাজ অ্যাডভোকেট তাহা মোল্লাহ, কর্নেল (অব.) ডা. জিহাদ খান, ইঞ্জিনিয়ার মিসবাহ উদ্দীন খান, ওবাইদুর রহমান, ড. মুফতি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বাশার, মোহাম্মদ মাসুদ কবির প্রমুখ।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবুল ইহসান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবিদ হাসান সিদ্দীক, মহানগরী প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ডা.আসাদুজ্জামান কাবুল, কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ, অ্যাডভোকেট মাঈনুদ্দীন, শিল্পী আবিদুর রহমান, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
-

একটি মহল স্বৈরাচারের মতো দখলদারিত্ব করছে: চরমোনাই পীর
৫ আগস্টের পরে একটি মহল পতিত স্বৈরাচারের মতো চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ভারতীয় পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ এক ছাত্র সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স ৫৩ বছর চলছে। এতোদিনে যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এরা দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে। ১৫ বছরে রাস্তায় নামলে খুনের ঘটনা ছিলো ঘরে থাকলে ঘুম হতে হতো। এতোদিনে আমরা স্বাধীন দেশে বসবাস করেছি, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে স্বাধীন ছিলাম না। আগামী দিনে এই স্বাধীন বাংলাদেশকে যাতে আমরা পরাধীন না করি। ৫ আগস্টের পরে একটি মহল পতিত স্বৈরাচারের মতো চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব শুরু করেছে।
চরমোনাই পীর বলেন, বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় যে ভূমিকা পালন করেছে, সেজন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যেকে মাঠে দায়িত্ব পালন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি ইসলাম ও স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব বিরোধী কোন পদক্ষেপ নেয় তবে জনগণ তা সহ্য করবে না।
আপনারা ইসলামকে গুরুত্ব দিবেন না, তা হবে না।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি নূরুল বশর আজিজীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল মুনতাসীর আহমাদের পরিচালনায় সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ বক্তব্য রা
-

আশাশুনির বুধহাটায় সাংবাদিকদের সাথে জামায়াতের মতবিনিময়
এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি(সাতক্ষীরা)।।আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় জেলা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা রবিউল বাশারের আগমনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার(৩০আগস্ট)বেলা সাড়ে ১১টায় বুধহাটা করিম সুপার মার্কেটে উক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-জেলা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা রবিউল বাশার। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সোবহান মুকুল, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার,সেক্রেটারি মাওলানা মোশারফ হোসেন, সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম।
অন্যন্যের মধ্যে আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস কে হাসান, বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত ড্যানিস, কোষাধ্যক্ষ বাবুল হোসেন, আবু হাসান চঞ্চল, আবু হেনা, ফরিদুর রহমান ফরিদ, রুহুলামিন হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।