স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধীন চান্দুরিয়া বিওপি ও বাঁকাল চেকপোস্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করে। অভিযানকালে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ও শাড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চান্দুরিয়া বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৭/৭ এস-এর ১৮ আরবির কাছে কলারোয়া থানাধীন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করে। একই দিনে বাঁকাল চেকপোস্টের আভিযানিক দল ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি জানায়, এসব চোরাচালান দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় থেকেও ক্ষতি ঘটাচ্ছে। তাই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে আরও জোরদার কার্যক্রমের আহ্বান জানিয়েছেন।
Category: কলারোয়া
-

কলারোয়ায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি ইজ্জত উল্লাহ
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহকে সংবর্ধনা জানিয়ে কলারোয়ার যুগিখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার গাজনা-ওফাপুর ফুটবল মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাঠটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। যুগিখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আব্দুল মান্নান সানার সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী, জেলা শুরা সদস্য মাওলানা মো. ওমর আলী, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কামারুজ্জামান, নায়েবে আমির মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ এবং সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম আসাদ, জামায়াত নেতা মাওলানা আমানুল্লাহ আমান, নজরুল ইসলাম, ক্বারী রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাস্তবায়ন করা গেলে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গঠন সম্ভব। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও মুসল্লিদের মধ্যে ইফতার পরিবেশন করা হয়।
-

কলারোয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইফতার মাহফিল
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে কলারোয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন করা হয়। উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমাদ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনার বাংলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু, কলারোয়া পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ইউনুস আলী বাবু, কলারোয়া হোমিওপ্যাথিক কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বারিক, পৌরসভা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ, কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন ও কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির। এ ছাড়া ছাত্রনেতা হাসান আল বান্না ও ফুয়াদ আল আবরারসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মশিউল আজম।
-

প্রতিবন্ধী সাইদুরের জন্য জামায়াতের দেওয়া দোকান উদ্বোধন করলেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১ নং জয়নগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের কোমর থেকে শরীরের নিম্নাংশ প্যারালাইজ হওয়া সাইদুর রহমানের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি মুদির ও চায়ের দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত কলারোয়া’র অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় নির্মিত দোকানটি উদ্বোধন করেন তালা–কলারোয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, মানবকল্যাণে সবাই এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় ও দুস্থ পরিবার স্বাবলম্বী হতে পারে। এছাড়া ‘আলোকিত কলারোয়া’র নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং সাইদুরের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা ও জয়নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা কামরুজ্জামান, ইসলামী ব্যাংকের এসপি মো. আবুল হোসেন, ঢাকা কার্যালয়ের মো. আব্দুর রকিব, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ইউনুস আলী, মো. কুরবান আলী, মাওলানা আব্দুর রকিব, মৌলবী একেএম আজিজুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। গ্রামের নারী-পুরুষও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ‘আলোকিত কলারোয়া’র সভাপতি মো. শামসুল আলম।
-

অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম, ৮ ট্রাক্টর জব্দ
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ট্রাক্টরের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিল। পরিবেশ ও রাস্তাঘাট রক্ষায় জিয়াউল ইসলাম শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ইলাহী ও আব্দুল্লাহর ঘের থেকে ট্রাক্টরে করে মাটি নেওয়ার সময় জিয়াউল ইসলাম বাধা দেন। এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মামুনের নেতৃত্বে থাকা ট্রাক্টরচালক হেলাল ও বেলালসহ কয়েকজন শ্রমিক তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখ ও শরীরে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ট্রাক্টরচালক হেলালসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত জিয়াউল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর কলারোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি বহনে ব্যবহৃত ৮টি ট্রাক্টর জব্দ করেছে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৮টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত জনপদ উপহার দিতে চান অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি
মাসুদ রানা, চন্দনপুর: সাতক্ষীরা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেছেন, “মাহে রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতা অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। রমজানের এই পবিত্র শিক্ষাকে ধারণ করে আমরা চন্দনপুরসহ পুরো এলাকাকে একটি আদর্শ ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি স্বচ্ছ সমাজ উপহার দেওয়া।” রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুরস্থ চান্দুড়িয়া বাজারের কে সি জি ঈদগাহ ময়দানে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি আরও বলেন, “সিয়াম সাধনা আমাদের লোভ-লালসা পরিহার করতে শেখায়। একজন মুমিন কখনো অন্যের হক নষ্ট করতে পারে না বা দুর্নীতি করতে পারে না। আমি এমপি হিসেবে আপনাদের আশ্বস্ত করছি—এলাকায় কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা জুলুমবাজের স্থান হবে না। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ, ভয়হীন ও শান্তিময় এক নতুন সাতক্ষীরা আমরা উপহার দেব।” ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আখতার ফারুকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ ওসমান গনী, সূরা সদস্য মাওলানা ওমর আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম, সহকারি সেক্রেটারি মাস্টার আব্দুল গফুর মন্টু, মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, কর্ম পরিষদ সদস্য জাহিদ হাসান মিঠু, মাস্টার আব্দুল করিমসহ স্থানীয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
-

কলারোয়ায় সূর্যমুখী চাষে বাড়ছে সম্ভাবনা, লাভবান কৃষক
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। স্বল্প খরচে কম সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এই চাষে। স্থানীয়দের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে তৈরি হয়েছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও। দিগন্তজুড়ে সবুজ মাঠে হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ এখন কলারোয়ার গ্রামীণ জনপদের নতুন দৃশ্য। গ্রামীণ পথ ধরে এগোলে চোখে পড়ে অসংখ্য সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন। উপজেলার কয়লা, যুগিখালী, মুরারীকাঠি ও কুশোডাঙ্গা গ্রামে এ বছর তুলনামূলক বেশি সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা জানান, এ বছর এসিআই হাইসা-৩৬ (ইন্ডিয়ান) জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৯ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। হামিদপুর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, “এবার সূর্যমুখীর ফলন খুব ভালো হয়েছে।” যুগিখালী গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “এই বীজটি খুব ভালো। ফলন বেশি হওয়ায় আমরা লাভবান হতে পারছি।”
সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক দর্শনার্থীও মাঠে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন। দর্শনার্থীরা জানান, কৃষকের আয়ের পাশাপাশি সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত এখন পর্যটনের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কোলেস্টেরলমুক্ত সূর্যমুখী তেলে প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকায় দেশে এ তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের বীজ থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগ উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক কৃষকের মাঝে সূর্যমুখীর বীজ বিতরণ ও চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, “সূর্যমুখী চাষে তিনবার সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সঠিক পরিচর্যা করলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।”
এ বছর কলারোয়া উপজেলায় প্রায় ২১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। যদিও দেশের সূর্যমুখী তেলের চাহিদার বড় অংশ এখনো আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ও তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ নিলে স্থানীয়ভাবেই দেশের সূর্যমুখী তেলের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। -

রমজান মানুষকে অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত রাখে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
কলারোয়া ব্যুরো: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়ায় পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য ও আল্লাহর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে ধানদিয়া বেগম খালেদা জিয়া কলেজ মাঠে জয়নগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জয়নগর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাষ্টার সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোঃ মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ ওসমান গনী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক আসাদুজ্জামান ফারুকী, মোস্তফা গাউসুল হক, মাষ্টার আব্দুল মজিদ, ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমীর আতিয়ার রহমান সানা ও সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের মাস। এই মাস মানুষকে অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত রেখে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়।” তিনি আরও বলেন, রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা এবং আল্লাহর জমিনে ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক ব্যবস্থা কায়েমের জন্য কাজ করা। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং রমজানের চেতনা ধারণ করে দ্বীনের আদর্শ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইফতার মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
-

ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ দরিদ্রদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
কলারোয়া ব্যুরো: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা-এ দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে ‘যাকাত শীর্ষক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে মরহুম আছির উদ্দিন শায়েদা অডিটোরিয়ামে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। প্রবন্ধে তিনি যাকাত ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সামটা ছিদ্দিক্বীয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “যাকাত কোনো অনুগ্রহ নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন, যা আদায় করা বিত্তবানদের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সিয়াম ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য, আর রমজান মাস হলো তাকওয়া অর্জনের মূল সময়। রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাকওয়াভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে আপোষহীনভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সফল ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে। বিপ্লব সফল হলে রাষ্ট্রের কাছে যাকাত আদায় ও বণ্টনের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে এবং সরকারিভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তা পরিচালিত হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ব্যবস্থা কায়েম না থাকায় দলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে যাকাত আদায় ও বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কুরআনে নির্ধারিত আটটি খাত বিবেচনায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যাকাত বণ্টন করা হচ্ছে। সাহেবে নিসাব ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এসময় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ ওসমান গনী, শূরা সদস্য মাওলানা মোঃ ওমর আলী, খুলনা বিএল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রভাষক হাফিজুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ রুহুল কুদ্দুস। সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
-

প্রশাসনের ‘দফা-রফায়’ ১২০ মণ নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রি!
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রশাসনের ‘দফা-রফায়’ ১২০ মণ নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ পাচারের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ১ ট্রাক ভর্তি নিষিদ্ধ মাছসহ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে আটকের পর নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জব্দ করা মাছগুলো নিধনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেগুলো নিধনের বদলে বাজারে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত সোমবার (২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজার নেতৃত্বে একটি দল কলারোয়া পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে ১২০ মণ আফ্রিকান মাগুরসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। আটক করা হয় অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ও হেলাতলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলামকে (মাগুর আনার)। এদিকে, আটকের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মাছ ভর্তি ট্রাকটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্তকে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আদালত থেকে মাছগুলো তাৎক্ষণিক নিধনের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিফলন ঘটেনি। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজার মূল্যের এই মাছগুলো কতিপয় অসাধু ব্যক্তির মধ্যস্থতায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ওই মাছগুলো ঢাকাতে চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের প্রবণতা দেখা গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার বলেন, আমি মাছ নিধনের আদেশ দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলাম (মামলা নং ১-২০২৬)। মাছ কোথায় বা কীভাবে নষ্ট করা হয়েছে তা আমি জানি না। তবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি মাছ নিধনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজা বলেন, আমার কাজ ছিল অপরাধীকে হাজির করা, আমি তা করেছি। মাছ জব্দ, অভিযুক্তকে শাস্তি ও মাছ ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার আমার না, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের। বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাছ ও পরিবহন জব্দ করার পর তা ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের ওপর বর্তায়। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম এর আগেও দুইবার নিষিদ্ধ মাগুরসহ ধরা পড়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন। বারবার ছাড় পেয়ে যাওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিষিদ্ধ এই মাছগুলো মানব শরীর, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হওয়া সত্ত্বেও খোদ প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকা কলারোয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
