Author: news_admin

  • তেল সংকটে আশঙ্কায় সাতক্ষীরাসহ দেশের পাম্পে দীর্ঘলাইন

    তেল সংকটে আশঙ্কায় সাতক্ষীরাসহ দেশের পাম্পে দীর্ঘলাইন

    স্টাফ রিপোর্টার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে সরাসরি প্রভাব পড়েনি, সরকারি নির্দেশনায় তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার প্রচলিত হয়েছে। এরপরেও, সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় তেলের সংকটের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও যানজট দেখা গেছে।
    স্থানীয়রা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়া এবং ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার পাম্পগুলোর রিজার্ভ সীমিত। এরফলে অনেক ক্রেতা ট্যাঙ্ক ফুল করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
    পাম্প কর্তৃপক্ষ জানান, জ¦ালানী তেলের কোন সংসক নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও গ্রাহকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা মতো তেল সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
    মেসার্স এবি খান ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী জানান, “বেশিরভাগ ক্রেতাই ট্যাঙ্ক ফুল করতে চাচ্ছে। দাম বাড়তে পারে বা পরে যদি না পায়, তাই সবাই তেল নিচ্ছে।” পাম্পের অন্য কর্মীরা বলেন, “একটি বাইকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। কারণ কেউ পরিচিত হলে বেশি দিতে হবে, আর অন্যকে কম দেওয়া হলে ঝামেলা শুরু হবে। তাই সবাই সমান তেল গ্রহন করুক।” একই পাম্পে অকটেনের জন্য অপেক্ষমান এসএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সাধারণত প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যায় না। ক্রাইসিসের ভয়ে আজ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে।”
    পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রিজার্ভ প্রায় শেষের দিকে। তাই খোলা ড্রাম বা বোতলে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যানবাহনভিত্তিক ক্রেতাদের।

  • সব ধরনের অন্যায় ও জুলুম থেকে মুক্ত থাকার অনুপ্রেরণা যোগায় রমাদান: এমপি আব্দুল খালেক

    সব ধরনের অন্যায় ও জুলুম থেকে মুক্ত থাকার অনুপ্রেরণা যোগায় রমাদান: এমপি আব্দুল খালেক

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের নিয়ে গণইফতার আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহষ্পতিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের মেডিকেল শাখা শিবিরের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাব্বির আহমেদ সাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক শাহজালাল সাকিবের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা.কাজী আরিফ আহম্মদে, ডা. গাজী নাসিরউদ্দীন. ডা.ফরহাদ জামিল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহি, শহর সভাপতি মেহেদী হোসেন, জেলা সভাপতি জোবায়ের হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের একটি শাখা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কলেজ শাখা। পবিত্র রমজান উপলক্ষে এই প্রথম বারেরমত গণইফতার আয়োজন করে সংগঠনটি। প্রধান অতিথি এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, রমজান কেবল উপবাস নয়, বরং তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের সুযোগ। তিনি বলেন পবিত্র মাস সমাজের সব ধরনের অন্যায় ও জুলুম থেকে মুক্ত থাকার অনুপ্রেরণা যোগায়। আসুন আমরা রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি মাসগুলো অতিবাহিত করি। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহি বলেন, জাতীয় রাজনীতি যাইহোক ক্যাম্পাসগুলোতে আমরা কেনো বিভাজনের রাজনীতি করব না, আমরা সবাই মিলেমিশে রমজানের তাকওয়ায় বলিয়ান হয়ে স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ে তুলবো।

  • দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ‘যাকাত শীর্ষক সেমিনার ও ইফতার মাহফিল-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ২টায় তালা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপজেলা আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা কবিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং জেলা নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মালেক, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা মাছুম বিল্লাহসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ইসলামের একটি বিধান মানা আর অন্যটি উপেক্ষা করা ইসলামের শিক্ষা নয়। দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী জীবনব্যবস্থা ও কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, যাকাত বিত্তশালীদের জন্য ফরজ ইবাদত। যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি তা আদায় না করেন, তবে তাদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করতে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দলীয় কর্মীদের বিত্তশালীদের কাছ থেকে যাকাত ও ফিতরা সংগ্রহ করে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের আহ্বান জানান তিনি। বক্তারা বলেন, যাকাত শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; এটি সামাজিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পবিত্র রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। সেমিনার শেষে উপস্থিত সকলের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ তালা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি তালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাঝিয়াড়া এলাকায় পথসভা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে ইসলামকাটী সুজনশাহা ফুটবল মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

  • রূপসায় কার্বন কোম্পানির বিষাক্ত ধোয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৮ গ্রামের মানুষ

    রূপসায় কার্বন কোম্পানির বিষাক্ত ধোয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৮ গ্রামের মানুষ

    খুলনা ব্যুরো: প্রতিনিয়ত কুণ্ডলি পাঁকানো কালো বিষাক্ত ধোয়ায় আচ্ছন্ন হচ্ছে খুলনা জেলার রূপসার ৮ গ্রামসহ বিশাল পদ্ধবিলের ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘের। জনজীবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের। গত দুই দশক ধরে কৃষি, মৎস্য ও জনজীবনের ওপর চলছে এই নীরব দুর্যোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মিমকো কার্বন কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি কারখানার কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই বদলে গেছে পদ্মবিলসহ এ জনপদের চিত্র। ২০১৩ সালে জামালপুরের ইউসুফ মোল্লা পদ্মবিলের পাশে তিলক গ্রামে ৪৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন মিমকো কার্বন কোম্পানি। ওই বছরের মার্চ মাসে এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। ঋণ খেলাপির দায়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে পরবর্তীতে বেসিক ব্যাংক থেকে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন ওই এলাকার শাহজাহান শিকারি ও তার ভাতিজা মাসুম বিল্লাহ শিকারি। ওই কোম্পানিতে ৪২টি চুলায় পাটকাঠি পুড়িয়ে কালি তৈরি করা হচ্ছে। আরও ১৮টি চুলা নির্মাণাধীন রয়েছে। এখানকার কালি রফতানি করা হয় চীনে। কিন্তু কালি তৈরি করতে গিয়ে পাটকাঠি পোড়ানোর কারণে কালো ধোয়ায় ঢেকে যাচ্ছে পদ্মবিল। এই ধোয়া বিস্তার লাভ করে তিলক, আমদাবাদ, মাছুয়াডাঙ্গা, নৈহাটী, দেবীপুর, সামন্তসেনা, পাথরঘাটা, গদাইখালি গ্রামে। এখান থেকে যে নির্গমন ধোঁয়া আধুনিক যন্ত্রপাতি বা ফিল্টার করার কেন ব্যবস্থা নেই। রূপসা পদ্মবিলের আয়তন প্রায় ১৪০ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ১১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। একসময় এই বিল থেকেই রূপসা উপজেলার কৃষি ও মৎস্যপণ্যের বড় অংশের জোগান আসত। কিন্তু এখন কার্বন কোম্পানির ধোয়ায় ফলন কমে যাওয়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় অর্ধশতাধিক চুল্লি থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে আশপাশের কৃষিজমি, মাছের ঘের ও বসতভিটা। কারখানাটি উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে, সম্পূর্ণ কৃষিপ্রধান এলাকায় অবস্থিত। এক কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত দশটির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেও তারা কোনো সমাধান পাননি। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর। তিলক গ্রামের মরিয়ম বলেন- ‘হাঁপানি, কাশি ও হার্টের রোগীরা এই বিষাক্ত ধোয়ায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যে রয়েছে। শিশুরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সন্ধ্যা হলে ওনারা ধোঁয়া ছেড়ে দেয়, সব চুলা জ¦ালিয়ে দেয়। কাশতে কাশতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে যায়।’ স্থানীয় কৃষক গফফার শেখ বলেন- ‘কার্বন ফ্যাক্টরির কারণে আমাদের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আগের মত ফলন পাচ্ছিনা। ধানগাছ মারা যাচ্ছে। টমেটো ও লাউসহ অন্যান্য ফলন কমে গেছে। ফুলগুলো ঝরে যাচ্ছে শুধু ওই ধোঁয়ার কালির কারণে। এই ছাই ঘেরেও পড়ে যে কারণে মাছ অক্সিজেন পায় না এবং বড়ো হতে পারেনা।’ কৃষক জুলফিকার আলী বলেন- ‘ধানের বাইল বের হওয়ার সময় ফুলগুলো ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এলাকায় কেউ সুস্থ নেই, সব সর্দি-কাশি, জ্বর ও অ্যাজমায় ভুগছে। এই কোম্পানি অবৈধভাবে প্রশাসনকে অর্থ দিয়ে চালিয়ে আসছে।’ কৃষক আব্দুল বারিক বলেন- ‘মন্নুজান এসে উদ্বোধন করে গেলেন, কাগজপত্র নেই, তাহলে কীভাবে উদ্বোধন করলেন? আমরা গরিব মানুষ, আমাদেরই ভোগ করতে হচ্ছে।’ কৃষক মো. হাবিবুল্লাহ হাওলাদার বলেন- ‘কার্বনের ছাইয়ের কারণে পানির ওপর আবরণ পড়ে গেছে। আমরা মাছ চাষ করতে পারছি না। সব কালো হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যায় এমন ধোঁয়া আসে থাকা যায় না। আমরা আন্দোলন করেছি, কিন্তু ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।’
    গৃহিণী সাজেদা বেগম বলেন- ‘ধোঁয়ায় খুব সমস্যা। রাতে ঘুমাতে পারি না। সব দিক থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত।’ দিনমজুর রমেশ বলেন- ‘ধানের ফলন, গাছের ফলন সব কমে গেছে। বিশ্রী গন্ধে অধিকাংশ মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছে।’ আমদাবাদ এলাকার শিক্ষক শাহজাহান বলেন- ‘স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও লোকালয়ের পাশে এ ধরনের কারখানা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন করেছি, কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি।’
    কারখানার নিকটে অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস কওমি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ ছানি বলেন- ‘কারখানার ধোঁয়া আমাদের হেফজখানা, কেরাতখানা, জামাতখানা সব জায়গায় ঢুকে পড়ে।’ কেরাত বিভাগের ছাত্র সাজিদ বলেন- ‘মাঝে মাঝে ধোঁয়ার পরিমাণ এত বেড়ে যায় যে সবাই কষ্ট পায়, কাশতে থাকে।’ মিমকো কার্বন ফ্যাক্টরির শেয়ার হোল্ডার মাসুম বিল্লাহ শিকারি বলেন- ‘এই ফ্যাক্টরির আদলে সারা দেশে ৫০টির ও বেশি ফ্যাক্টরি হচ্ছে। আমরাই প্রথম শুরু করি। এটা বাংলাদেশের কোনো প্রোডাক্ট না। এখান থেকে সম্পূর্ণটা চায়নায় রফতানি করা হয়। ধোয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘চিমনিতে কানেকশন দিলে আগুনের সমস্যা হয়। তাই চুল্লির মুখ খুলে জ¦ালানো হয়। এটা ফাঁকা জায়গা তাই পরিবেশের ক্ষতি হয় না। বিশেষ করে আশেপাশের যত গাছগাছালি ও ধানের কোন ধরনের ক্ষতি বা সমস্যা নেই।’ রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার তরুণ কুমার বালা বলেন, ‘অতিরিক্ত ধোঁয়া ও ফ্লাই অ্যাশের কারণে পলিনেশনে সমস্যা হচ্ছে, উপকারী পোকামাকড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার অভিযোগ করছেন।’ পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা জেলার সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ সালে ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তীতে পরিবেশগত শর্ত পূরণ না করায় পরবর্তীতে নবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জমশেদ খোন্দকার বলেন, ‘উপযুক্ত ফিল্টারিং ব্যবস্থা না থাকলে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষণ ঘটাতে পারে এবং মৎস্য, কৃষি উৎপাদনসহ জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্যারামিটারটি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

  • সাতক্ষীরায় টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ

    সাতক্ষীরায় টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র রমজান মাসে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিতরণকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলা-র বিভিন্ন টিসিবি ডিলারের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। ইফতারের ঠিক আগে বা আজানের পূর্বমুহূর্তে পণ্য বিতরণ করায় ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখা দেয়। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরছেন।
    টিসিবি ট্রাকে সীমিত পরিমাণে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। পাঁচ ধরনের পণ্য সমন্বয়ে একটি প্যাকেজের মূল্য ৫৯০ টাকা, যা বাজারদরের তুলনায় কম। এই সাশ্রয়ের জন্য মানুষ রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা পণ্য সঠিক সময়ে বিতরণ না করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। শহরের কয়েকজন ডিলার গ্রাহকদের নম্বরযুক্ত কার্ড দিয়েছেন, যার ফটোকপি ডিলারের কাছে সংরক্ষিত থাকে। অভিযোগ রয়েছে, যারা নির্ধারিত দিনে পণ্য নিতে আসেন না, তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য অন্যত্র বিক্রি করা হয়। এছাড়া কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে পণ্য দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কিছু ডিলারের কাছে গ্রাহকদের কার্ডের স্ক্যানকপি কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংরক্ষিত থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কপি ব্যবহার করে অনুপস্থিত গ্রাহকদের পণ্য অন্যত্র বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। রাশিদা খাতুন নামে এক নারী জানান, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি পণ্য পাননি। পণ্য কম থাকায় সবাই দ্রুত নিতে চাওয়ায় হুড়োহুড়ি পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ। মো. বায়েজীদ হাসান অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে টিসিবি পণ্য পরে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিকাল ৫টার পর পণ্য বিতরণ শুরু হলেও অধিকাংশ মানুষ তা সংগ্রহ করতে পারছেন না। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিসিবি ডিলার শেখ সাদিকুর রহমান বলেন, মূল স্মার্ট কার্ড স্ক্যান ছাড়া কাউকে পণ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। যে কার্ড স্ক্যান হয় না, সেই পণ্য জমা রাখা হয় এবং পরবর্তী মাসে ওই পরিমাণ পণ্য কম বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়েই পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, বিষয়টি জানা হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ৬ মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন যুবকদের মাঝে সনদ বিতরণ

    ৬ মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন যুবকদের মাঝে সনদ বিতরণ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় ৬ মাস মেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ৮০ জন যুবকের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ডিজিটাল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। অনুষ্ঠানটি কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) বাস্তবায়িত, নেদারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা কার্ক ইন এক্টি-এর অর্থায়নে এবং খ্রীষ্টিয়ান প্রটেকশন প্রকল্প-এর তৃতীয় বর্ষের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ পার্থ প্রতিম সেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম আজিজুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। বক্তারা বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সমাজে দিন দিন বেকারত্ব বাড়ছে, তাই দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হবে। শেখার পাশাপাশি নিজেকে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে ওয়াল্টন ও সিঙ্গার বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন বলে জানান। এসময় প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার একরামুল কবীর, হিসাবরক্ষণ অফিসার রিচার্ড অধিকারী, ফিল্ড অর্গানাইজার রিপন বারৈ, সুদীপ্ত বিশ্বাস ও সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সমাজের সকল শ্রেণির সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রকল্পটি সদর ও কলারোয়া উপজেলা-র দরিদ্র বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করে আসছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের প্রশিক্ষণার্থীরাও ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৃতীয় বর্ষের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

  • অবৈধ বালু উত্তোলনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

    অবৈধ বালু উত্তোলনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

    আবু সুফিয়ান: সাতক্ষীরা জেলার গাবুরা ইউনিয়ন-এর লেবুবুনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাশেদ হোসাইন এবং শ্যামনগর থানা-র অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় একটি বালু উত্তোলনকারী কার্গো ও একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত ৬ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় কয়রা উপজেলার বাসিন্দা বাবু পিং সিরাজুল ইসলাম-কে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাশেদ হোসাইন জানান, বৈধ বালুমহাল ছাড়া অন্য যে কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শ্যামনগর উপজেলায় বর্তমানে কোনো ইজারাকৃত বৈধ বালুমহাল নেই। তাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁদে পড়ল

    যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁদে পড়ল

    ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে, তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আনা। কাগজে-কলমে এই লক্ষ্য হয়তো এখনো আছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে আসা সাম্প্রতিক বার্তাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগের অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে এসে তাদের এখন নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। মাঠের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থায় ধস নামানোর জন্য যে ধরনের জনরোষ বা অস্থিরতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। উল্টো চার দিনের মাথায় যুদ্ধ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়ার বদলে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাও বেশ স্থিতিশীলই আছে। শুধু তা–ই নয়, শত্রুপক্ষের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা আঘাতও হেনে যাচ্ছে দেশটি। এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আগের হিসাব নতুন করে মেলাতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তেহরানের আলোচনার প্রস্তাব মানার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের আগের সব অনুমান এখন প্রশ্নের মুখে। আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানও আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না। এদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় একদমই সাড়া দিচ্ছে না ইরান। পাশাপাশি যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা আছে, তাদেরও প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে দেশটি। বিষয়টি নিছক জেদ বা আদর্শিক অনমনীয়তা নয়, এটি তেহরানের একটি সুচিন্তিত রণকৌশলেরই প্রতিফলন। তেহরান মনে করছে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি শত্রুপক্ষকে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেবে। ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। দুটি বাস্তবমুখী পরিস্থিতি এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। প্রথমত, খোদ মার্কিন প্রশাসনই স্বীকার করেছে যে এই যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী বা সীমিত না-ও হতে পারে। পেন্টাগনে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, ‘অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে বলেছেন, ‘এটি ইরাক নয়, এটি অন্তহীন কোনো যুদ্ধও নয়।’ তবে একটি ‘অন্তহীন’ পরিস্থিতির সম্ভাবনা অস্বীকার করার এ প্রবণতাই প্রমাণ করে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিষয়টি এখন জন-আলোচনার অংশে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কণ্ঠেও একই সুর। এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেই যৌথ প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে, যার মাধ্যমে তারা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করতে চায়। কারণ, তাদের অভিযানের প্রাথমিক সেই ‘শক অ্যান্ড অউ’ (আকস্মিক ও প্রচণ্ড আঘাত) পর্যায়টি প্রত্যাশিত কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তা ছাড়া ইসরায়েল যে ইরানে হামলা চালাবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চড়াও হবে’—মার্কিন প্রশাসন তা আগে থেকেই জানত বলে স্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই স্বীকারোক্তির পর তিনি অভিযানের পরিধি কমানোর বদলে বরং এর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত করেছেন। রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, আমরা ঠিক ততটুকুই করব।’
    ইরানে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন’ বা শাসন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে হেগসেথ যে মন্তব্য করেছিলেন, রুবিওর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ সেই একই বিষয়কে সামনে আনছে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রাথমিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। কৌশলগত সাফল্যের ফুলঝুরি কিংবা যুদ্ধের গতি বজায় রাখতে ক্ষয়ক্ষতির অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান প্রচার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতির এই বিশাল ব্যবধান নতুন কোনো প্রস্থানের পথ খোঁজার চাপ তৈরি করেছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে।
    এই পটভূমিতে ইরানের বিরোধী পক্ষ এবং কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। রুবিও যখন বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে স্থল অভিযানের অবস্থানে নেই। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে বিকল্প রয়েছে। তিনি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না,’ তখন এটিই ইঙ্গিত দেয় যে শুরুর দিকের কৌশলগত ঘাটতি পুষিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ঝুঁকি নিতে এবং সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে।
    এ কাঠামোটি যেমন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব-নিকাশের ফসল, তেমনি এটি ইরানের নিজস্ব কৌশলগত পরিবর্তনেরও ফলাফল।
    ইসরায়েলের ওপর মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরিবর্তে ইরান এখন তাদের রক্ষণব্যূহকে ক্লান্ত করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের এই কৌশল যেমন অভাবিত ছিল, তেমনি চমকপ্রদ ছিল খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো সেই শুরুর দিককার ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের হামলাটিও। ইরানের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তেহরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরাসরি সমর্থন থাকায় কেবল ইসরায়েলের ওপর ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফাটল ধরানো সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে, তারা এখন এমন এক কৌশল বেছে নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।
    তবে এই রণকৌশল তেহরানের জন্যও বেশ কিছু বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। খবর পাওয়া গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ করছেন। দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অকপটে বলেন, ‘হামলার প্রথম ধাক্কার পর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আঞ্চলিক সামরিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মূল কেন্দ্রের সংযোগ তখন ভেঙে পড়েছিল।’
    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকে ব্রিফিং পাওয়া ইউনিটগুলো নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিল। দ্বিতীয় দিন সকালের মধ্যে আবার সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং আমরা তার ফল পেতে শুরু করি। তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যে এখনো বেশ কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’ ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, ‘বহুস্তরীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে এই অঞ্চলে কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের নেতাকে হারিয়ে সবচেয়ে বড় মূল্যটি চুকিয়েছি; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের মূল্য দিতে হবে আরও অনেক বেশি। তাদের লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। তবে তারা যে সামরিক সম্পদগুলোকে অবজ্ঞা করেছিল বা খেয়াল করেনি, সেগুলো দিয়েই আমরা অন্তত আরও দুই মাস এই মাত্রার প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারব। আমাদের মজুত এবং পরিকল্পনা এখনো অটুট।’
    প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দিতে শুরু করে। যদিও ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর বাগাড়ম্বর একেবারে উবে যায়নি, তবে এর ওপর আগের সেই জোর এখন অনেকটাই স্তিমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
    এই সহ্যক্ষমতার পরীক্ষার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের উপর্যুপরি হামলা ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি পরিচালনা করছে, তারা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
    ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কিছু নির্দিষ্ট মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তারা জরুরি সহায়তা চেয়েছে।
    ইরান এই সংঘাতকে কেবল ইসরায়েল-ইরান অক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের স্থায়িত্বের পরীক্ষা নিচ্ছে।
    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সাম্প্রতিক আলোচনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর বেরিয়েছে, আমিরাত জানিয়েছে যে তারা ক্ষুব্ধ, কারণ ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করা সত্ত্বেও তাদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। পুতিন আমিরাতের এই অসন্তোষের বার্তাটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
    এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তেহরান এই কঠোর বার্তা দিচ্ছে, ইরান যদি যুদ্ধের এই পর্যায়টি পার করে দিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে তারা ওই দেশগুলোর ওপর আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
    ইরানের এই নতুন রণকৌশল মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভিতকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে এটি ইউরোপের কাছে ওয়াশিংটনের সেই চিরচেনা বার্তাটিকেও জটিল করে তুলছে, যেখানে তারা দাবি করে আসছিল যে বৈশ্বিক নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি অপরিহার্য।
    ইরানের ‘যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়া’ কৌশলের সবচেয়ে বিপজ্জনক হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে জ্বালানি খাত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে- ইরানের এমন হুমকিতে বিশ্ববাজার ও বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে।
    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখা একটি বড় অগ্রাধিকার। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনের সেই অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। তেহরানের রণকৌশলটি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা—যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত থাকলেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং নৌ-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়ে তারা ওয়াশিংটনের ওপর এক বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়।
    যুদ্ধের এই ব্যয় যত বাড়বে, আলোচনার টেবিলে ইরানের দর–কষাকষির সক্ষমতাও ততটাই শক্তিশালী হবে; যদি সংঘাতটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত কোনো গোষ্ঠী সংঘাতের দিকে মোড় না নেয়।