ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে, তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আনা। কাগজে-কলমে এই লক্ষ্য হয়তো এখনো আছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে আসা সাম্প্রতিক বার্তাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগের অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে এসে তাদের এখন নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। মাঠের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থায় ধস নামানোর জন্য যে ধরনের জনরোষ বা অস্থিরতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। উল্টো চার দিনের মাথায় যুদ্ধ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়ার বদলে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাও বেশ স্থিতিশীলই আছে। শুধু তা–ই নয়, শত্রুপক্ষের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা আঘাতও হেনে যাচ্ছে দেশটি। এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আগের হিসাব নতুন করে মেলাতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তেহরানের আলোচনার প্রস্তাব মানার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের আগের সব অনুমান এখন প্রশ্নের মুখে। আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানও আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না। এদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় একদমই সাড়া দিচ্ছে না ইরান। পাশাপাশি যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা আছে, তাদেরও প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে দেশটি। বিষয়টি নিছক জেদ বা আদর্শিক অনমনীয়তা নয়, এটি তেহরানের একটি সুচিন্তিত রণকৌশলেরই প্রতিফলন। তেহরান মনে করছে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি শত্রুপক্ষকে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেবে। ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। দুটি বাস্তবমুখী পরিস্থিতি এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। প্রথমত, খোদ মার্কিন প্রশাসনই স্বীকার করেছে যে এই যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী বা সীমিত না-ও হতে পারে। পেন্টাগনে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, ‘অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে বলেছেন, ‘এটি ইরাক নয়, এটি অন্তহীন কোনো যুদ্ধও নয়।’ তবে একটি ‘অন্তহীন’ পরিস্থিতির সম্ভাবনা অস্বীকার করার এ প্রবণতাই প্রমাণ করে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিষয়টি এখন জন-আলোচনার অংশে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কণ্ঠেও একই সুর। এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেই যৌথ প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে, যার মাধ্যমে তারা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করতে চায়। কারণ, তাদের অভিযানের প্রাথমিক সেই ‘শক অ্যান্ড অউ’ (আকস্মিক ও প্রচণ্ড আঘাত) পর্যায়টি প্রত্যাশিত কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তা ছাড়া ইসরায়েল যে ইরানে হামলা চালাবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চড়াও হবে’—মার্কিন প্রশাসন তা আগে থেকেই জানত বলে স্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই স্বীকারোক্তির পর তিনি অভিযানের পরিধি কমানোর বদলে বরং এর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত করেছেন। রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, আমরা ঠিক ততটুকুই করব।’
ইরানে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন’ বা শাসন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে হেগসেথ যে মন্তব্য করেছিলেন, রুবিওর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ সেই একই বিষয়কে সামনে আনছে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রাথমিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। কৌশলগত সাফল্যের ফুলঝুরি কিংবা যুদ্ধের গতি বজায় রাখতে ক্ষয়ক্ষতির অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান প্রচার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতির এই বিশাল ব্যবধান নতুন কোনো প্রস্থানের পথ খোঁজার চাপ তৈরি করেছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে।
এই পটভূমিতে ইরানের বিরোধী পক্ষ এবং কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। রুবিও যখন বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে স্থল অভিযানের অবস্থানে নেই। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে বিকল্প রয়েছে। তিনি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না,’ তখন এটিই ইঙ্গিত দেয় যে শুরুর দিকের কৌশলগত ঘাটতি পুষিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ঝুঁকি নিতে এবং সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে।
এ কাঠামোটি যেমন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব-নিকাশের ফসল, তেমনি এটি ইরানের নিজস্ব কৌশলগত পরিবর্তনেরও ফলাফল।
ইসরায়েলের ওপর মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরিবর্তে ইরান এখন তাদের রক্ষণব্যূহকে ক্লান্ত করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের এই কৌশল যেমন অভাবিত ছিল, তেমনি চমকপ্রদ ছিল খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো সেই শুরুর দিককার ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের হামলাটিও। ইরানের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তেহরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরাসরি সমর্থন থাকায় কেবল ইসরায়েলের ওপর ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফাটল ধরানো সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে, তারা এখন এমন এক কৌশল বেছে নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।
তবে এই রণকৌশল তেহরানের জন্যও বেশ কিছু বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। খবর পাওয়া গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ করছেন। দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অকপটে বলেন, ‘হামলার প্রথম ধাক্কার পর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আঞ্চলিক সামরিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মূল কেন্দ্রের সংযোগ তখন ভেঙে পড়েছিল।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকে ব্রিফিং পাওয়া ইউনিটগুলো নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিল। দ্বিতীয় দিন সকালের মধ্যে আবার সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং আমরা তার ফল পেতে শুরু করি। তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যে এখনো বেশ কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’ ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, ‘বহুস্তরীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে এই অঞ্চলে কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের নেতাকে হারিয়ে সবচেয়ে বড় মূল্যটি চুকিয়েছি; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের মূল্য দিতে হবে আরও অনেক বেশি। তাদের লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। তবে তারা যে সামরিক সম্পদগুলোকে অবজ্ঞা করেছিল বা খেয়াল করেনি, সেগুলো দিয়েই আমরা অন্তত আরও দুই মাস এই মাত্রার প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারব। আমাদের মজুত এবং পরিকল্পনা এখনো অটুট।’
প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দিতে শুরু করে। যদিও ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর বাগাড়ম্বর একেবারে উবে যায়নি, তবে এর ওপর আগের সেই জোর এখন অনেকটাই স্তিমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
এই সহ্যক্ষমতার পরীক্ষার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের উপর্যুপরি হামলা ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি পরিচালনা করছে, তারা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কিছু নির্দিষ্ট মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তারা জরুরি সহায়তা চেয়েছে।
ইরান এই সংঘাতকে কেবল ইসরায়েল-ইরান অক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের স্থায়িত্বের পরীক্ষা নিচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সাম্প্রতিক আলোচনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর বেরিয়েছে, আমিরাত জানিয়েছে যে তারা ক্ষুব্ধ, কারণ ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করা সত্ত্বেও তাদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। পুতিন আমিরাতের এই অসন্তোষের বার্তাটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তেহরান এই কঠোর বার্তা দিচ্ছে, ইরান যদি যুদ্ধের এই পর্যায়টি পার করে দিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে তারা ওই দেশগুলোর ওপর আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ইরানের এই নতুন রণকৌশল মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভিতকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে এটি ইউরোপের কাছে ওয়াশিংটনের সেই চিরচেনা বার্তাটিকেও জটিল করে তুলছে, যেখানে তারা দাবি করে আসছিল যে বৈশ্বিক নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি অপরিহার্য।
ইরানের ‘যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়া’ কৌশলের সবচেয়ে বিপজ্জনক হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে জ্বালানি খাত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে- ইরানের এমন হুমকিতে বিশ্ববাজার ও বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখা একটি বড় অগ্রাধিকার। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনের সেই অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। তেহরানের রণকৌশলটি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা—যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত থাকলেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং নৌ-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়ে তারা ওয়াশিংটনের ওপর এক বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়।
যুদ্ধের এই ব্যয় যত বাড়বে, আলোচনার টেবিলে ইরানের দর–কষাকষির সক্ষমতাও ততটাই শক্তিশালী হবে; যদি সংঘাতটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত কোনো গোষ্ঠী সংঘাতের দিকে মোড় না নেয়।
Blog
-

যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁদে পড়ল
-

শ্যামনগরে মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ
হুসাইন বিন আফতাব: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নূরনগর ইউনিয়ন-এ অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নূরনগর মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫০টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আল মামুন-এর সভাপতিত্বে প্রতিটি পরিবারের হাতে ছোলা, চিঁড়া, চিনি, সেমাই, সুজি (১ প্যাকেট), টোস্ট, খেজুর, মুড়ি (১ প্যাকেট) ও আলু উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন (লাচ্ছু)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জিএম মনিরুজ্জামান এবং নূরনগর ক্যাটারিং সার্ভিস-এর পরিচালক মোঃ ফারুক হোসেন। এছাড়াও ফাউন্ডেশনের সদস্য শুভ সাহা, আরাফাত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেখ আল মামুন বলেন, রমজান মাসে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আজ ৫০টি পরিবারের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। পুরো রমজান মাসজুড়েই আমাদের এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যারা অনুদান ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
-

রমজান জীবন গঠনের সময়: এমপি আব্দুল খালেক
দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম হলো কুরআনুল কারিম। পবিত্র রমজান মাসেই মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ কুরআন নাজিল করেছেন। কোন কাজ করা যাবে আর কোনটা করা যাবে না- তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আল কুরআনে রয়েছে। হালাল ও হারামের পার্থক্যও নির্ধারণ করে দিয়েছে এই মহাগ্রন্থ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে কুরআনুল কারিমকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করা গেলে প্রকৃত সম্মান প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই রমজানের মর্যাদা বজায় রেখে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র দেবহাটা সদর ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত-এর সহকারী সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, দেবহাটা উপজেলা জামায়াত-এর আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম ও সেক্রেটারি এইচ.এম. ইমদাদুল হক। এছাড়াও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলওয়ার হোসেন, দেবহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তালেব বুলবুল, দেবহাটা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু সাঈদ গাজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
-

জনপদের উন্নয়ন ও ইনসাফ কায়েমে আপনাদের পাশে থাকবো: এমপি রবিউল বাশার
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নে সাতক্ষীরা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশারকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বুধবার (৩ মার্চ) অনুষ্ঠানে শেখপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রামনগর বাজার ফুটবল মাঠ এবং দক্ষিণ দরগাহপুর ৯নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দিনশেষে খড়িয়াটি কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশাল সংবর্ধনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা পরবর্তী আলোচনা সভায় এমপি রবিউল বাশার বলেন, “আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, এটি আমার পবিত্র দায়িত্ব। জনপদের উন্নয়ন ও ইনসাফ কায়েমে আমি সর্বদা আপনার পাশে থাকবো।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা জামায়াত ও ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং নবনির্বাচিত এমপি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
-

ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ দরিদ্রদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
কলারোয়া ব্যুরো: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা-এ দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে ‘যাকাত শীর্ষক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে মরহুম আছির উদ্দিন শায়েদা অডিটোরিয়ামে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। প্রবন্ধে তিনি যাকাত ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সামটা ছিদ্দিক্বীয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “যাকাত কোনো অনুগ্রহ নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন, যা আদায় করা বিত্তবানদের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সিয়াম ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য, আর রমজান মাস হলো তাকওয়া অর্জনের মূল সময়। রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাকওয়াভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে আপোষহীনভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সফল ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে। বিপ্লব সফল হলে রাষ্ট্রের কাছে যাকাত আদায় ও বণ্টনের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে এবং সরকারিভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তা পরিচালিত হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ব্যবস্থা কায়েম না থাকায় দলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে যাকাত আদায় ও বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কুরআনে নির্ধারিত আটটি খাত বিবেচনায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যাকাত বণ্টন করা হচ্ছে। সাহেবে নিসাব ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এসময় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ ওসমান গনী, শূরা সদস্য মাওলানা মোঃ ওমর আলী, খুলনা বিএল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রভাষক হাফিজুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ রুহুল কুদ্দুস। সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
-

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের এইচএসসি উপশাখার ইফতার মাহফিল
সাতক্ষীরা শহর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা শহর শাখার এইচএসসি উপশাখার ইফতার মাহফিল। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় উপশাখার সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিবের পরিচালনায় এবং সেক্রেটারি মুস্তাকিমের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, জামাতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন, শহর শিবিরের সেক্রেটারি নুরুন্নবী, অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সহ কলেজ এবং সাতক্ষীরা সদর শিবিরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের সমাজে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অন্যায় দূর করতে জিহাদ করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা থাকতে হবে। ছাত্রদের পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে, শিক্ষকদের ও পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে এবং সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে জীবনের মূল উদ্দেশ্য করতে হবে।” ইফতার মাহফিল সর্বশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়।
-

প্রশাসনের ‘দফা-রফায়’ ১২০ মণ নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রি!
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রশাসনের ‘দফা-রফায়’ ১২০ মণ নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ পাচারের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ১ ট্রাক ভর্তি নিষিদ্ধ মাছসহ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে আটকের পর নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জব্দ করা মাছগুলো নিধনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেগুলো নিধনের বদলে বাজারে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত সোমবার (২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজার নেতৃত্বে একটি দল কলারোয়া পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে অভিযান চালায়। অভিযানে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে ১২০ মণ আফ্রিকান মাগুরসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। আটক করা হয় অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ও হেলাতলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলামকে (মাগুর আনার)। এদিকে, আটকের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও মাছ ভর্তি ট্রাকটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্তকে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আদালত থেকে মাছগুলো তাৎক্ষণিক নিধনের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিফলন ঘটেনি। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজার মূল্যের এই মাছগুলো কতিপয় অসাধু ব্যক্তির মধ্যস্থতায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ওই মাছগুলো ঢাকাতে চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের প্রবণতা দেখা গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার বলেন, আমি মাছ নিধনের আদেশ দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলাম (মামলা নং ১-২০২৬)। মাছ কোথায় বা কীভাবে নষ্ট করা হয়েছে তা আমি জানি না। তবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি মাছ নিধনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজা বলেন, আমার কাজ ছিল অপরাধীকে হাজির করা, আমি তা করেছি। মাছ জব্দ, অভিযুক্তকে শাস্তি ও মাছ ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার আমার না, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের। বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাছ ও পরিবহন জব্দ করার পর তা ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের ওপর বর্তায়। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম এর আগেও দুইবার নিষিদ্ধ মাগুরসহ ধরা পড়ে মুচলেকা দিয়েছিলেন। বারবার ছাড় পেয়ে যাওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিষিদ্ধ এই মাছগুলো মানব শরীর, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হওয়া সত্ত্বেও খোদ প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকা কলারোয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
-

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় প্রতিবাদে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার: সংবাদ প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর নগ্ন হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেফতাদের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ১১টায় শহরের নিউ মার্কেট মোড়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার জেরে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ, বাবলুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিমকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। মানববন্ধনে বাংলাদেশ বেতারের জেলা প্রতিনিধি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, বাংলাভিশন টিভির সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ ময়না, একাত্তরের বরুণ ব্যানার্জী, এখন টিভির আহসান রাজিব, যমুনা টিভির আকরামুল ইসলাম, মানবজমিনের এসএম বিপ্লব, ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসাইন, এশিয়ান টিভির মশিউর রহমান ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সম্পাদক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সাংবাদিক আমিনূর রহমান, নাজমুল আলম মুন্না প্রমুখ।
-

বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় পণ্য জব্দ
হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) দিনব্যাপী সদর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সূত্র জানায়, বৈকারী, তলুইগাছা, গাজীপুর, কালিয়ানী, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির পৃথক আভিযানিক দল নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৫ বোতল উইন সিরাক্স কফ সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় ওষুধ, শাড়ি, টিফিন ক্যারিয়ার, বাটি ও তালমিশ্রি জব্দ করা হয়। বিজিবি জানায়, তলুইগাছা ও মাদরা বিওপি সর্বোচ্চ মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। এ ছাড়া কাকডাঙ্গা বিওপি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি আটক করে। বিজিবির ভাষ্য, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। চোরাচালান কার্যক্রম দেশের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে। জব্দ করা মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, “দেশের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

