Category: সুন্দরবন

  •   সব স্রোত মিশেছে জামায়াতের কমীর্ সম্মেলনে, লোকে লোকারন্য

      সব স্রোত মিশেছে জামায়াতের কমীর্ সম্মেলনে, লোকে লোকারন্য

    সাতক্ষীরা শহর গতকাল ছিল লোকে লোকারন্য, জনস্রোত, মানুষ আর মানুষ, শহরের সীমানা পেরিয়ে জনস্রোত এর । সুবিশালতা ছড়িয়ে পড়ে কদমতলা, বিনেরপোতা আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা। বিস্মিত, হতভম্ব, শহরবাসি, হাজার ছাড়িয়ে লাখ এবং লাখের মধ্যে কেবল সীমাবদ্ধ ছিল না জনসাগর। কয়েক লক্ষ  লোকের সরব, স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নারায়ে তাগবীর, আল্লাহু আকবর ধ্বনি প্রতিধ্বনি সাতক্ষীরার আকাশ বাতাশকে প্রকম্পিত করছিল। সব জনস্রোত ছিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠমুখি। আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমানের সাতক্ষীরায় আগা উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরাবাসীর সাথে যে আবেগ, আগ্রহ, উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে জেলার ইতিহাসে এমন আগ্রহময় জনস্রোত দেখা যায়নি এমনটি বলেছেন জায়ায়াতের কর্মী সম্মেলনে। আগতদের অনেকে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, চিকিৎসা বিদ্যায় পাদদর্শী ডাঃ শফিকুর রহমান বিগত পতিত সরকারের সময়গুলোতে যেভাবে নির্যাতিত নিষ্পেষিত এবং জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তা নজিরবিহীন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস ফ্যাসিস্ট এর কারাগারে অন্তরীণ থেকেছেন যে কারণে দেশবাসির কাছে তিনি মজলুম নেতা হিসেবে কেউ আমাদের জন্য হুমকি হোক এটা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়েও সরকারি উচ্চ জামায়াত শিবিরের কর্মী সমর্থকরাই সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল গতকালের জনস্রোতের । শত সহস্র মহিলারা শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অবস্থান নিয়ে কর্মী সম্মেলনে। কর্মী সম্মেলনের উপস্থিত  অনেককে আক্ষেপ করতে দেখা গেছে আমীরে জামাতকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ না পাওয়াতে। কোন উত্তেজনাকর বা বেহিসেবী (নিবক্তৃতা নয়, অত্যন্ত ধীরস্থির ভাবে, হৃদয়ঙ্গম বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শান্তির বার্তা দিয়ে গেলেন সাতক্ষীরার বিশ লক্ষাধিক মানুষকে। হানাহানী, নৈরাজ্য নয় এদেশ আমাদের সব ধর্মের, বর্ণের। আগামীর বাংলাদেশ হবে শান্তির। এ দেশে ইসলামের পতাকা উড়বে। আমীরে জাময়াতের প্রতিটি শব্দ চয়ন ছিল অনন্য অসাধারণ। সাতক্ষীরার মাটি ৩৬ জামায়াত শিবিরের কর্মীর রক্তে রঞ্জিত। এই সে জমিন শহীদদের জমিন। গতকালে জনস্রোতের মহা উপস্থিতিতে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। শহরের প্রতিটি সড়কে ছিল লোকে লোকারণ্য। যে যেভাবে পেরেছে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনেছে। অনেকে বিদ্যালয় কর্মী সম্মেলন খুলে উপস্থিত হতে পারেনি। যে কেবল জনস্রোতে ছিলো তা নয় বিপুল সংখ্যক বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশে।

    দুপুর দুইটায় কর্মী সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর বারটার পূর্বেই লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটে সম্মেলন স্থলে। পুরো শহরে যানযটের চিত্র ছিল  না। অথচ সর্বকালের বৃহত্তম লোকসমাগম। জামায়াতের নিজস্ব জনবল স্বেচ্ছাসেবকের  দায়িত্ব পালন করে কোথাও সামান্যতম যানযট হতে দেয়নি। শহরের যতদূর চোখে দেখা  যায় ততদূরেই ছিল মানুষ আর মানুষ। সাতক্ষীরার মানুষ মনে রাখবে এমন জনস্রোত

     

  • সাতক্ষীরায় বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১১ লাখ টাকার ভারতীয় পন্য ও ৬ টি হনুমান আটক

    সাতক্ষীরায় বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ১১ লাখ টাকার ভারতীয় পন্য ও ৬ টি হনুমান আটক

    শাহ জাহান আলী মিটন, সাতক্ষীরা :
    সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্যসহ প্রায় এগারো লক্ষ টাকার ভারতীয় মালামাল ও ৬ টি হনুমান জব্দ করেছে বিজিবি।

    বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধিনস্থ ভোমরা, বৈকারী, কাকডাঙ্গা, মাদরা ও চান্দুরিয়া বিওপির সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ভারতীয় মালামাল ও ৬ টি মুখপোড়া হনুমান আটক করে বিজিবি।

    সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আশরাফুল হক বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।

    বিজিবি অধিনায়ক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোমরা বিওপির পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর থানার লক্ষীদাড়ী নামক স্থান হতে ২৪ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ী আটক করে। বৈকারী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ০৬ টি বন্যপ্রানী (মুখপোড়া হনুমান) ভারতে পাচারকালে আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ আভিযানিক দল সদর থানার কেড়াগাছি এবং রাজ্জাকের মোড় নামক স্থান হতে ৩৭ বোতল ভারতীয় মদ ও ৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া থানার রাজপুর নামক স্থান হতে ১৫ বোতল ভারতীয় মদ ও ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। এছাড়াও, চান্দুরিয়া বিওপির বিশেষ দল গোয়ালপাড়া নামক স্থান হতে ০৮ বোতল ভারতীয় মদ আটক করে। যার সর্বমোট সিজার মূল্য ১০ লাখ ৪৪ হাজার ১শত টাকা।

    বিজিবি অধিনায়ক আরো জানান, সাতক্ষীরা সদরের সাতানী নামকস্থান দিয়ে বাংলাদেশ হতে ভারতে বন্যপ্রানী পাচার করবে এমন গোপন সংবাদ প্রাপ্তির পর বৈকারী বিওপির নায়েব সুবেদার মোঃ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চৌকষ আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় গোপনে অবস্থান নেয়। এ সময় চোরাকারবারীরা বিজিবি’র উপস্থিতি বুঝতে পেরে ০৬টি হনুমান খাঁচাসহ সাতানী পাকা রাস্তার উপরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত প্রতিটি হনুমানের মূল্য ৪০ হাজার টাকা হারে সর্বমোট ৬ টি হনুমানের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

    বিজিবি টহলদল কর্তৃক উদ্ধারকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা ও মাদকদ্রব্য সমূহ সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরী করতঃ পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের নিমিত্তে ষ্টোরে জমা এবং উদ্ধারকৃত বন্যপ্রানীর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।

    উল্লেখ্য, চোরাকারবারী কর্তৃক উক্ত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করে বিজিবি। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারনে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

  • সদরের শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করলেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক

    সদরের শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করলেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক

    শাহ জাহান আলী মিটন,সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শাল্যে গ্রামের পশ্চিম পাড়া মার্কেট চত্বরে বিভিন্ন ধর্মের ও পেশার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। মো. শাহিনুর রহমান শাহীন’র সঞ্চালনায় ও ইউপি সদস্য নূরুল হুদা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানার সেকেন্ড অফিসার (এস আই) এস এম শামীম আক্তার,শাল্যে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ অহিদুজ্জামান অহিদ, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম সানা, শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কবির হোসেন, মাস্টার সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন, আকরামুজ্জামান লিটন, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, কামরুজ্জামান খোকন, ডা. দেলোয়ার হোসেন, মোঃ সলিমুল্লাহ সুজন, হাফেজ আসাদুজ্জামান মনা, আল মুজাহিদ , মোঃ বিল্লাল হোসেন রিপন,মোঃ বজলুর রহমান, শাজাহান আলী বাবু, ইনজামামুল হক রানা, শ্রী আনন্দ মন্ডল, পুরোহিত দিনু ঠাকুর, আশুতোষ মন্ডল,গোবিন্দ,প্রকাশ সরকার, বিষ্ণুসহ এলাকাবাসী।
    সদর থানার ওসি সামিনুল হক এলাকাবাসীর মতবিনিময়কালে বলেন, আপনাদের এলাকায় কোন প্রকার মাদকদ্রব্য ক্রয়- বিক্রয় ও সেবন করলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে ইনফরমেশন দেবেন আমরা তাদের ব্যাপারে আইনানক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও বলেন এলাকায় জুয়া, চুরি বা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। এ সময় তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জরুরী সেবার নাম্বার ৯৯৯,নিজের ও সদর থানার ডিউটি অফিসারের মোবাইল নাম্বার প্রদান করেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এর এমন পদক্ষেপ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন জানিয়েছে ।

  • দেবহাটার যুবলীগের সভাপতি মিন্নু জেল হাজতে

    দেবহাটার যুবলীগের সভাপতি মিন্নু জেল হাজতে

    স্টাফ রিপোর্টার: দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও দুর্ধর্ষ ক্যাডার মিজানুর রহমান মিন্নুর (৪৭) কে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার পারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত দীন আলী গাজীর ছেলে। জানা গেছে, ২০১৩-১৪ সাল থেকে জামায়াত-বিএনপি নেতা কর্মী ও নিরীহ মানুষকে দমন নিপীড়নের লক্ষে ব্যাপক তান্ডব চালাতে থাকে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে দেবহাটার নাংলা গ্রামের জামায়াতকর্মী আনারুল ইসলামকে মৎস্যঘের থেকে তুলে নিয়ে কথিত বন্দুক যুদ্ধ দেখিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে এমন দাবি করে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট নিহতের ভাই একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলা সহ আরো দুটি মামলায় অভিযুক্ত করে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। আরো জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মিন্নুরের নেতৃত্বে পারুলিয়া এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। এই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে জমি দখল, মৎস্যঘের দখল, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দখল, ভাংচুর, লুটপাট, মানুষের উপর হামলা, চোরা ঘাট, মাদক পাচার সহ বিভিন্ন অপকর্ম চলে আসছিল। এমনকি নিরীহ মানুষ, সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজী, হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা পালিয়ে গেলে মিন্নুরও আত্নগোপনে চলে যান। এদিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ আরও দুইটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। পারুলিয়ার এক যুবক জানায়, ২০২৩ সালে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী মারা যাওয়ার পরের দিন ১৫ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে মিন্নুরের অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে মিথ্যা নাশকতা মামলায় পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। তার মত অসংখ্য মানুষকে মিথ্যা ভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে মিন্নুর। সাম্প্রতিক দেবহাটায় ৫ সংবাদ কর্মীকে জড়িয়ে একটি মিথ্যা মামলার ইন্ধন দেয় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিন্নুর। তার এক সহযোগীকে দিয়ে এ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করলে তার তদন্ত করে সিআইডি পুলিশ। পরে তদন্ত কর্মকর্তাদের নানা ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে মিন্নুর সহ আওয়ামী লীগের নেতারা। পরে মামলাটি মিথ্যা হওয়ায় আদালত তা খারিজ করেছেন বিজ্ঞ বিচারক। এদিকে গ্রেফতার মিন্নুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বাহিনীর কাছে থাকা অস্ত্র সহ বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মানে করেন অনেকে। দেবহাটা থানার ওসি মো. হযরত আলী জানান, জামায়াত কর্মী আনারুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিন্নুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া তিনি ২০১৯ সালের আরও দুটি মামলায় অভিযুক্ত। বুধবার তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

  • খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার, তবুও কষ্টের অবসান নিয়ে শংকা

    খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার, তবুও কষ্টের অবসান নিয়ে শংকা

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘তিনটে মাস খুব কষ্টে গেছে, আধ পেটা এক পেটা খেয়ে দিন কেটেছে আমাগো। নৌকা-ডোঙা সব গোছানো, পাশ(অনুমতিপত্র) হাতে পালি বনে ঢোকবো’। কথাগুলো বলেন সুন্দরবন পাড়ের নীলডুমুর গ্রামের পঞ্চান্ন বছর বয়সী ফজলুল হক। এক মুহুর্তের জন্য অন্যমনস্ক হয়েও পুনরায় তিনি বলতে শুরু করেন, ভাগ্যে কি আছে সেখানে না গেলি বুঝতি পারিতিছি নে। তিন মাসের ঋণ দেনা শোধ করতি না পারলি এলাকায় বাস হবে না’।

    পাশে বসা একই গ্রামের হানিফ গাজী(৬৭) বলেন, ‘বাপ-বেটা দু’জনের আয়ে ছ’ডা মুখ চালাতি হয়। বন্ধের তিন মাসে খাইয়ে না খেয়ে দিন গেছে, তবুও ৩২ হাজার টাকা দেনা হইছি। বন খুললি পেট চলবে, তবে ঋণ শোধ নিয়ে চিন্তায় আছি’।

    শুধুমাত্র ফজলুল হক আর হানিফ গাজী না। বরং প্রায় একই অভিব্যক্তি দাতিনাখালীর সফিকুল, মীরগাংয়ের আব্দুল আজিজসহ গোটা উপকুলজুড়ে বসবাসরত শত শত জেলের। তাদের দাবি বন্ধের ৯০দিন পর সুন্দরবনের দুয়ার খুলছে বিধায় সকলে খুশি। তবে স্বল্প জায়গায় একইসাথে হাজার হাজার জেলের উপস্থিতিতে প্রত্যাশামত মাছ ও কাঁকড়া শিকারের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছেনা। তাছাড়া বরাবরের মত বড় বড় কোম্পানীগুলোর আধিপাত্যে পছন্দের জায়গায় জাল ফেলা নিয়েও তারা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বনকর্মীদের টহল জোরদারসহ অভয়ারণ্যের আয়তন হ্রাসের পাশাপাশি উপকুলজুড়ে বিকল্প কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলার দাবি এসব জেলের।

    বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুত্র জানায় টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরের এক তারিখ থেকে সুন্দরবন উম্মুক্ত হচ্ছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি অফিস থেকে প্রায় দুই হাজার আটশ বিএলসির অনুকুলে প্রায় নয় হাজার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। বিশ^খ্যাত মানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ ও প্রকৃতি সংরক্ষন কর্মসুচির আওতায় সরকারি নির্দেশে তিন মাস ধরে বনজীবিসহ পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে লম্বা বিরতির পর সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে জেলেরা। নৌকা মেরামত আর নুতন রং লাগানোর পাশাপাশি বাজার-সদয় গুছিয়ে নিয়েছে। সহযোগী জেলেদের সাথে চুক্তি পর্ব সম্পন্নের পাশাপাশি শিকারকৃত মাছ ও কাঁকড়া বিক্রির জন্য দর-দাম নিশ্চিত করেছেন মহাজনসহ ব্যবসায়ীদের সাথে। আবার পর্যটকবাহী নৌ-যানগুলোকে মেরামতের পাশাপাশি নুতনভাবে সাঁজিয়ে প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় ট্রলারচালকরা।

    কদমতলা গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী গৃহবধু জাহানারা বেগম জানান, বংশ পরম্পরায় তারা সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-পরা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচও আসে সুন্দরবন থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে বছরে একাধিকবার সুন্দরবন বন্ধের কারনে দিনে দিনে তাদের ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। এমতাবস্থায় উপকুলজড়ে বিকল্প কর্মক্ষেত্র গড়ার পাশাপাশি সহজশর্তে জেলে পরিবারের জন্য সরকারি ঋণ ব্যবস্থা প্রচলনের দাবি তার।

    সুন্দরবন তীরবর্তী মীরগাং গ্রামের হরশিদ মন্ডলের দাবি, অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এবার সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্যের আয়তন বেশী। আবার বড় কোম্পানীর কারনে সুন্দরবনে যেয়েও নিজের পছন্দের জায়গা মিলবে না। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবন ঢুকলেও কাংখিত মাছ-কাঁকড়া পাওয়া নিয়েও শংকা তার।
    ষাটোর্ধ্ব বয়সী এ বৃদ্ধ আরও জানায়, অভয়ারন্যের বিস্তৃতি কমানোর পাশাপাশি বনকর্মীরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে তারা সর্বশান্ত হবে। লম্বা বিরতির পর বনে যেয়েও মাছ কাঁকড়া না পেয়ে বরং দাদন ব্যবসায়ী আর মহাজনদের থেকে নেয়া ঋণেল বোঝা নিয়ে এলাকা ছাড়ার শংকা রয়েছে।

    জেলেরা জানায় বন্ধের সময়ে সংসার চালাতে স্থানীয় বিভিন্ন সমিতি, এনজিওসহ মহাজনদের থেকে তারা ঋণ নিয়েছেন। আবার জাল ও নৌকা প্রস্তুতের জন্য শরানাপন্ন হয়েছেন দাদন ব্যবসায়ীসহ মহাজনদের। এমতাবস্থায় বড় কোম্পানীসমুহের সিন্ডিকেটকে বনবিভাগ সহায়তা করলে তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম হবে। সুন্দরবনে ঢুকে নিজ নিজ পছন্দের জায়গায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারে কতৃপক্ষের সহায়তা চান তারা।

    এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন সুন্দরবনকে রক্ষায় সময়ের সাথে সাথে মানুষের প্রবেশাধীকার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকসহ জেলেরা বনে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বড় কোম্পানীগুলোর কারনে দরিদ্র জেলেরা যেন সবিধাবঞ্চিত না হয় সেবিষয়ে বনবিভাগ সতর্ক থাকার পাশাপাশি টহল বৃদ্ধি করবে।