Category: সাতক্ষীরা শহর

  • কাজী আলাউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে সংবর্ধনা প্রদান

    কাজী আলাউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে সংবর্ধনা প্রদান

    স্টাফ রিপোটারঃ কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাজী আলাউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনা আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন বরণ ও নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল ৩০ অক্টোবর ২০২৪ রোজ বুধবার সকাল ১১ টায় কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যম অত্র কলেজের নবনির্বাচিত সভাপতি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান ও নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয় কলেজ কতৃপক্ষ। উক্ত কলেজ আইটি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মোঃ ইসরাফিল হোসেনের সঞ্চালনায় অধ্যক্ষ আরিফ বিল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও নবনির্বাচিত কাজী আলাউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গফুর, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও উপজেলা নায়েবে আমির আলহাজ্ব মাওলানা লিয়াকত আলী ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ । অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু ইসলাম সাবেক জি.বি সদস্য, আবু বকর সিদ্দিক সাবেক জি. বি সদস্য, মো:শামসুদ্দিন সানা, সাবেক জি.বি সদস্য, মো: মাষ্টার আব্দুল ওয়াজেদ, সাবেক জি.বি সদস্য, কাজী আলাউদ্দিন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ, তারালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন, চাম্পাফুল ইউনিয়ন আমির নূরুল ইসলাম, ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ ইব্রাহীম প্রমুখ ।

  • কলারোয়া হাই স্কুল ফুটবল ময়দান সংলগ্ন শহীদ মিনার চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কলারোয়া হাই স্কুল ফুটবল ময়দান সংলগ্ন শহীদ মিনার চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টা হতে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে কলারোয়া হাই স্কুল ফুটবল ময়দান সংলগ্ন শহীদ মিনার চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কলারোয়া উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা কামারুজ্জামান এর সভাপতিত্বে পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইউনুস আলী বাবু’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা ওসমান গনি, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা ওমর আলী, মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক শাহাজান কবীর, আব্দুল গফুর মন্টু, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু, উপাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা গোলাম কবির, মাওলানা আলমগীর হোসেন, মোঃ আব্দুর রকিব, মাওলানা ফিরোজ হোসাইন আজাদী প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ বলেন, রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ। ২০০৬ সালের এই দিনে এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায় রচিত হয়। চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে লগি বৈঠা দিয়ে তরতাজা তরুণদের পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা। এ নির্মম হত্যাকান্ড ও পাশবিকতায় কেঁদেছে বাংলাদেশ,কেঁদেছে বিশ্বমানবতা। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। শুধু হত্যাই নয়,মৃত লাশের উপর নৃত্য করার দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী। এটা শুধুমাত্র নৃশংস হত্যাকান্ডই নয়,এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পথ চলা ব্যাহত হয়,ঘটে ব্যত্যয়।

    বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ববিবেক বিস্ময় নিয়ে সেদিন তাকিয়ে দেখেছিল, আওয়ামী লীগ কিভাবে মৃত মানুষের ওপর দাঁড়িয়ে নর্তন-কুর্তন করেছিল। সেদিনের আওয়ামী লগি বৈঠার নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।
    তালা- কলারোয়া আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহর জন্য দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    আলোচনা শেষে ২৮ অক্টোবরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।

  • ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতিকে জামায়াতের শুভেচ্ছা

    ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতিকে জামায়াতের শুভেচ্ছা

    দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নব-নির্বাচিত সভাপতি আবু হাসানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের নেতৃবৃন্দরা। সোমবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে দেবহাটা শাখার উদ্যোগে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা জানান জেলা জামায়াতের আমীর আমীর হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সহকারী সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাহাবুবুল আলম, জেলার অন্যতম সদস্য এম আসাদুজ্জামান মুকুল, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা এইচএম ইমদাদুল হক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাসান গ্রæপের চেয়ারম্যান ও আবু হাসানের পিতা রফিকুল ইসলাম। উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (২৬ অক্টোবর) ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পারুলিয়ার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সভাপতি পদে ৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন

  • দেবহাটা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    দেবহাটা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠার তাণ্ডব: আজ দেবহাটা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

    দেবহাটা সখিপুর প্রতিনিধি: রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা ও লাশের উপর নৃত্য করার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবিতে এবং শহীদদের স্মরণে পারুলিয়া প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবহাটা উপজেলা শাখা।
    আজ ২৮ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল ৩ টায় পারুলিয়া বাস স্ট্যান্ড জামায়াত অফিস চত্ত্বরের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওঃ অলিউল ইসলাম’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এইচ এম ইমদাদুল হকের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সাতক্ষীরা জেলার সহকারী সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, জেলা অফিস সম্পাদক রুহুল আমিন, জেলার অন্যতম সদস্য মোস্তফা আছাদুজ্জামান মুকুল, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি সোলায়মান হোসাইন,ও আব্দুল গফুর সরদার, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল অহেদ, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ইসরাইল হোসেন, উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি রোকনুজ্জামান, উপজেলা সদস্য জিয়াউর রহমান, উপজেলা সদস্য মাওলানা সামছুল আরিফ, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের সভাপতি রাজু আহমেদ,সাবেক সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ময়নুদ্দীন ময়না, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনারুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু ইউসুফ, সখিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ইয়াকুব আলী সরদার, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাহবুবুল আলম, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

  • ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত


    সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা শাখার উদ্যোগে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ অক্টোবর সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা সদর জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল (নবাগত জেলা আমীর), শেখ নুরুল হুদা, সেক্রেটারী সমাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওমর ফারুক, জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইমামুল হোসেন, শহর ছাত্র শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আব্দুস সুবহান মুকুল, শহর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারী মাওলানা রুহুল আমিন, সদর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আজাদুল ইসলাম, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান, সদর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুস সবুর প্রমুখ।
    সভায় সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরের পথ ধরে আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাসী রাজনীতি শুরু করেছিল তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তখন থেকে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকারসহ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়
    পরে সন্ধা থেকে ২৮ অক্টোবর স্মরনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, কলারোয়া, তালা, দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরে পৃথক ভাবে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সেমিনার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • আশাশুনিতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    আশাশুনিতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


    এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি(সাতক্ষীরা)।।আশাশুনিতে শিক্ষক সম্মেলন-২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় আশাশুনি মহিলা কলেজ হলরুমে আশাশুনি উপজেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে। উপজেলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ এর সভাপতি ও আশাশুনি সরকারি কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে ও আশাশুনি আদর্শ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উপদেষ্টা ও আগরদাঁড়ি কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য- রাখেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল,উপদেষ্টা ও শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবান মুকুল,উপদেষ্টা আবু মছা তারিকুজ্জামান তুষার, মাওলানা নুরুল আফসার মুর্তজা, সাতক্ষীরা জেলা আদর্শ শিক্ষক পরিষদের ‌ ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি প্রফেসর মাওলানা আব্দুল ওয়ারেছ, মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি ও শরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, প্রতাপনগর এ পি এস ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, প্রতাপনগর ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা অহিদুজ্জামান, আশাশুনি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ নেতা মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, কাকবাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক পরিষদের উপজেলা সভাপতি মাওলানা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। সভায় আশাশুনি উপজেলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ,মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদ, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, কারিগরি শিক্ষক পরিষদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ ও কিন্টার গার্ডেন শিক্ষক পরিষদের উপজেলা আংশিক কমিটির গঠন করা হয়।

  • দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকা প্রকাশ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকা প্রকাশ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


    সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকা পূনরায় প্রকাশ উপলক্ষে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টায় সাতক্ষীরা আল আমিন ট্রাষ্টে কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার প্রকাশক শেখ নুরুল হুদা’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, জেলা মিডিয়া বিভাগের সমন্বয়ক ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার জেলা সংবাদদাতা আবু সাইদ বিশ্বাস, জেলা মিডিয়া বিভাগের সদস্য, মো. রুহুল আমিন, মো. হাবিবুর রহমান, এড. আবু তালেব, সাংবাদিক শাহজান আলী মিঠু, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকা ও দিগন্ত পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মুহাঃ জিল্লুর রহমানসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    এসময় প্রধান অতিথি শেখ নূরুল হুদা বলেন পত্রিকা হলো সমাজের দর্পণ। আর সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যা গৌরভের । যে পেশা একটি দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরো বলেন, আমি দেখেছি অনেক সাংবাদিক পারিবারিক সচ্ছলতা উপেক্ষা করে সংবাদ সংগ্রহ করেন। যে কারনে সৎ সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিক হিসেবে পরিচয় পায়। মতবিনিময় সভায় ওজলার ৭৮টি ইউনিয়নের ২৫০ জন সাংবাদিক অংশ গ্রহণ করেন

  • চোখের পানি ছাড়া সবই বিষাক্ত, আতঙ্কিত সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬০ লাখ মানুষ

    চোখের পানি ছাড়া সবই বিষাক্ত, আতঙ্কিত সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬০ লাখ মানুষ

    আবু সাইদ বিশ্বোস, সাতক্ষীরাঃ প্রকল্পের পর প্রকল্প, আর কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় করার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের পিছু ছাড়ছে না দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতা। ভারি বৃষ্টিতেই পানিবদ্ধতা, প্রায় দুই যুগ ধরে চলা পানিবদ্ধতার দুঃখ স্থায়ী রূপ পেতে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা, তালা, কলারোয়া, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া, ফুলতলা ও পাইকগাছার মানুষ প্রতি বছর পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। ভারী বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে কপোতাক্ষ, বেতনাপাড়ের ও ভবদহের জনপদ। ২০০০ ও ২০১১ সালে এ অঞ্চলে এমন বড় ধরনের বন্যা ও জলাবদ্ধতা হয়েছিল। কিন্তু তখন মানুষ এত আতঙ্কিত হয়ে পড়েনি, কেননা ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার অনেক প্রকল্প শেষ হয়েছে বা চলমান রয়েছে। প্রকল্পের পর প্রকল্প যখন ব্যর্থ, জলাবদ্ধতা নিরসনের তেমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, আসলে এরপর কোনও প্রকল্প নেওয়া হবে, তাদের কী হবে?

    চারদিকে শুধু পানি আর পানি। অসহনীয় জনদুর্ভোগ, এক কথায় মানবিক বিপর্যয়। ফসলের মাঠ, মাছের ঘের, খাল-বিল সবই পানিতে একাকার। শোয়ার ঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে পানি। উঠানে কোমর-সমান পানি। বাজারঘাট, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি। রাস্তাঘাট ডুবে আছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা বা সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। রান্না করার মত শুকনো জায়গাটুকুও নেই। কোন মতে খাবারই যোগাড় করতে পারলেও টয়লেট করা বিশাল ঝামেলার। অনেকে উঁচু স্থানে পলিথিন ব্যাগে টয়লেট করে। ঠিকমত না ফেললে, তা আবার ভাসতে ভাসতে ঘরবাড়িতে চলে আসে। মানুষ নিজেরাই যখন মহাবিপদে তখন তাদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে আরও এক ঝামেলায়, কোথায় রাখবে তাদের। বিষাক্ত পানির সঙ্গে বসবাসের ফলে অনেকেই চর্ম রোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত। ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর, পেটের পীড়া, আমাশয়ের মতো রোগ নিত্যসঙ্গী। কৃষি জমি পানির নিচে, বিষাক্ত পানিতে মাছও মারা যাচ্ছে, কাজকর্মও নাই, চারদিকে হাহাকার। অনেকে ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে ভিন্ন কোনও স্থানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা শহর-বন্দরে। এমন যখন অবস্থা এলাকার মানুষের তখন মরেও শান্তি নেই। সব জায়গায় পানি, মাটি খুঁড়ে মরদেহ দাফন করা বা শ্মশানে তোলার কোনও সুযোগও নেই। মনে হয় শুধু মানুষের চোখের পানিটুকুই বিশুদ্ধ, আর বাকি সব বিষাক্ত। এসব অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

    বিশেজ্ঞরা বলছে, বিগত কয়েক দশক বা তার আগে দেশের এই অঞ্চলে যে বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীবনধারা ছিল, বর্তমানে তা আর নেই। নদী, খালবিল, নৌকা, ম্যানগ্রোভ গাছ, ঝোপঝাড়, কৃষিপণ্য, মাছ, পশুপাখি এবং আরও অনেক কিছুর আর দেখা মেলে না। জোয়ার-ভাটার খেলা, গয়না নৌকা, টাবুরে নৌকা, পাল নৌকা, ভাটিয়ালি সুরে গান আর নেই। একসময় কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থান পণ্যবাহী জাহাজ এসে ভিড়ত পাটকেলঘাটা, চৌগাছা জাহাজ বন্দরে। ঘাটে ঘাটে ভিড়ত স্টিমার, লঞ্চ। কিছুটা প্রাকৃতিক কারণে আর অধিকাংশটা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে সবই নষ্ট হয়ে গেছে। কপোতাক্ষ, বেতনা, শালতা, মরিচাপ, গোয়ালঘেশিয়া, খোলপেটুয়া ইত্যাদি একসময় প্রবহমান ও গতিশীল ছিল, জনপদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনত; কিন্তু এখন এগুলো মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলি পড়ে নাব্যতা হারিয়েছে। এখন ঠিকমতো পানি নিষ্কাশিত হয় না।

    অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এই সরু নদীগুলো দিয়ে সাগরের পানি উপরে উঠে আসছে। উপরের উজান প্রবাহ না থাকায় পলি জমে নদী ভরাট প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নদী মৃত্যুর পেছনে প্রধান দুটি কারণ দেখছেন পানি বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, এই অঞ্চলের নদী এবং এর উপনদীগুলো পদ্মা নদী এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কয়েকটি নদীর সাথে যুক্ত ছিল। পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজ এবং আরও কিছু বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত পানি প্রত্যাহার করায়এ অঞ্চলের নদীগুলো উজানের পানির প্রবাহ ও উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উজানের পানির অভাবে নদীগুলোর তলদেশে পলি জমে গতি হারিয়েছে।
    দ্বিতীয়ত, নদী ও তার পার্শ্বে অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্থাপনা নির্মাণ যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষত, ‘সবুজ বিপ্লব’ নামে ১৯৬০ সালের দিকে শুরু হয় উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কাজ। ১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালের উপর্যুপরি ভয়াবহ বন্যার পর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সনে জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ক্রগ মিশন’র সুপারিশক্রমে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। এই পানি নীতিতে এ অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, নদীর গতি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র ও জীবনযাত্রার প্রণালীর বিষয়টি বিবেচিত হয়নি।

    সম্প্রতি পেপার-পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর মৌজার ৩৩ বিঘা জলমহাল প্রায় সাত বছর ধরে দখল করে আছে। ২০১৭ সালে ঐ ব্যক্তি জাল দলিল ও কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে বোকা বানিয়ে উক্ত জলমহাল দখল করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত দলিলটি জাল হিসেবে ঘোষণা করে জব্দ করে এবং খাস খাল হিসেবে নতিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু জাল দলিলকারী চক্র বিষয়টি সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ও হাইকোর্টে আপীল করে। সেখানেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। এসব কিছুর পরও প্রভাব খাটিয়ে এই চক্র এই জলমহাল দখল অব্যাহত রেখেছে। জাল দলিল বা কাগজপত্র বানিয়ে নদী-খাল-জলমহাল-খাস জমি দখলের এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে এই এলাকায়।

    স্থানীয়রা জানান, অনেকে রাজনৈতিক প্রভাবে বা টাকার বিনিময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের অফিস বা সচিবালয় থেকে নদী-খাল-জলমহাল দীর্ঘমেয়াদী ইজারা নিয়ে যায়। আর একবার এগুলো দখলবাজদের হাতে চলে গেলে তারা যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার শুরু করে। বিশেষ করে ঘনঘন বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির সাধারণ প্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

  • সাতক্ষীরার নবাগত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম মুনিরের সাথে সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    সাতক্ষীরার নবাগত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম মুনিরের সাথে সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
    সাতক্ষীরার নবাগত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম মুনিরের সাথে সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে পুলিশ লাইন্সের ড্রিল সেটে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    সভায় পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম মুনির বলেন,‘‘ সাতক্ষীরার অধিকাংশ মানুষ শান্তিপ্রিয়। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে এজেলার মানুষকে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের চ্যালেঞ্জ হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো। যানজট,মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা গড়তে পুলিশ কাজ করবে। সাংবাদিক-পুলিশ একে অন্যের পরিপুরক। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ ও সাংবাদিক একে অন্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। ’’
    মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী,সাংবাদিক মিজানুর রহমান, আবুল কাসেম,আক্তারুজ্জামান বাচ্চু,মনিরুল ইসলাম মনি,জিল্লুর রহমান,আবু সাইদ বিশ্বাস. প্রমুখ।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খাঁন,আমিনুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • পানিতে ভাসছে তালরা খেশরা ইউনিয়ন

    পানিতে ভাসছে তালরা খেশরা ইউনিয়ন

    স্টাফ রিপোটারঃ পানিতে ভাসছে কপোতাক্ষ নদী দ্বারা বেষ্টিত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁসে গড়ে উঠা ইউনিয়নটির ২১টি গ্রামের মধ্যে ১৮টি গ্রামই তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নটির উত্তরে জালালপুর, পূর্বে-কপোতাক্ষ, দক্ষিণে- আশাশুনি উপজেলা এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা সদর অবস্থিত। গত ১৫ দিন ধরে ইউনিয়নটির ৪০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মাদিয়ার খাল, শালিকা খাল, ছোট চর এবং বালিয়ার খাল পলিপড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া অবৈধ দখলদারা এসব খালে নেট-পাটা বিছিয়ে মাছ চাষ করায় পানি সরবরাহ সিমীত হয়ে আসায় অল্প বৃষ্টি পাতেই এলাকাটি পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ৩৫ হাজার ১৭০.৮৩ বিঘা জমি দ্বারা বেষ্টিতি ইউনিয়নটির ২৫ হাজার বিঘা জমি এখন পানির তলে। কয়েকশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসা সমূহে। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সেবা। দেখা দিয়েছে রোগব্যাধি। দ্বিপের উপর প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে এসেছে স্থবিরতা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ও খেলাধুলায় ইউনিয়নটির বিশেষ সূনাম থাকলেও পানি বদ্ধতায় ইউনিয়নটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। কালের স্বাক্ষী ৫০০ বিগার পাখিমারা বিল, ঐতিহ্য বাহী বটগাছ, বাবলা গাছের সুসজ্জিত র্দীর্ঘ ৫ কিঃ মিঃ রাস্তা, শাহাজাতপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় অবস্থিতিত কয়েকশ বছরের একটি পূরনো মসজিদ, শালিখা গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ১২ টি গেট সম্বলিত ১২ ফোকড় ব্রিজ সবই যেন তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। প্রত্যন্ত এ অঞ্চলটি ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। এসময় থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুফিজুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা ওয়াজেদ আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে পুরোপুরি ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রাণসায়ের খালের দুই মুখ উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো, আন্তঃনদী সংযোগ বিশেষ করে ইছামতি, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, বেতনা, শালিখা ও কপোতাক্ষকে খননের আওতায় এনে পানিপ্রবাহ সচল করণ, নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, অকেজো হয়ে পড়ে থাকা স্লুইসগেটগুলো সংস্কারকরণ, পৌর এলাকার মধ্যে মৎস্য ঘের নিষিদ্ধকরণ, নদীগুলো খননের সঙ্গে সঙ্গে সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোও টেকসই করে বেড়িবাঁধ বাঙন রোধ, বেড়িবাঁধে বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, নদী ও খালেরপ্রবাহ বিঘিœত হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করা, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশনের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ নিরুপণের মাধ্যমে জলবায়ু ফান্ডের অর্থ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবী ভুক্ত ভোগীদের।

    খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম (লাল্টু) জানান, তার ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার বেশিরভাগ ঘের ও ফসলি জমি ভেসে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মন্দির এমনকি মানুষের বাড়ি-ঘরে পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়ন যুব বিভাগ সভাপতি শিমুল হোসেন ও সেক্রেটারী আলি হুসাইন জানান, ইউনিয়নের মৎস্য ঘের, আমন ধান এর আবাদ, কাঁচা সবজি, হলুদ ক্ষেত, ঝাল বেগুনসহ বিল অঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কৃষকদের কৃষি ফসল ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। বহু মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। মানুষের স্বাবাভিক জীবন যাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল জানান, প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পানি সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন খাস খাল দখলমুক্ত করে পানি নামানোর ব্যবস্থা করছেন। এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য সকল ইউপি ও সরকারি দফতরে তথ্য চাওয়া হয়েছে। জেলাপ্রশাসকের কাছে দ্রুত সমাধানের জন্য আর্থিক চাহিদা দেয়া হয়েছে। পানি দ্রুত নামানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বিভিন্ন খাল পরিষ্কার করছি। তিনি আরো জানান, পার্শ্ববর্তী জেলা যশোর থেকে আমাদের উপজেলার পানি আসার কারণে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিত নদী খনন, সংযোগ খাল উন্মুক্ত না থাকা এই উপজেলায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এখনই যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে খেশরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেকাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, শুধু খেরশা ইউনিয়নটিতে কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধ্যা খা বাবলি জানান, উপজেলায় ৫২০টি মাছের ঘের সম্পূর্ণরুপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৮২৭ দশমিক ৪৫ টন মাছ ভেসে গেছে। মাও ওয়াজেদ আলী জানান, ভয়াবহ পানিবদ্ধতায় এলাকাজুড়ে পানি থাকায় স্যানেটারি ব্যবস্থায় পড়েছে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। সুপ্রিয় পানির অভাবের পাশাপাশি, চর্ম রোগ, পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া জনিত রোগের আক্রান্ত বেড়ে গেছে।

    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাঁচ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৪৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে