Category: পরিবেশ ও জলবায়ু

  • সদরের শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করলেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক

    সদরের শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করলেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক

    শাহ জাহান আলী মিটন,সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড শাল্যে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন সদর থানার ওসি সামিনুল হক। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শাল্যে গ্রামের পশ্চিম পাড়া মার্কেট চত্বরে বিভিন্ন ধর্মের ও পেশার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। মো. শাহিনুর রহমান শাহীন’র সঞ্চালনায় ও ইউপি সদস্য নূরুল হুদা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানার সেকেন্ড অফিসার (এস আই) এস এম শামীম আক্তার,শাল্যে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ অহিদুজ্জামান অহিদ, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম সানা, শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কবির হোসেন, মাস্টার সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ জাকির হোসেন, আকরামুজ্জামান লিটন, আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, কামরুজ্জামান খোকন, ডা. দেলোয়ার হোসেন, মোঃ সলিমুল্লাহ সুজন, হাফেজ আসাদুজ্জামান মনা, আল মুজাহিদ , মোঃ বিল্লাল হোসেন রিপন,মোঃ বজলুর রহমান, শাজাহান আলী বাবু, ইনজামামুল হক রানা, শ্রী আনন্দ মন্ডল, পুরোহিত দিনু ঠাকুর, আশুতোষ মন্ডল,গোবিন্দ,প্রকাশ সরকার, বিষ্ণুসহ এলাকাবাসী।
    সদর থানার ওসি সামিনুল হক এলাকাবাসীর মতবিনিময়কালে বলেন, আপনাদের এলাকায় কোন প্রকার মাদকদ্রব্য ক্রয়- বিক্রয় ও সেবন করলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে ইনফরমেশন দেবেন আমরা তাদের ব্যাপারে আইনানক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি আরও বলেন এলাকায় জুয়া, চুরি বা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। এ সময় তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জরুরী সেবার নাম্বার ৯৯৯,নিজের ও সদর থানার ডিউটি অফিসারের মোবাইল নাম্বার প্রদান করেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এর এমন পদক্ষেপ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন জানিয়েছে ।

  • পানিতে ভাসছে তালরা খেশরা ইউনিয়ন

    পানিতে ভাসছে তালরা খেশরা ইউনিয়ন

    স্টাফ রিপোটারঃ পানিতে ভাসছে কপোতাক্ষ নদী দ্বারা বেষ্টিত সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে কপোতাক্ষ নদের তীর ঘেঁসে গড়ে উঠা ইউনিয়নটির ২১টি গ্রামের মধ্যে ১৮টি গ্রামই তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নটির উত্তরে জালালপুর, পূর্বে-কপোতাক্ষ, দক্ষিণে- আশাশুনি উপজেলা এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা সদর অবস্থিত। গত ১৫ দিন ধরে ইউনিয়নটির ৪০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মাদিয়ার খাল, শালিকা খাল, ছোট চর এবং বালিয়ার খাল পলিপড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া অবৈধ দখলদারা এসব খালে নেট-পাটা বিছিয়ে মাছ চাষ করায় পানি সরবরাহ সিমীত হয়ে আসায় অল্প বৃষ্টি পাতেই এলাকাটি পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ৩৫ হাজার ১৭০.৮৩ বিঘা জমি দ্বারা বেষ্টিতি ইউনিয়নটির ২৫ হাজার বিঘা জমি এখন পানির তলে। কয়েকশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসা সমূহে। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সেবা। দেখা দিয়েছে রোগব্যাধি। দ্বিপের উপর প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে এসেছে স্থবিরতা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ও খেলাধুলায় ইউনিয়নটির বিশেষ সূনাম থাকলেও পানি বদ্ধতায় ইউনিয়নটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। কালের স্বাক্ষী ৫০০ বিগার পাখিমারা বিল, ঐতিহ্য বাহী বটগাছ, বাবলা গাছের সুসজ্জিত র্দীর্ঘ ৫ কিঃ মিঃ রাস্তা, শাহাজাতপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় অবস্থিতিত কয়েকশ বছরের একটি পূরনো মসজিদ, শালিখা গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ১২ টি গেট সম্বলিত ১২ ফোকড় ব্রিজ সবই যেন তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। প্রত্যন্ত এ অঞ্চলটি ঘুরে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। এসময় থানা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুফিজুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা ওয়াজেদ আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে পুরোপুরি ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রাণসায়ের খালের দুই মুখ উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফেরানো, আন্তঃনদী সংযোগ বিশেষ করে ইছামতি, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, বেতনা, শালিখা ও কপোতাক্ষকে খননের আওতায় এনে পানিপ্রবাহ সচল করণ, নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি, অকেজো হয়ে পড়ে থাকা স্লুইসগেটগুলো সংস্কারকরণ, পৌর এলাকার মধ্যে মৎস্য ঘের নিষিদ্ধকরণ, নদীগুলো খননের সঙ্গে সঙ্গে সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোও টেকসই করে বেড়িবাঁধ বাঙন রোধ, বেড়িবাঁধে বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, নদী ও খালেরপ্রবাহ বিঘিœত হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ না করা, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশনের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ নিরুপণের মাধ্যমে জলবায়ু ফান্ডের অর্থ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবী ভুক্ত ভোগীদের।

    খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম (লাল্টু) জানান, তার ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার বেশিরভাগ ঘের ও ফসলি জমি ভেসে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মন্দির এমনকি মানুষের বাড়ি-ঘরে পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়ন যুব বিভাগ সভাপতি শিমুল হোসেন ও সেক্রেটারী আলি হুসাইন জানান, ইউনিয়নের মৎস্য ঘের, আমন ধান এর আবাদ, কাঁচা সবজি, হলুদ ক্ষেত, ঝাল বেগুনসহ বিল অঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কৃষকদের কৃষি ফসল ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। বহু মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। মানুষের স্বাবাভিক জীবন যাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ রাসেল জানান, প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পানি সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন খাস খাল দখলমুক্ত করে পানি নামানোর ব্যবস্থা করছেন। এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য সকল ইউপি ও সরকারি দফতরে তথ্য চাওয়া হয়েছে। জেলাপ্রশাসকের কাছে দ্রুত সমাধানের জন্য আর্থিক চাহিদা দেয়া হয়েছে। পানি দ্রুত নামানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বিভিন্ন খাল পরিষ্কার করছি। তিনি আরো জানান, পার্শ্ববর্তী জেলা যশোর থেকে আমাদের উপজেলার পানি আসার কারণে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুল ইসলাম জানান, অপরিকল্পিত নদী খনন, সংযোগ খাল উন্মুক্ত না থাকা এই উপজেলায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এখনই যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে খেশরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেকাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, শুধু খেরশা ইউনিয়নটিতে কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধ্যা খা বাবলি জানান, উপজেলায় ৫২০টি মাছের ঘের সম্পূর্ণরুপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৮২৭ দশমিক ৪৫ টন মাছ ভেসে গেছে। মাও ওয়াজেদ আলী জানান, ভয়াবহ পানিবদ্ধতায় এলাকাজুড়ে পানি থাকায় স্যানেটারি ব্যবস্থায় পড়েছে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। সুপ্রিয় পানির অভাবের পাশাপাশি, চর্ম রোগ, পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া জনিত রোগের আক্রান্ত বেড়ে গেছে।

    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাঁচ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৪৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

  • খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার, তবুও কষ্টের অবসান নিয়ে শংকা

    খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার, তবুও কষ্টের অবসান নিয়ে শংকা

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘তিনটে মাস খুব কষ্টে গেছে, আধ পেটা এক পেটা খেয়ে দিন কেটেছে আমাগো। নৌকা-ডোঙা সব গোছানো, পাশ(অনুমতিপত্র) হাতে পালি বনে ঢোকবো’। কথাগুলো বলেন সুন্দরবন পাড়ের নীলডুমুর গ্রামের পঞ্চান্ন বছর বয়সী ফজলুল হক। এক মুহুর্তের জন্য অন্যমনস্ক হয়েও পুনরায় তিনি বলতে শুরু করেন, ভাগ্যে কি আছে সেখানে না গেলি বুঝতি পারিতিছি নে। তিন মাসের ঋণ দেনা শোধ করতি না পারলি এলাকায় বাস হবে না’।

    পাশে বসা একই গ্রামের হানিফ গাজী(৬৭) বলেন, ‘বাপ-বেটা দু’জনের আয়ে ছ’ডা মুখ চালাতি হয়। বন্ধের তিন মাসে খাইয়ে না খেয়ে দিন গেছে, তবুও ৩২ হাজার টাকা দেনা হইছি। বন খুললি পেট চলবে, তবে ঋণ শোধ নিয়ে চিন্তায় আছি’।

    শুধুমাত্র ফজলুল হক আর হানিফ গাজী না। বরং প্রায় একই অভিব্যক্তি দাতিনাখালীর সফিকুল, মীরগাংয়ের আব্দুল আজিজসহ গোটা উপকুলজুড়ে বসবাসরত শত শত জেলের। তাদের দাবি বন্ধের ৯০দিন পর সুন্দরবনের দুয়ার খুলছে বিধায় সকলে খুশি। তবে স্বল্প জায়গায় একইসাথে হাজার হাজার জেলের উপস্থিতিতে প্রত্যাশামত মাছ ও কাঁকড়া শিকারের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছেনা। তাছাড়া বরাবরের মত বড় বড় কোম্পানীগুলোর আধিপাত্যে পছন্দের জায়গায় জাল ফেলা নিয়েও তারা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বনকর্মীদের টহল জোরদারসহ অভয়ারণ্যের আয়তন হ্রাসের পাশাপাশি উপকুলজুড়ে বিকল্প কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলার দাবি এসব জেলের।

    বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুত্র জানায় টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরের এক তারিখ থেকে সুন্দরবন উম্মুক্ত হচ্ছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি অফিস থেকে প্রায় দুই হাজার আটশ বিএলসির অনুকুলে প্রায় নয় হাজার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। বিশ^খ্যাত মানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ ও প্রকৃতি সংরক্ষন কর্মসুচির আওতায় সরকারি নির্দেশে তিন মাস ধরে বনজীবিসহ পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে লম্বা বিরতির পর সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে জেলেরা। নৌকা মেরামত আর নুতন রং লাগানোর পাশাপাশি বাজার-সদয় গুছিয়ে নিয়েছে। সহযোগী জেলেদের সাথে চুক্তি পর্ব সম্পন্নের পাশাপাশি শিকারকৃত মাছ ও কাঁকড়া বিক্রির জন্য দর-দাম নিশ্চিত করেছেন মহাজনসহ ব্যবসায়ীদের সাথে। আবার পর্যটকবাহী নৌ-যানগুলোকে মেরামতের পাশাপাশি নুতনভাবে সাঁজিয়ে প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় ট্রলারচালকরা।

    কদমতলা গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী গৃহবধু জাহানারা বেগম জানান, বংশ পরম্পরায় তারা সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-পরা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচও আসে সুন্দরবন থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে বছরে একাধিকবার সুন্দরবন বন্ধের কারনে দিনে দিনে তাদের ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। এমতাবস্থায় উপকুলজড়ে বিকল্প কর্মক্ষেত্র গড়ার পাশাপাশি সহজশর্তে জেলে পরিবারের জন্য সরকারি ঋণ ব্যবস্থা প্রচলনের দাবি তার।

    সুন্দরবন তীরবর্তী মীরগাং গ্রামের হরশিদ মন্ডলের দাবি, অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এবার সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্যের আয়তন বেশী। আবার বড় কোম্পানীর কারনে সুন্দরবনে যেয়েও নিজের পছন্দের জায়গা মিলবে না। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবন ঢুকলেও কাংখিত মাছ-কাঁকড়া পাওয়া নিয়েও শংকা তার।
    ষাটোর্ধ্ব বয়সী এ বৃদ্ধ আরও জানায়, অভয়ারন্যের বিস্তৃতি কমানোর পাশাপাশি বনকর্মীরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে তারা সর্বশান্ত হবে। লম্বা বিরতির পর বনে যেয়েও মাছ কাঁকড়া না পেয়ে বরং দাদন ব্যবসায়ী আর মহাজনদের থেকে নেয়া ঋণেল বোঝা নিয়ে এলাকা ছাড়ার শংকা রয়েছে।

    জেলেরা জানায় বন্ধের সময়ে সংসার চালাতে স্থানীয় বিভিন্ন সমিতি, এনজিওসহ মহাজনদের থেকে তারা ঋণ নিয়েছেন। আবার জাল ও নৌকা প্রস্তুতের জন্য শরানাপন্ন হয়েছেন দাদন ব্যবসায়ীসহ মহাজনদের। এমতাবস্থায় বড় কোম্পানীসমুহের সিন্ডিকেটকে বনবিভাগ সহায়তা করলে তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম হবে। সুন্দরবনে ঢুকে নিজ নিজ পছন্দের জায়গায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারে কতৃপক্ষের সহায়তা চান তারা।

    এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন সুন্দরবনকে রক্ষায় সময়ের সাথে সাথে মানুষের প্রবেশাধীকার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকসহ জেলেরা বনে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বড় কোম্পানীগুলোর কারনে দরিদ্র জেলেরা যেন সবিধাবঞ্চিত না হয় সেবিষয়ে বনবিভাগ সতর্ক থাকার পাশাপাশি টহল বৃদ্ধি করবে।