Category: সাতক্ষীরা

  • বৃষ্টির মধ্যেও উৎসব মুখর পরিবেশে সাতক্ষীরায় ঈদ উদযাপন

    বৃষ্টির মধ্যেও উৎসব মুখর পরিবেশে সাতক্ষীরায় ঈদ উদযাপন

    স্টাফ রিপোটার: প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে শনিবার (২১ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সাতক্ষীরায় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ভোর রাত থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে এবার জেলার অধিকাংশ স্থানে ঈদগাহের পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মুসল্লিদের নামাজে অংশ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রায় প্রতিটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে। সাতক্ষীরায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে অবস্থিত একাডেমি মসজিদে। একই সাথে মসজিদের মধ্যে পর্দার ভিতর মহিলাদের ঈদের জামাতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার। নামাজে ইমামতি করেন ইসলামী বক্তা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন মমিন। বয়ান শেষে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, জেলা জামায়াতের আমির উপধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম মুকুল, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্বোধন কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ। এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার বক্তব্য বলেন, ইসলামের পরিপূর্ণ বিধান মেনে সমাজে যাকাত ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। পবিত্র এই দিনে আজ থেকে আমরা সকলেই শপথ গ্রহণ করি ভালো মানুষ হিসেবে ইসলামের নির্দেশনা মেনে সত্য কথা বলব, সুদ, ঘুস ও অন্যের হক ফাঁকি দিবো না এবং আমানতদারি ও ভাই বোনের হক পূরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন মনের ভিতরে একথা ধারণ করে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে তাকওয়া ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে সমাজ, জাতি ও দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এসময় জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। পরবর্তীতে বৃষ্টি কিছুটা কমলে সাতক্ষীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এখানে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মুফতি মাছুম বিল্লাহ। এছাড়া সাতক্ষীরায় ঈদেও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সদর থানা জামে মসজিদে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নেন। এতে উৎসবের আমেজ কিছুটা ম্লান হলেও ঈদের আনন্দে কোনো ঘাটতি ছিল না। নামাজ পূর্ববর্তী আলোচনায় ইমাম বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই শুদ্ধতার জয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। আবহাওয়ার বৈরিতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আল্লাহর ঘরে সমবেত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এই আনন্দ সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেন।

  • গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

    গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

    স্টাফ রিপোর্টার: পাটকেলঘাটা থানার কাশিপুর দাশপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলাকে কেন্দ্র করে কারিনার দাশ (২০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে মরদেহ ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিহত গৃহবধূর স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত কারিনার দাশ সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী গ্রামের সঞ্জয় দাশের মেয়ে এবং পাটকেলঘাটার কাশিপুর দাশপাড়া গ্রামের সুজিত দাশের স্ত্রী। মানববন্ধনে কারিনার মা চপলা দাশ বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালাতেন। অনেক সময় দুপুরে খাবারও দেওয়া হতো না এবং বাবার বাড়ির কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হতো না। তিনি বলেন, ‘আমরা মেয়েকে বাড়িতে আনতে চাইলে পাঠাত না। অনেক সময় মেয়েটা লুকিয়ে আমাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলত।’ তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে কারিনার লুকিয়ে তাঁর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। পরে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, কারিনার মারা গেছেন। চপলা দাশের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্বামী সুজিত দাশ, শ্বশুর তপন দাশ, শাশুড়ি লিপি দাশ, ভাশুর শ্যামাপদ দাশ, দেবর অজিত দাশ ও মামা মানিক দাস পরিকল্পিতভাবে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। মানববন্ধনে ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার, প্রতিবেশী রবিন সরকার, শঙ্কর কুমার দাশ, অরুনা দাশীসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। প্রতিবেশী রবিন সরকার বলেন, কারিনার খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ছিল। তাঁর দাবি, কারিনার আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নন; তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ। এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুল কবীর বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময় ও সম্মাননা প্রদান

    সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময় ও সম্মাননা প্রদান

    নূরনগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের সফলতার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় নূরনগরের তানভীর কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সুশান্ত কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমিনূর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দি গ্রানাডা একাডেমি, মানিকগঞ্জের শিক্ষক মো. মহসীন কবির এবং ইউনিয়ন মিডিয়া প্রধান আবু হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. সালাহউদ্দীন, মুহাম্মাদ আল মাসুদ সাঈদী, আব্দুল মালেকসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের গত চার বছরের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

  • সাতক্ষীরায় বিএনপির ইফতার মাহফিলে সাবেক এমপি হাবিবের বিতর্কিত বক্তব্যে উত্তেজনা

    সাতক্ষীরায় বিএনপির ইফতার মাহফিলে সাবেক এমপি হাবিবের বিতর্কিত বক্তব্যে উত্তেজনা

    স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব অভিযোগ করেছেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনে ২৫টি আসন বিশেষ দলের জন্য “হাইজ্যাক” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের পরিকল্পনায় খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টি আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী হিসেবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৪টি আসনে বিএনপিকে হারিয়েছে।” হাবিব আরও বলেন, “নির্বাচনের সময়ে সাবেক ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, জেলা প্রশাসক, তালা ও কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার একটি বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেছেন। নির্বাচনের পর ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যাহার হয়েছে। সেই ব্যক্তি সাতক্ষীরার মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা উচিত। ডিসিকে অবিলম্বে সাতক্ষীরা ছাড়তে হবে।” তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। তাই আগামী উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে সকল নির্বাচনী যুদ্ধে আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।” শুক্রবার বিকালে শহরের লেকভিউ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে এধরনের আক্রশমূলক বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার এই বক্তব্যে বিভিন্ন গনমাধ্যমের ফেসবুক পেজ এ নিম্নলিখিত কমেন্ট দেখা গেছে। কলারোয়া স্পিস-এ রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২ শতাধিক জন নেচিবাচক কমেন্ট করেন। এরমধ্যে একজন কমেন্ট করেছেন- ‘ আসল কথা এটা যে টাকা খরচ করে হাবিব নির্বাচন করছে সে টাকা তুলে নিবে এবং চাঁদাবাজি করবে, চাঁদাবাজি ভাগ নিতে পারছে না তাই তাদের অপসারণের জন্য বলছে। এটাই বাস্তব’। হাসিবুজ্জামান নামে একজন লিখেছেন, পাগল হয়ে গেছে মনে হচ্ছে, কেউ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। নজরুল ইসলাম লিখেছেন, মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সাইফুল ইসলাম লেখেন, চাচা এটা ইফতার মাহফিল, মাথা ঠিক আছে তো?
    বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দদের দাওয়াত করে এধরনের অশোভনীয় বক্তব্য প্রদানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, তাছকিন আহমেদ চিশতি, বিএনপি নেতা কামুল ইসলাম ফারুক, নাসিম ফারুক খান মিঠু প্রমুখ। সভা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
    উল্লেখ্য, ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, সাতক্ষীরার উন্নয়নে মন্ত্রী পরিষদের সাবেক সচিব আব্দুর রশীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণসহ জেলাকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করায় সাতক্ষীরাবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখতে বিএনপি-জামায়াত একসাথে কাজ করা দরকার। এই বক্তব্যের পর পরই ক্ষেপে যান বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। পরে তার বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এরপর ইফতার তিনি ইফতার শুরু করেন। কিন্তু তখনও ইফতারের কয়েক মিনিট সময় বাকি ছিল।

  • ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন

    ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন

    মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরায় প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে প্রেট্রোল পাম্প ও দোকান থেকে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি না করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা দুই লিটার করে ডিজেল দিচ্ছেন দাবি করলেও অধিকাংশ কৃষকরা ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষক ডিজেলের জন্য দোকানে দোকানে ধর্ণা দিচ্ছেন। সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তার ৫বিঘা জমির একটি বোরো ধানের ব্লক রয়েছে। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় জমিতে সেচের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে পারছিনা। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ দোকানে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও যে পরিমাণ ডিজেল দিচ্ছে তাতে সেচ পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামের কৃষক মো. ইউনুচ আলী বলেন, তার ৩১ বিঘা জমির ইরি ব্লক রয়েছে। জমিতে সেচ দিতে প্রতিদিন তার প্রায় ১০ লিটার ডিজেল লাগে। বেশ কয়েকদিন আগে স্থানীয় ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন থেকে ১০লিটার ডিজেল কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আর ২লিটারের বেশি দিচ্ছে না। যা দিয়ে আমার পুরো ইরির ব্লকে পান সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধান ক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরা শুরু করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার পুরো ব্লক মার খেয়ে যেতে হবে। তিনি বোরা ধানের জমিতে সেচ দেয়ার স্বার্থে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।
    সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের প্রো: সিদ্দিকুল ইসলাম বকুল জানান, বাস, ট্রাক ও ডিজেল চালিত অন্যান্য যানবাহনে নির্ধারিত মাত্রার ডিজেল সরবরাহের পাশাপাশি কৃষকদেরকে প্রতিদিন ২লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক লোক আসছে ডিজেল নিতে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি মোটামুটি সবাই যাতে কমবেশি ডিজেল পায়।
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছািড়িয়ে আমাদের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রযেছে ৭০৪০টি এবং ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেল চালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে এসময় বৃষ্টিপাত হলে ডিজেলের পরিমান কিছুটা কম লাগে।
    এবিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ রাখার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিষয়টি তদরকি করছেন। সংকটের অজুহাতে যারা কৃষকের কাছে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত

    সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার বাজারে হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি রডের দাম প্রায় ২০ টাকা ও বস্তাপ্রতি সিমেন্টর দাম ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন আবাসন ও অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীরা। নির্মাণসামগ্রীর এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও যে রড প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, গতকাল মঙ্গলবার তা একলাফে ৯০ থেকে ১০০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ঢাকার বাজারে আনোয়ার ইস্পাত ও আকিজ: ৯১,০০০ টাকা (টনপ্রতি), কেএসআরএম: ৯১,০০০ টাকা, সিএসআরএম: ৮৪,০০০ টাকা, রহিম স্টিল: ৮৭,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাতক্ষীরার বাজারে টনপ্রতি আরো ১০ হাজার টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, ইরান যুদ্ধকে পুঁজি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “যুদ্ধে প্রভাব রড উৎপাদনে আরও পরে পড়ার কথা। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।” পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সরকারকে বাজার মনিটরিং করার দাবী জানান। অন্যদিকে, রি-রোলিং মিল মালিকরা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলো বীমা সুবিধা দিচ্ছে না এবং পণ্য পরিবহন খরচ (ফ্রেইট কস্ট) ১৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং স্ক্র্যাপের মূল্যবৃদ্ধিও স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “যে রড বর্তমানে বাজারে আছে, তাতে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কথা নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রড ও সিমেন্টের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধীরগতি বা মন্দা দেখা দিতে পারে, যা এই খাতের সাথে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিকের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

  • বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে ৩৩ বিজিবি’র সদস্যরা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ব্যাটালিয়ন সদর, তলুইগাছা, গাজীপুর, কাকডাঙ্গা, মাদরা ও সুলতানপুর বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব চোরাচালানী পণ্য জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার ঔষধ, শাড়ি, কসমেটিকস ও ইমিটেশন সামগ্রী। বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া থানাধীন ঝিকড়া কোল্ড স্টোরেজ মোড় এলাকা থেকে প্রায় ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস ও ইমিটেশন সামগ্রী জব্দ করে। এদিকে গাজীপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ৫/৫ এস এর প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানার গাজীপুর এলাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করে। তলুইগাছা বিওপির দুটি পৃথক আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১২/৩ এস এর প্রায় ৮০০ গজ এবং ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানার চৌরঙ্গী ও বাঁশদহা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, ইয়াবা, একটি মোটরসাইকেল ও হেলমেট জব্দ করে। অন্যদিকে মাদরা বিওপির একটি দল কলারোয়া থানার চান্দা এলাকা থেকে ৮৩ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ইমিটেশন সামগ্রী জব্দ করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানিক দল ভাদিয়ালী এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। এছাড়া সুলতানপুর বিওপির একটি দল কুলবাগান এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করে। বিজিবি জানায়, পৃথক এসব অভিযানে সর্বমোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯০ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, চোরাকারবারিরা শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচার করার চেষ্টা করছিল। এ ধরনের চোরাচালানের কারণে একদিকে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কি অপরাধ খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শ্যামনগরের নূরনগরে বিক্ষোভ

    ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কি অপরাধ খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শ্যামনগরের নূরনগরে বিক্ষোভ

    এবিএম কাইয়ুম রাজ:

    ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী হোসাইনি খামেনি হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে নূরনগর শিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় শিয়া মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    সমাবেশে নূরনগর শিয়া মসজিদের সভাপতি সার্জেন্ট শেখ রওশান আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাজিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আয়াতুল্লাহ খামেনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনায় তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিষয়টি জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানান।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এমন ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের একদিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

    সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ হাবিবুল আলম, গ্রাম ডাক্তার আলহাজ্ব শেখ আইয়ুব আলী, শেখ নেসার আলি, নূরনগর মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আল মামুন, শেখ মহতাব হোসেন, শেখ জুলফিকার আলি, নূর মোহাম্মদ, আমির হোসেন ও আমিনুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গ্যাদন খেলা হারিয়ে যাচ্ছে

    উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গ্যাদন খেলা হারিয়ে যাচ্ছে

    আবু সুফিয়ান, উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিধি:

    উপকূলীয় বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা গ্যাদন খেলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের আনন্দের অন্যতম উৎস ছিল এই ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, প্রযুক্তির বিস্তার এবং খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

    গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাদন খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যমই ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের শারীরিক ব্যায়ামও। নিয়মিত খেলাধুলার কারণে শিশু-কিশোররা শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকত এবং নানা ধরনের রোগবালাই থেকেও অনেকটা দূরে থাকত।

    স্থানীয়দের মতে, গ্যাদন খেলাটির ইতিহাস বেশ পুরোনো। গ্রামবাংলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোররা দল বেঁধে এই খেলায় অংশ নিত। খেলাটির মাধ্যমে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠত।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক এলাকায় খেলার মাঠের অভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কেউ কেউ মোবাইল গেম কিংবা অন্যান্য অনলাইন বিনোদনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে গ্যাদন খেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই পরিবর্তন শুধু একটি খেলার বিলুপ্তিই নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাদের মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম, আর সেই খেলাধুলা যদি নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া থেকে শুরু হয়, তবে তা সমাজ ও সংস্কৃতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

    এ অবস্থায় উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের প্রতি গ্যাদন খেলা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় উৎসব, গ্রামীণ মেলা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গ্যাদন খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে এই খেলাকে আবারও পরিচিত করে তোলার দাবি উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্যাদন খেলা শুধু একটি গ্রামীণ খেলাই নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবারও নতুন প্রজন্মের মাঝে স্থান করে নিতে পারবে।

  • মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা – শ্যামনগরের নূরনগরে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল

    মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা – শ্যামনগরের নূরনগরে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল

    নূরনগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় নূরনগর তানভীর কনভেনশন সেন্টারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    নূরনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডা. আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং যুব বিভাগের সভাপতি হাসানুর বান্নার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। একই সঙ্গে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যদেরও বিরত রাখার চেষ্টা করা।

    তিনি আরও বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর আজাব থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাঈদী হাসান বুলবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হান্নান, সেক্রেটারি আলহাজ্ব লিয়াকত হোসেন বাবু, সহকারী সেক্রেটারি গাজী আশরাফুল আলম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, ইউনিয়ন মিডিয়া প্রধান আবু হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।