Category: সাতক্ষীরা

  • সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল সংকটে হুমকির মুখে প্রাণিসেবা কার্যক্রম

    সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল সংকটে হুমকির মুখে প্রাণিসেবা কার্যক্রম

    মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে প্রাণিসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং জরুরি পশু চিকিৎসা সেবা সময়মতো পৌঁছে দিতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খামারিরা। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত পল্লী প্রাণী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে গিয়ে কৃত্রিম প্রজননসহ নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা ও প্রজনন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এদিকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অসুস্থ গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। জরুরি চিকিৎসার জন্য ডাক পেলেও যানবাহনে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, এতে রোগাক্রান্ত পশুর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ছে। খামারিদের অভিযোগ, নিয়মিত কৃত্রিম প্রজনন ও চিকিৎসা সেবা ব্যহত হওয়ায় দুধ, মাংসসহ প্রাণিসম্পদভিত্তিক উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রাণী চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জেলার সামগ্রিক প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন প্রদান ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও ব্যহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত প্রাণী চিকিৎসকদের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে জরুরি চিকিৎসা ও কৃত্রিম প্রজননসহ সব সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হয়।

  • সাতক্ষীরায় গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে গ্রাহক

    সাতক্ষীরায় গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে গ্রাহক

    স্টাফ রিপোর্টার: ভোক্তাপর্যায়ে দাম নির্ধারণের একদিন আগে থেকেই সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি শুরু হয়েছে ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার। হঠাৎ করে এক লাফে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অতিরিক্ত বাড়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। জানা যায়, এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) যা এদিন সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়। এদিকে বিইআরসি কর্তৃক এপ্রিল মাসে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করার আগেই বুধবার (১এপ্রিল) বিকাল থেকে সাতক্ষীরা শহরের প্রায় সবগুলো ডিলার পয়েন্টে দাম বৃদ্ধির ঘোষনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ি ৩১ মার্চে বিক্রি হওয়া ১৪৫০ টাকার সিলিন্ডার বুধবার বিকাল থেকে বিক্রি হয় সাড়ে ১৮ শ’ টাকা থেকে ১৯০০ টাকায়। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকালে নতুন মূল্য নির্ধারণের পর তা বেড়ে গিয়ে দাড়ায় ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। তবে ডিলারদের দাবি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদেরকেও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে। জেলা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল জানান, বিইআরসি সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া সত্ত্বেও সাতক্ষীরার বাজারে বরাবরই নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গৃহস্থালির কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির সিলিন্ডার। কিন্তু গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ কিছুটা সংকট চলছে। এই অজুহাতে প্রতি সিলিন্ডারে ২৭২ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। কোন কারণ ছাড়া হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তিনি বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর একটি ডিলার পয়েন্টে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে আসা সদর উপজেলার লবসা গ্রামের এক গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, প্রতি মাসে গ্যাস কিনতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা ৩০০ টাকা বেশি দরে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আরেক ভোক্তা সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাম বাড়ানোর আগেই ডিলাররা মিলে সিন্ডিকেট করে প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা প্রায় ৩০০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় তারা ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে। শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ শারিমন একরাম বলেন, আজ সকালেও ১৯০০ টাকা দিয়ে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি। গত মাসে ১৪৫০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। সরকার নির্ধারিত দামে কোনোদিন সিলিন্ডার কিনতে পারি না। সব সময় আড়াই’শ থেকে ৩শ’ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়। তাহলে সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের দরকার কী! যুমনা কোম্পানির ডিলার মো. রাশেদুজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এরই মধ্যে দুই দফায় গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বুধবার কোম্পানি থেকে প্রতিটি সিলিন্ডার ১৭৮৫ টাকা দুরে কিনতে হবে বলে আমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক টাকা পাঠিয়ে আমাদেরকে সিলিন্ডার বুকিং দিতে হচ্ছে। এর সাথে আছে পরিবহন ও লেবারসহ অন্যান্য খরচ। কাজেই বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভে ১৯০০ টাকা দরে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। তবে খুচরা এই দাম আরো বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। ফলে বাধ্য হয়েই তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি সমন্বয়হীনতা ও নজরদারি ঘাটতির ফল। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ডিলার গ্যাস মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, বাজারে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  • মধ্য মাছখোলায় শামালী সরদারের জানাজা সম্পন্ন

    মধ্য মাছখোলায় শামালী সরদারের জানাজা সম্পন্ন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার মধ্য মাছখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শামালী সরদার (৬৮) আর নেই। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজা নামাজ একই দিন আসর নামাজের পর মধ্য মাছখোলা জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ। তিনি মরহুমের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, “শামালী সরদার একজন সৎ, পরোপকারী ও সমাজসেবামূলক কাজে নিবেদিত মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যু এলাকায় অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।” এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক সহিদুর রহমান, হাফেজ রফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম এবং মরহুমের ছোট ভাই মোঃ রুহুল কুদ্দুছ। বক্তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা রওশন আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা শাহিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামীম রেজা, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লী। জানাজা নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ সাইফুল ইসলাম। নামাজ শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম

    ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মেসার্স প্লাটিনাম ইউরেকা ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনে আজ ৩০০০ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে। সরবরাহ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ট্যাগ অফিসারকে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেখা যায়। এছাড়াও, সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল জনসাধারণকে সঠিক ওজনে প্রদান করা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হয়েছে।

  • সাতক্ষীরায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের দাবী জানালেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    সাতক্ষীরায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের দাবী জানালেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার: ভোলায় উৎপাদিত গ্যাস সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে শিল্পকারখানা স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- তা জানতে চেয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে বিদ্যুমন্ত্রী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ভোলায় যে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ করে কোন ইন্ড্রাস্ট্রি করার পরিকল্পনার কথা জানতে চান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে জানতে চান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুমন্ত্রী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

  • বিজিবির অভিযানে ভারতীয় পন্য জব্দ

    বিজিবির অভিযানে ভারতীয় পন্য জব্দ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, তলুইগাছা বিওপির সদস্যরা সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেন। চান্দুরিয়া বিওপি কলারোয়ার গাড়ালবাড়ি মোড় এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, হিরোইন মিনি সাবান, নেহা মেহেদি এবং ইমিটেশন গয়না জব্দ করে। এ ছাড়া কুশখালী বিওপি সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া এলাকা থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, মাদরা বিওপি কলারোয়ার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, গাজীপুর বিওপি আনিসের ঘের এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং কালিয়ানী বিওপি খৈতলা এলাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা এসব পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে আনা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এ অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

    সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

    আবু সাইদ বিশ্বাস: দেশের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হয়ে থাকা ‘সুন্দরবন’ উপকূলীয় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা। সুন্দরবনকে আশ্রয় করে মধূ সংগ্রহে যাদের সংসার চলে মৌয়াল তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৮৬০ সাল থেকে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। প্রতিবছর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। দেশে বিদেশে এসব মধুর সূনাম সূখ্যাতি অনেক বেশি। ভিন্ন স্বাদ ও একক ফুলের মধু হিসেবে সকলের নিকট এ মধু অধিক প্রিয়, চাহিদা বেশি কিন্তু উৎপাদন কম। চিকিৎসকদের মতে সুন্দরবনের মধু শক্তি প্রদায়ী, হজমে সহায়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময় করে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এই মধু পাওয়া যায়। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুম চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। চলতি বছর সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু ও ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই মৌয়ালদের অনাগ্রহ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। যে কারনে মৌয়ালরা দলবদ্ধ হয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য বনে ঢোকে। খুব ভোরে ধারালো দা, লাঠি, ধোঁয়া তৈরি করার মশালসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে বনের গভীরে যায়। গামছা বা অন্যান্য কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা থাকে মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তারা বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীদের ভয় দেখানোর জন্য। এ সময় হরগোজা, কেয়া কাঁটা, হেতালসহ নানা কাঁটা জাতীয় গাছ ও বড় বড় গাছের মাটি থেকে ওঠা শ্বাসমূল থেকে শরীর বাঁচিয়ে তারা এগিয়ে চলে। তাদের দলনেতা ঠিক করে দেয় কোন এলাকায় তারা মধু খুঁজবে। এরপর চলে মৌচাক খোঁজার কাজ। হঠাৎ চাক চোখে পড়লে তারা সাংকেতিক শব্দ করে, তখন অন্যরা বুঝে যায় চাক পাওয়া গেছে। চাকের আকার, গঠন ও রঙ দেখে তারা বুঝতে পারে চাকটির বয়স কত এবং কতটুকু মধু ওই চাকে থাকতে পারে। এরপর চাক কাটার জন্য দলের ভিতরে নির্দিষ্ট মৌয়াল গাছে ওঠে। ধোয়ার মশাল নিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে চাক কাটে। তবে চাক কাটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর জন্য আলাদা দক্ষতার দরকার হয়। প্রথমে ধোঁয়া তৈরির জন্য শুকনো পাতা ও গাছের ডাল যোগাড় করতে হয়। মূলত গোলগাছের শুকনো পাতাই বেশি ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ সময় চাকের আশপাশে এগুলো পাওয়া যায় না। তখন এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি করে শুকনো পাতার ব্যবস্থা করে মশাল বানাতে হয়। শুকনো পাতা ও ডালপালা বাঁধার জন্য আবার লতা জাতীয় গাছ খুঁজতে হয়। লতা জাতীয় গাছ থেকে লতা কেটে তারপর শুকনো পাতা ও ডালপালা একসঙ্গে বাঁধা হয়। কখনো কখনো গোলগাছেরই কচি মাথার অংশ ব্যবহার করা হয়। যেটা অনেক টেকসই। মৌচাকের তিনটি অংশ থাকে। এক পাশে মৌমাছির বাসা আরেক পাশে ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু। আর মধুর নিচে থাকে আরেকটা অংশ, যাকে গুটলি (ফুলের পরাগরেণু) বলে। সেই অংশটাই প্রথমে কেটে ফেলে দিতে হয়। এরপর যেই পাতিলে মধু রাখা হয়, সেটা মৌচাকের নিচে ধরে দা দিয়ে মধুর অংশটা কাটা হয়। সংগ্রহ করা হয় চাকসহ মধু। তবে মৌমাছির বাসার অংশটা কাটা হয় না। যদি বাসাটা রেখে দেয়া হয় তাহলে সেই চাকে আবারো মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে জমা করে। ১০/১২ দিনের মধ্যেই সেই চাক আবার কাটার উপযোগী হয়ে যায়। এরপর কাটা মৌচাক থেকে চেপে মধু ও মোম বের করা হয়। মধু আর মোম আলাদা হয়ে গেলে মোমটা একটা ব্যাগে আর মধু একটি পাত্রে রাখা হয়। এরপর আবার শুরু হয় নতুন চাক খোঁজা। এভাবে বনের ভিতর ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে চাক খুঁজে মধু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে দিনের পর দিন চলে মধু সংগ্রহের কাজ। সুন্দরবনের মধুর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। খলিষামধু, গরানের মধু, গেওয়া মধু, কালিজিরা মধু প্রভৃতি। এগুলোর রঙ, গন্ধ ও স্বাদ ভিন্ন। খলিষামধু সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। সুন্দরবন থেকে যখন মধু সংগ্রহের সময় হয় বছরের শুরুতে সংগ্রহ করা হয় খলিষামধু। খলিষা নামক এক প্রকার গাছের সাদা ফুল থেকে মৌমাছিরা এই মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে। যখন সুন্দরবনে খলিষা গাছে ফুল ফোটে তখন অন্য সব গাছে মুকুল থাকলেও ফোটে না। গরানের মধু সবচেয়ে বেশি সময় ও বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করা হয়। গেওয়ামধু গেওয়া গাছের ফুল থেকে মৌমাছিরা সংগ্রহ করে। মধু সংগ্রহের মৌসুমের শেষসময়ে সংগ্রহ করা হয় এই মধু। গেওয়া ফুলের মধুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও তেমন চাহিদা নেই। কালিজিরা মধু কালিজিরা ফুল থেকে পাওয়া মধু। দেখতে কালচে রঙের হয়। খেতে একেবারে খেজুরের গুড়ের মতো স্বাদ। ঘ্রাণটাও খেজুরের গুড়ের সাথে মিলে যায়। মধুর ঘনত্ব কম বা বেশি হতে পারে। মধু পাতলা হলে ফেনা হতে দেখা যায়। আর ঘনত্ব বেশি হলে ফেনা হয় না। সাধারণত কালোজিরা ফুলের খাঁটি মধু জমে যেতে দেখা যায় না। বনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে দু’ বার তারা মধু সংগ্রহ করতে বনে যায়। একবার এপ্রিল মাসে, আরেকবার সেপ্টেম্বরে। দু’ তিন মাস করে সে সময় তারা বনে থাকে। মৌচাক বিষয়ে তারা বলে, একটি চাকে মৌমাছিরা তিন ধরনের বিশেষ কক্ষ তৈরি করে। কর্মী মৌমাছিদের জন্য ছোট কক্ষ, পুরুষদের জন্য বড় কক্ষ এবং রাণীর জন্য বিশেষ কক্ষ। কর্মী মৌমাছিরা নতুন প্রজন্ম আসার আগেই বিশেষভাবে ফুলের রেণু এবং রস চিবিয়ে, অর্ধেক হজম করে পেটে জমা করে রাখে। তারপর বাচ্চাদের সেই অর্ধেক হজম করা খাবার খেতে দেয়, কারণ বাচ্চারা সরাসরি রেণু এবং ফুলের রস খেতে পারে না। তারপর যখন বাচ্চাগুলো কিছুটা বড় হয়, তখন কর্মী মৌমাছিরা এই চিবানোর কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে শুধু মধু এবং রেণু খায়। বাচ্চাদের অর্ধেক হজম করা খাবার দিতে হবে, না হলে বাচ্চারা মারা যাবে। মৌমাছি যখন ফুলের রস, রেণু নিয়ে বাসায় ফিরে আসে, তখন সেটি এক বিশেষ নাচ এবং সাংকেতিক শব্দ তৈরির মাধ্যমে অন্য মৌমাছিদের জানিয়ে দেয় কোথায় মধু পাওয়া যাবে। প্রায় সময় মৌাছিরা চাক থেকে মধু খেয়ে চলে যায়, শূন্য চাক পড়ে থাকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার মৌয়াল হাবিব সরকার জানায়, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে তার বড়ভাই ইয়াকুব সরদার বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারায়। হঠাৎ বাঘ আক্রমণ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দলের যে কোনো একজনকে ধরে নিয়ে বাঘ বনের ভিতরে চলে যায়। পরে ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের কয়েক মাইল ভিতরে। আবার অনেকে বাঘের সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরে। মৌয়ালদের অভিযোগ, ডাকাতদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বনে প্রবেশ ও নিরাপদে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিক ডাকাত দলের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন বা লুটপাটের ঝুঁকি থাকে। তাঁদের ভাষ্য, প্রতি নৌকার জন্য ডাকাতেরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। আবার কোথাও জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাছানুর রহমান বলেন, মধু আহরণের মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সূত্রমতে এ বনে মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় অসাধু মৌয়াল চক্র ও মধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল মধু তৈরির ব্যবসা করে আসছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার হরিনগর, কদমতলা, কাশিমারি, বল্লভটুপি, ঝাপালী, জয়নগর, গাবুরা এলাকার চকবারা, পার্শেমারি, ডুমরিয়া প্রভৃতি গ্রামের মৌয়ালদের একাংশ দির্ঘ দিন ধরে ভেজাল মধু তৈরি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় বিপুল পরিমানে নকল মধু জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    স্টাফ রিপোটার: আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রত্যেক কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সাইবার নজরদারি ও গুজব রোধ: পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল- জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। পরিদর্শন ও মনিটরিং টিম: শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের প্রবণতা বন্ধে এবার বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা: এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসের নূন্যতম সুযোগহীন পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ নিয়মিত বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্চিন্ন পাহারায় কোনো ধরনের অনিয়ম ঢাকা পড়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় আমরা এবার ফয়েল প্যাক এবং ওয়ান টাইম সিকিউরিটি খাম ব্যবহার করছি, যা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কেবল পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অন্যদিকে, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই পরীক্ষা কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমরাও সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে— এই বার্তা আমরা এরই মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।’ পরীক্ষার আগেই সচল করতে হবে সব সিসিটিভি ক্যামেরা : মাউশি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১টি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১. এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। ২. যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল বা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ক্যামেরা পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করতে হবে। ৩. সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা সব ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করতে হবে। ৪. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দেয়ালঘড়ি (কাঁটাওয়ালা) স্থাপন করতে হবে। ৫. স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ৬. কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. কোনো পরীক্ষার্থী যাতে নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা টাঙিয়ে দিতে হবে। ৯. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১০. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কেন্দ্রসচিবদের দেওয়া নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ১১. উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে; কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে সব ধরনের অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দেবহাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, নতুন করে নির্মাণের দাবি

    দেবহাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, নতুন করে নির্মাণের দাবি

    দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের গড়িয়াডাঙা এলাকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সেতুটি এখন ‘মরণফাঁদ’ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গড়িয়াডাঙা ও শাহাজাহানপুর গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পারাপার হন। সেতুর পাশেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করতে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের ঢালাই রেলিং ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও রেলিং সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সেতুর গায়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। সেতুতে ওঠার পথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে—দুই পাশের সংযোগস্থল খালে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেতুতে ওঠানামার সুবিধার জন্য বাঁশের ভারা তৈরি করা হলেও সেটিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে। ঘুণে ধরা সেই বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন মানুষজনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

  • কলারোয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    কলারোয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান সাংবাদিকেরা। এ সময় ইউএনও সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইউএনও পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। পরে উপজেলা জামায়াত নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন, সহকারী প্রোগ্রামার মো. মোতাহার হোসেন, কলারোয়া প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ এ সাজেদ, কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তাক আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আসাদুজ্জামান ফারুকীসহ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। সভায় সাংবাদিকেরা উপজেলার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল সংকটজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদান সহজ করতে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওসির তত্ত্বাবধানে পৃথক একটি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।