

চলতি বছরে জাতীয় দলের চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২৮ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে এই চুক্তি। এবারের চুক্তিতে নেই ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরি। চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের গ্রেড। কোনো ক্যাটাগরিতে পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি এবার। তবে বেড়েছে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা। আগের ২২ থেকে এবার বেড়ে হয়েছে ২৮। প্রথমবারের মতো চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন পারভেজ ইমন, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ। চুক্তিতে ফিরেছেন সাইফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম হাসান, শামীম হোসেন। আগের চুক্তি থেকে বাদ পড়েননি কেউই। এ গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে মাসিক ৮ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন চার ক্রিকেটার। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। বি গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে মাসিক ৬ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে আছেন ১১ ক্রিকেটার-মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসান। সি গ্রেডে বেতন ৪ লাখ-সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব। আর সর্বশেষ ডি গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে আছেন পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন।

ডেস্ক রিপোর্ট: সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের বিপরীতে কোনো কার্যক্রম হলে জামায়াত ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে। তিনি জানান, একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে দেশের অগ্রগতি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে তাদের দল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে ইয়াতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মানবতার জন্য জনগণের ক্ষতি হবে এমন কোনো পরিস্থিতি সরকারের কিংবা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে ঘটতে দেওয়া হবে না। তবে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে বিরোধীদল প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিটি ভালো কাজের জন্য সরকারের সঙ্গে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তবে তাদের ইচ্ছা, এমন পরিস্থিতি যেন গড়ে না ওঠে যেখানে প্রতিরোধের প্রয়োজন হয়। ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধীদল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিপন্ন হলে জনগণের পক্ষে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তারা সজাগ থাকবে।

এফএনএস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডি ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ এবং এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে ডাকসু গ্রুপে তিনি লেখেন: ঘটনার পরিক্রমায় যতদূর জানলাম, তাদের কাউকে জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করা হয়েছে, আবার কাউকে কাউকে অফিস প্রাঙ্গণে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এটাই তাহলে বিএনপি সরকারের প্রথম কার্যদিবসে গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ পুরস্কার। তাদের অপরাধ? তাদের অপরাধ হলো, জুলাইয়ের পক্ষে থাকা। জুলাইকে ধারণ করা। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে নয় দফা প্রচারে এই সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অনেক। জুলাইপন্থি সাংবাদিক হওয়ার কারণে তাদের আজ হেনস্তা করা হয়েছে। মব করে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রধানদের বলছি, কারও ওপর জুলুম করবেন না। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন।

স্টাফ রিপোর্টার: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের অবহিত করেন। সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, দেশের হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং পশ্চাৎপদ প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে আমরা ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করব। তিনি বলেন, গতকাল ও আজ (গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার) মিলিয়ে ইতোমধ্যেই প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু কাজে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা হাত দিতে পেরেছি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করছেন। আমরা মন্ত্রিপরিষদের সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চূড়ান্তভাবে নির্দেশ পেয়েছি। আপনারা জানেন যে আমাদের বহুল প্রচারিত প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, আমরা ইনশাআল্লাহ এই মাস থেকেই ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বন্টনের কাজ বাস্তবায়ন শুরু করব। ফলে গতকাল ও আজ (গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার) মিলিয়ে প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু কাজে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা হাত দিতে পেরেছি। জাতির কাছে আমরা এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দোয়া চাই এবং আপনাদেরও সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, এটি আমাদের নির্বাচনী ওয়াদার মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এছাড়াও আজ আমরা অন্যান্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন বাহিনীর প্রধানও দেখা করেছেন। তিনি গতকাল (গত বুধবার) সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দুপুর ২টার সময় বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। কোন কোন এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ডগুলো দেওয়া হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার জন্য একটি ছোট কমিটি গঠন করা হবে, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে। তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য একটি চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনা দেবেন। প্রাথমিকভাবে কত টাকা দেওয়া হবে এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে-এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা টাকার পরিমাণ এই মুহূর্তে নির্ধারণ করিনি। তবে যেহেতু আমরা পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেব, তাই সেটাকে মাথায় রেখে বাস্তবায়নযোগ্যভাবে শুরু করব। মূলত টাকার পরিমাণের চাইতেও সমস্ত নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে এটিকে আরও উন্নত করা যাবে।

স্টাফ রিপোটার: দীর্ঘ ১৮ মাস সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত থাকার পর সাতক্ষীরায় ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বড় বাজার এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন মামলা বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মিছিল শেষে তারা জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের বড় বাজার সড়ক থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে অংশ নিতে দেখা যায়। মিছিলটি পার্শ্ববর্তী জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে নেতাকর্মীরা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, আমরা শীঘ্রই আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে রাজপথে ফিরব। সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী আবারও ফিরে আসবে। তবে মিছিলটি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উড়লেও কার্যালয়টির মূল ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই আকস্মিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখেছি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল হয়েছে, এটা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা সদর থানা পুলিশকে অবগত করেছি, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহীন ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যারা জনরোষের ভয়ে পালিয়েছিল, তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এই চেষ্টা হাস্যকর। আমরা রাজপথে আছি এবং যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আরেফিন জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো কিছু শুনিনি। খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

সাতক্ষীরার সিটি কলেজের উত্তরে অবস্থিত হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদে শিশুদের জন্য মক্তবভিত্তিক কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনে (১৯ ফেব্রুয়ারি) আসরের নামাজের পর মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্বাস উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয় এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপস্থিত মুসল্লীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মসজিদ কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এই কার্যক্রমে শিশুদের কুরআন পড়া, নামাজ ও দোয়া শিক্ষা, ইসলামী আদব-কায়দা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ধর্মীয় অনুশাসনে অভ্যস্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ শিক্ষক ও হাফেজরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করবেন। ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্বাস উদ্দীন বলেন, “শিশুকাল থেকেই কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষায় অভ্যস্ত হলে তারা ভবিষ্যতে নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। এই কার্যক্রম সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” স্থানীয় অভিভাবক ও মুসল্লীরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাতক্ষীরার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্টাফ রিপোর্টার: বনদস্যুদের আতঙ্কে সুন্দরবন উপকূলের দুবলারচরে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন ১০ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিরাপত্তার অভাবে জেলেরা চরে অবস্থান নিয়ে বসে থাকায় রাজস্ব ঘাটতি ও স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলেদের সংগঠন দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের ভয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের অভিযোগও করেন তিনি। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় আহত চার জেলে বর্তমানে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান। আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’, এখন যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে গেলে ডাকাত’। গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার রাতে অপহরণের সময় দস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে গেলেও এখনো যোগাযোগে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সুন্দরবন বন বিভাগের জেলেপল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য পাস নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। শরণখোলা বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদার বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষ-এ অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তার। সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তার ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কালিগঞ্জ শহীদ সোহরোয়ারদী পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রভাত ফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, দোয়া মাহফিল এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াসিম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌকীর আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সাকিল আহমেদ, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হেমেন্দ্রনাথ মন্ডল, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল হোসেন, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসনে আরা খানমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া সভায় শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নলতা শরীফ-এ শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইফতার মাহফিল। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক হজরত খান বাহাদুর আহছানউল্লা (র.) প্রতিষ্ঠিত নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই মাহফিলে প্রতিদিন একসঙ্গে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ ইফতার করছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকেই এই বিশাল আয়োজন শুরু হয়েছে, যা চলবে পুরো মাসজুড়ে। বৃহস্পতিবার প্রথম রোজায় সরেজমিনে দেখা যায়, ফজরের নামাজের পর থেকেই শুরু হয়েছে ইফতার প্রস্তুতির বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মী সিঙ্গাড়া, ছোলা, সিদ্ধ ডিম, ফিরনি, চিড়া, কলা, খেজুরসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী প্রস্তুতে ব্যস্ত ছিলেন। বিকেলের দিকে মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। মাগরিবের সময় ঘনিয়ে এলে হাজারো মানুষ সারিবদ্ধভাবে বসে ইফতারে অংশ নেন, যা পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়। ইফতার বিতরণের কাজে প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিলেন। তারা প্রথমে পানি ও গ্লাস বিতরণ করেন, এরপর শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে প্লেটে ইফতার পরিবেশন করা হয়। বিশাল প্যান্ডেলের নিচে হাজারো মানুষের জন্য সুশৃঙ্খল বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা যায়, ১৯৩৫ সালে আহছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.) রমজান মাসে এই ইফতার মাহফিলের প্রচলন করেন। ১৯৫০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে শুরু হওয়া এই আয়োজন আজও অব্যাহত রয়েছে। দেশ-বিদেশের ভক্তদের আর্থিক সহায়তায় প্রতিবছর এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দীর্ঘদিনের বাবুর্চি মোঃ মুক্তার হোসেন বলেন, “আমি এখানে প্রায় ৪৮ বছর ধরে সিঙ্গাড়া তৈরির কাজ করছি। প্রতিদিন এখানে প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার সিঙ্গাড়া তৈরি করা হয়।” আরেক বাবুর্চি আসাদুর রহমান জানান, “আমরা প্রতিদিন ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কাজ শুরু করি এবং বিকাল ৫টার মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করি।” ইফতারে অংশ নেওয়া শিক্ষক আবু হাসান বলেন, “এখানে ৬ হাজার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করতে পারা অত্যন্ত আনন্দের। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ইবাদত কবুল করেন।” নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর প্রথম রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ একসঙ্গে ইফতার করেন। এটি শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং মানবতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।” তিনি আরও জানান, শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক ও অভিজ্ঞ বাবুর্চিদের সমন্বয়ে কঠোর শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ইফতার প্রস্তুত ও বিতরণ করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও এই বিশাল আয়োজন নলতা শরীফকে ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনস্থলে পরিণত করেছে। সাতক্ষীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকরা আশা করছেন, মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিল শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে এবং মানবতা ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।