আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় পানি সংকট নিরসনে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অধিপরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘প্রোমোটিং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন ইন সাউথওয়েস্ট বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে এবং রূপান্তরের সহযোগিতায় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংকট একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রূপান্তরের পিসিআর-ওয়াশ প্রকল্পের প্রতিনিধি ইমরান হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি লিডার মোঃ ফয়েজউদ্দীন আহম্মেদ এবং রূপান্তরের জলবায়ু প্রকল্পের পরিচালক মোঃ ফারুক আহম্মেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রংশু শেখর দাশ, আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইমরান হুসাইন, সমাজসেবা কর্মকর্তা, কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক বিল্লাহ, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিক, বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মাহবুবুল হক ডাবলু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেনুজ্জামান হোসেন, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ, কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর সাকি ফেরদৌস পলাশ, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউল হুদা তুহিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, ইউপি সচিব, এনজিও কর্মী এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Author: news_admin
-

সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে চরম ভোগান্তি
আগরদাঁড়ী প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাঁশঘাটা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি খেকো চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তাটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে কাদা ও বড় বড় গর্ত, ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি পরিবহন করছে। অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কাদার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, অবৈধভাবে মাটি পরিবহন বন্ধ এবং জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কার করা না হলে অচিরেই এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ মাটি পরিবহন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
-

শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে চাই: এমপি রবিউল বাশার
আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেছেন, “বিপুল ভোটের মাধ্যমে যে আমানত দিয়েছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করতে আমি বদ্ধপরিকর। আমি শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে পাশে থাকতে চাই।” মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বকচর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রীউলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা লূৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এন এ এম মুরতাজা আলী ও উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আনওয়ারুল হক। প্রধান অতিথি এমপি রবিউল বাশার বলেন, “পবিত্র রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও ইনসাফ কায়েম করাই আমার মূল লক্ষ্য। শ্রীউলা ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রতিটি জনপদে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমি কাজ করে যাব।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিরা নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানিয়ে এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে অতিথিরা স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করেন।
-

যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু হলে রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি
স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি, দুঃশাসন, টেন্ডার ও চাঁদাবাজমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা রাষ্ট্রে চালু করার আহবান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতির কারণেই আমাদের জাতীয় অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। এতে পুঁজিপতির পুঁজি বাড়ছে; দরিদ্ররা হয়ে পড়ছেন আরো হতদরিদ্র। দুর্নীতিও বাড়ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। তাই দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশকে দুর্নীতি ও বেকারত্বমুক্ত করতে যাকাত ও কর্জে হাসানাভিত্তিক ইসলামী অর্থনীতি চালুর কোন বিকল্প নেই। আর তা করতে পারলেই দারিদ্র, দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটকে বঙ্গপোসাগরে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “রমজান ও যাকাত ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আমীর জাহিদুল ইসলাম। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, কর্মপরিষদ সদস্য এড. আজিজুল ইসলাম, ঝাউডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবি, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবি ফোরামের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে বেকার, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের রাষ্ট্রের যাকাত তহবিল থেকে কর্জে হাসানা; প্রয়োজনে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। যাতে তারা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন। আর এভাবে পাঁচ বছর কাজ করা হলে দেশে যাকাত নেওয়ার মত কোন লোক থাকবে না। দেশ পুরোপুরি দারিদ্রমুক্ত হবে। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে জামায়াতে পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
-

৬ সিটি করপোরেশনের বিএনপির দলীয় প্রশাসক নিয়োগ
স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ কার্যকর থাকবে। আগের প্রশাসকদের সরিয়ে এসব পদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এবার আমলাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। নতুন দায়িত্ব পাওয়া ছয়জনই বিএনপির প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ নেতা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম। তিনি একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদেও রয়েছেন।
আবদুস সালাম ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। তবে এই নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবরের শেষে তাকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন মাহমুদুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন আবদুস সালাম।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক করা হয়েছে শফিকুল ইসলাম খানকে। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শফিকুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই মাসের শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন তার জায়গায় এলেন শফিকুল ইসলাম খান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শওকত হোসেনের বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার, চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার এবং দাদা জবেদ আলী সরকারও কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছিলেন। শওকত হোসেন নিজেও টানা ১০ বছর কাশিমপুর ইউপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অপসারণের পর অন্তর্বর্তী সরকার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এখন তার স্থলাভিষিক্ত হলেন শওকত হোসেন সরকার।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নতুন প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি আলোচিত সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে নাসিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এখন সেই স্থলাভিষিক্ত হলেন সাখাওয়াত হোসেন খান।
সিলেট সিটি করপোরেশন: সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বিসিবির পরিচালক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি সিলেটের সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগকৃত প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
খুলনা সিটি করপোরেশন: খুলনা সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর আগে, দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ বছর ছিলেন সভাপতি। সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি। জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে হারেন তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে জয় পেয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। -

কলারোয়ায় গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির ত্রৈমাসিক সভা
স্টাফ রিপোর্টার: কলারোয়া উপজেলায় গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সভাকক্ষে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেবুন নাহার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ। ত্রৈমাসিক সভায় ইউনিয়নভিত্তিক গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা গ্রহণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম, কলারোয়া থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নেরুন নাহার আক্তার, দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মাহাবুবুর রহমান, কুশোডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদ আলী, জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা সাহা, যুগিখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, কেরালকাতা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া লায়লা, কেড়াগাছি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান এবং সোনাবাড়িয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগমসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ। এছাড়া গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোস্তাক আহমেদ ও শুক্লা মিশ্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সহজে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা যায়।
-

আশাশুনিতে সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন
এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আশাশুনি বাজারে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সুলভমূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চালু করা হয়েছে। প্রথম দিনে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে ২৫ কেজি দুধ এবং ৩০০ পিস ডিম। দুধের মূল্য প্রতি কেজি ৬০ টাকা, বড় ডিম ৩০ টাকা এবং ছোট ডিম ২৮ টাকা হালি নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু, যিনি বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসে মাসব্যাপী আমিষের চাহিদা পূরণে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যাপ্তি বৃদ্ধি করা হবে। বাজার মনিটরিং চালু রাখা হবে যাতে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের যোগান ও মূল্য স্থিতিশীল থাকে।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল সালাম এবং আইসিটি কর্মকর্তা আক্তার ফারুক বিল্লাল।
-

গণসংবর্ধনায় দল-মতের ঊর্ধ্বে উন্নয়নের অঙ্গীকার এমপি ইজ্জত উল্লাহ’র
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ শপথ গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা কলারোয়া হাইস্কুল ফুটবল মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন। তিনি দলের বা রাজনৈতিক মতের ঊর্ধ্বে থেকে সমন্বিত উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “কলারোয়ার সব কার্যক্রম সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার ও জনসেবাই হবে আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।” অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কলারোয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান, এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার আমীর, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ। এমপি ইজ্জত উল্লাহ জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি মাদকের ছোবল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সামাজিক ও প্রশাসনিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গণসংবর্ধনা শেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, কলারোয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রায় সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করবেন।
-

অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এমপি ইজ্জত উল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, “সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কলারোয়াকে শান্তি-শৃঙ্খলার মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস হবে না বলে সতর্ক করে বলেন, অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম, পুলিশের এএসপি মো. ইমরান, কলারোয়া থানার ওসি এইচ. এম. শাহিন, নির্বাচন অফিসার অনুজ গাইন, বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, যান চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের মনিটরিংসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে সবাইকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।


