Author: news_admin

  • দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণায় বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আনিসুর রহমান

    দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণায় বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আনিসুর রহমান

    সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. আনিসুর রহমান। প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মতামত শোনেন। পরে কলারোয়া উপজেলার খদ্দের বাজারে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা এবার আনিসুর রহমান ভাইকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।” একই ধরনের বক্তব্য দেন বিএনপির কর্মী কামরুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদসহ অন্য নেতাকর্মীরা। তারা দলের কাছে আনিসুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। স্থানীয় সমর্থকদের দাবি, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি ইতোমধ্যে আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। মতবিনিময় সভায় আনিসুর রহমান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, “দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকব। ১১ নং দেয়াড়া ইউনিয়নকে দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।”

  • জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম থাবায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা

    জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম থাবায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এই জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা এবং সুপেয় পানির সংকটের মতো বহুমুখী পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী ও খাল দখল, বন উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে জেলার পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা বর্তমানে পরিবেশগত নানা সংকটে জর্জরিত। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, রেমালসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ, রাস্তা, বসতভিটা ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বহু এলাকায় নদীর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনাবাদি হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার এখনও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার অনেক এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা পুকুরের পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানান। পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষও জেলার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষিজমিকে চিংড়ি ঘেরে রূপান্তরের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক প্রাকৃতিক জলাশয় ও খাল দখল কিংবা ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি অংশ সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, হরিণ, পাখি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রতিবছর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং অতিবৃষ্টির প্রবণতা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ধান, সবজি ও ফলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ করে লবণসহিষ্ণু জাতের ফসল চাষ করতে হচ্ছে। অনেকেই কৃষি ছেড়ে বিকল্প জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী ও খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট বন্ধ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারিও অত্যন্ত জরুরি। নদী, খাল ও বন রক্ষায় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আগামী কয়েক দশকে জেলার পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।