যারা জীবন দিয়ে জালিম সরকারকে বিতাড়িত করেছে তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জুলুম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। জালেমরা শাসন করছিল। আমরা অনেকেই চেষ্টা করেছি জালেমদের প্রতিহত করার জন্য। দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেও সেটা সফলতায় রূপ দিতে পারি নাই। আমাদের স্কুল কলেজের ছাত্র, মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, রিক্সাওয়ালা ঠেলাগাড়িওয়ালা তাদের জীবন দিয়ে আন্দোলন সফল করেছে এই আন্দোলন সফল করেছে। যারা জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশের জালিম সরকারকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরীর উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আমীর মোঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এবং মহানগর আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সামিউল হক ফারুকী ও কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া।

অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তায়াআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দুনিয়ার মত একটি জায়গা আমরা খুব স্বল্প সময়ের জন্য এসেছি।  দুনিয়ার যে জীবন, সেই জীবনকে আমরা কাজে লাগিয়ে যেন সফল হতে পারি সেজন্য নবী রাসূল পাঠিয়েছেন, কিতাব পাঠিয়েছেন। যুগে যুগে যত ইসলামী আন্দোলনের নেতারা এসেছেন তারাই জমিনে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে গেছেন। তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ শহীদ আপনাদের এই ময়মনসিংহ অঞ্চলের। আমার কাছে ৬২ জনের একটি তালিকা এসেছে।

এদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিক শ্রেণীর লোকেরাই তাদের জীবন দিয়েছে। যারা ঈমান নিয়ে এই সংগ্রামী আন্দোলনের শরিক হয়েছিলেন সেই সমস্ত শহীদ ভাইদের শাহাদাত আল্লাহ তায়ালা যেন কবুল করেন। যারা জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশের জালিম সরকারকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের ভোটের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, অনেক অধিকার লঙ্গিত হয়েছে। এইসব অধিকার যদি ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে অন্তবর্তী সরকারকে একটু সময় দিতে হবে। তবে তা বেশি দীর্ঘায়িত করা যাবে না।

এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সার্বজনীন চিরসত্য কতগুলো বক্তব্য দিয়েছেন। যারা আল্লাহর পথে জীবন দেয় নিহত হয় তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। আল্লাহর পথে  যিনি জীবন দেন শহীদ হন সেই আল্লাহ বলেছেন তোমরা তাকে মৃত বলো না তারা জীবিত। জীবিত সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে দেখতে পায়, শুনে ও রিজিক পায়। আমরা যা দেখি না, সেটা আল্লাহ তায়ালা তুলে ধরেছেন কালামে হাকিমে। সুতরাং আমাদের সন্তানরা যারা এই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, এখন আন্দোলনটা কি? আল্লাহর পথে যারা জীবন দেয়। আল্লাহর পথ হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা। এটা আল্লাহর একটি পথ। দ্বীন কায়েম করা আল্লাহর পথ, ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ  হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এটা  আল্লাহর পথ। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল অন্যায়, মিথ্যা, জুলুম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি লড়াই। সুতরাং  এই লড়াই যারা জীবন দিয়েছেন আমরা আশা করতে পারি আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী এই ব্যক্তিদেরকে শহীদ হিসেবে তিনি কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। এই শহীদদের ব্যাপারে এখন একজন মানুষের বড় সফলতা হলো পরকালীন সফলতা, দুনিয়া কিছুই না। শ্বাস নিঃশ্বাস শেষ দুনিয়ার সব সাঙ্গ হয়ে গেল। আপনার কোটি কোটি টাকা কোন কাজে আসবে না। যারা আজকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে জেলখানায় গেছেন তারা আজকে বুঝছেন ব্যাপারটা কি। একজন বলেছেন, ‘আমাকে ছেড়ে দেন আমি বাংলাদেশটা ঠিক করে দেব’।

তিনি আরো বলেন, কিয়ামুল হাশরের দিন কত মানুষ চিৎকার করে বলবে হে আল্লাহ আমাকে দুনিয়ায় যাবার আরো একবার সুযোগ দাও। আমি আর কোন অপকর্ম করব না ভালো কাজ করে ফিরে আসবো একবার শুধু সুযোগ দাও। কিন্তু তারা সেই সুযোগ পাবে না। ৬০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যারা দেশের বাইরে চলে গেছেন তারা বড়ই যন্ত্রণার মধ্যে আছেন। এরা কোনদিন ভাবে নাই তাদের এই উপদ্রবের জন্য দুনিয়াতেই তাদের বিচার হবে। আল্লাহ তায়াআলা বলেন, দুনিয়ায় তারা লাঞ্ছিত হবে, ঘৃণিত হবে, অপমানিত হবে। তিনি শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সন্তানরা আল্লাহর জন্য জীবন দিয়েছেন। আল্লাহ তায়াআলা তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন, আমীন।

এছাড়াও সভায় কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীরসহ ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *