Blog

  • কলারোয়ায় বাড়ির গেটে বোমা সদৃশ বস্তু, এলাকায় আতঙ্ক

    কলারোয়ায় বাড়ির গেটে বোমা সদৃশ বস্তু, এলাকায় আতঙ্ক

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর গ্রামে একটি বাড়ির গেট, রান্নাঘরের দরজা ও উঠানে ঝুলিয়ে রাখা তিনটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের চন্দনপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় মৃত আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে কে বা কারা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে এসব বোমা সদৃশ বস্তু বেঁধে রেখে যায়। সকালে বাড়ির সদস্য ও আশপাশের লোকজন বস্তুগুলো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জানালে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির সামনে তিনটা সন্দেহজনক বস্তু ঝুলছে। আমরা ভয় পেয়ে যাই, কেউ কাছে যাইনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে তারা কোনো কিছু টের পাননি। সকালে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন বলেন, প্রাথমিকভাবে বস্তুগুলোকে হাতবোমা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড দাবদাহ, অন্যদিকে সেচ সংকটে ফসলের মাঠ রোদে পুড়ে চৌচির হওয়ার উপক্রম। তাই শেষ মুহূর্তে এসে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার কয়েক হাজার কৃষক। সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সোনালী স্বপ্নের হাতছানি। ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ধানের শীষে দুধল দানা কেবল পুষ্ট হতে শুরু করেছে। এই সময়ে ফসলের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সেচ। কিন্তু সারাদেশের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই কৃষি প্রধান এই জেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ডিজেল সংকট। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে সাত হাজার ৪০টি এবং ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যে কিছু উপজেলায় ৫ শতাংশ ফসল কাটা হয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ উপজেলায় এখনো দশ-পনের দিন পরে ধান কাটা শুরু হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ধানে এখনো দুই-একটি সেচের প্রয়োজন হবে। তবে আশা করছি, কৃষিতে সেচের সমস্যা হবে না। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং সমস্যার প্রভাব ফসলে পড়বে না।’ তবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেলো তাদের কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে লোডশেডিংয়ের কারণে ভালভাবে সেচ দিতে পারিনি। সর্বশেষ দুই সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে গভীর রাতে যখন সেচ পাম্পগুলো চালানোর কথা, তখনই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না গ্রামাঞ্চলে। ফলে ফসলে এবার মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি। ’ তালা উপজেলার কৃষক সমির আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধানের শীষ কেবল বের হইছে। এই সময় মাটি শুকায়ে গেলে চাল হবে না, সব চিটা হয়ে যাবে। সারারাত পাম্পের গোড়ায় বসে থাকি বিদ্যুতের আশায়, কিন্তু দেখা নাই। যখন আসে, তখন ভোল্টেজ এতো কম যে পানি ঠিকমতো উঠে না।’ সাতক্ষীরা পৌনসভা এলাকার কৃষক ও পানি ব্যবসায়ী সুরাত আলী বলেন, ‘আমার একটি গভীর নলকূপ আছে। কিন্তু বিদ্যুৎ তো আসে আর যায়! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকে না। যখন আসে, তখন ভোল্টেজ এতো কম থাকে যে মোটরের কয়েল পুড়ে যাওয়ার ভয়ে পাম্প ছাড়তে পারি না।’ ‘মাঠের কৃষকরা পানির জন্য প্রতিদিন আমার বাড়িতে এসে ভিড় করছে, গালিগালাজ করছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে আমি পানি দেবো কোত্থেকে? অনেকটা ক্ষুব্ধভাবেই বললেন হাবিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের অভাবে পাম্প না চললেও মাস শেষে ঠিকই বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিজেল দিয়ে পাম্প চালাতে গেলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকরা দিতে রাজি নন। এই অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক লাখ টাকা লোকসান দিয়ে তাকে পানি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকলেও সেখানেও বিপত্তি বাঁধে। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারগুলোতে ডিজেলের তীব্র সংকট রয়েছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না চাষীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে ড্রামপ্রতি চড়া দাম দিয়ে কালোবাজার থেকে তেল কিনছেন। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। কিছু কিছু পাম্পে বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের কারণে মিলছে না কাক্সিক্ষত পরিমান জ্বালানি। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখাচ্ছেন পাম্প মালিকরা। প্রতি লিটার ডিজেলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের অনেক সময় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। এ বছর এপ্রিলের শুরু থেকেই সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি হওয়ায় মাঠের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো ধানের এই পর্যায়ে জমিতে পরিমান মতো পানি না থাকলে ধানের দানা পুষ্ট হবে না এবং ‘হিট শক’-এর কারণে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজুর রহমান সরকার বলেন, ‘বর্তমান কৃষকদের সেচ চাহিদার বিপরীতে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দিতে পারছিনা। রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিদ্যুৎ বিভাগকে সেচ কাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা রোদ কম থাকলে অর্থাৎ বিকেলে বা ভোরে সেচ দেন। তবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটে কৃষকরা যে চাপে আছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।’ কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রেশনিং করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সেচ মৌসুমে কৃষি ফিডারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। সাতক্ষীরা জেলা দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। এখান থেকে উৎপাদিত ধান দেশের একটি বড় অংশের চালের চাহিদা মেটায়। কিন্তু মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে জ্বালানি আর বিদ্যুতের এই হাহাকার কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে এবং ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মাঠের পাকা ধানের বদলে কেবল খড় নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে তাদের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

  • সুমাইয়া বন্যা জামায়াতের কেউ নন

    সুমাইয়া বন্যা জামায়াতের কেউ নন

    শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
    হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এক নারীকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন মাহমুদ, সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, সাইদী হাসান, শহিদুল ইসলাম ও ডা. ইমাম হাসান প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “সুমাইয়া বন্যা” নামে এক নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এতে আরও বলা হয়, ওই নারীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। অতীতেও তিনি দলের কোনো পর্যায়ের সদস্য ছিলেন না এবং বর্তমানে তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় রাজনৈতিকভাবে জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী। বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করছে। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাম্প্রতিক মিছিলে জামায়াতের বিরুদ্ধে অশালীন স্লোগান দেওয়ারও নিন্দা জানানো হয়।

  • মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ

    মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক (সিটিএন) সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রকল্প সমন্বয়কারী সুবল কুমার ঘোষ মানব পাচার পরিস্থিতি ও প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিঠুন সরকার এবং জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং সিটিআইপি সদস্য সোহেল আহমেদসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি। প্রশিক্ষণে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন এবং সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। জেলায় কর্মরত ১৭টি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। শেষে অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • শ্যামনগরে স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগে স্ত্রী আটক

    শ্যামনগরে স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগে স্ত্রী আটক

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর ওপর হামলার অভিযোগে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত স্বামী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে ইসমাইল গাজী (৪১) তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩২)-এর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী নিজেই আহত স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের ভাষ্য, দাম্পত্য বিরোধ ও পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

  • সাতক্ষীরায় যুব কর্মসংস্থান ও সাইবার সুরক্ষায় এডভোকেসি সভা

    সাতক্ষীরায় যুব কর্মসংস্থান ও সাইবার সুরক্ষায় এডভোকেসি সভা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যুব নেতৃত্বে বিকল্প কর্মসংস্থান, সবুজ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সাইবার সুরক্ষা এবং যুব ও নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে তুফান কনভেনশন সেন্টার এন্ড রিসোর্ট (লেক ভিউ)-তে সিডো’র বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডো’র নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার মো. আরিফ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সংকট ও শহরমুখী জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। এছাড়া যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং অনলাইন ডেটাবেজ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সাতক্ষীরা ইয়ুথ হাবের সদস্যরা নাটকের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভা সঞ্চালনা করেন সাকিব হাসান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. তহিদুজ্জামান, একশনএইড বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্রিয়াংকা সেন মৌ, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার ও ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য।

  • সাতক্ষীরায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৫৭ জন

    সাতক্ষীরায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৫৭ জন

    সারাদেশে অনুপস্থিত ১১ হাজার ৮৯০ জন, বহিষ্কৃত ৬ জন
    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে এসএসসি ও সমনমান পরীক্ষার প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এ পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ৪৫৭ জন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তকতাগণ। তিনি জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং সার্বিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় মোট ২১ হাজার ১৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অনুপস্থিত ছিল ৪শ ৫৭ জন। জেলায় ৫১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি এসএসসি, ১৪টি দাখিল এবং ৮টি ভোকেশনাল কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসএসসিতে মোট পরীক্ষাথী ১৪,৩৩৩ জন, দাখিলে ৫,৬৭২ জন এবং কারিগরিতে ১,১২৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা ছিল। জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর জানান, এবারের পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এক কেন্দ্রের শিক্ষক অন্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন, যা রোটেশনাল ডিউটি হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। এদিকে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মঙ্গলবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী। তারা পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি। এ ছাড়া প্রথম দিনে অসদুপায়ের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছে ছয় পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে চারজন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের, একজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আরেকজন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গতবারের তুলনায় এবার ৭৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। গতবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। পরীক্ষা শেষে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৯০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ২১১ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩০৭ জন। গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এই পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২৬ হাজার ৯২৮ পরীক্ষার্থী। তার আগের বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৩৫৯ পরীক্ষার্থী। গতবার অনুপস্থিত থাকার কারণ চেষ্টা করেছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তাদের বোর্ডে গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। প্রাপ্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী ১ হাজার ২০৩ জনের তথ্য বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশের (৪৮১) বিয়ে হয়েছিল। এ ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কারণে। অন্যরা অসুস্থতা, প্রস্তুতি ভালো না থাকাসহ নানা কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।