January 11, 2020
সাতক্ষীরা প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজনে ক্ষণগণনা: শ্রদ্ধায় সিগ্ধ জাতির পিতা শেখ মুজিব

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে ক্ষণগণনায় হাজারো কন্ঠে শুদ্ধ উচ্চারণে জাতীয় সংগীত আর প্রত্যয়োদ্দীপ্ত স্লে¬াগানে মুখরিত সাতক্ষীরা। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্ত্বরে সমবেত হন সাত সহ¯্রাধিক মানুষ। রং-বেরংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল¬াকার্ডে সজ্জিত হয়ে স্লে¬াগানে-স্লোগানে মুখরিত করে বের হয় স্মরণকালের বৃহত্তম র‌্যালি। জন¯্রােতে পরিণত হয় র‌্যালিটি। ঢাক-ঢোল বাঁশি বাজিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি মুজিব বর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মিলিত হয় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে। সেখানে জাতীয় অনুষ্ঠানমালার সাথে সঙ্গতি রেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে স্থাপিত ক্ষণগণনা যন্ত্রে শুরু হয় কাউন্টডাউন।

জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে হাজারো জনতা জানান বিন¤্র শ্রদ্ধা। শুদ্ধস্বরে সবাই গেয়ে ওঠেন জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…’। সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পৌরদীঘির মাঝখান বরাবর স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে লাইটিং করা হয়। পৌরদীঘির চারপাশে শোভা পায় ঝলমলে আলোর প্রদীপ। লাল-সবুজের আলোর গালিচায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তর্জনী উঁচু করা অবয়ব শোভা পায়। সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে ছোট ছোট পতাকা আর ফেস্টুনে অপরূপ সাজে সাজানো হয়। সড়কের মোড়ে মোড়ে নির্মিত হয় সুদৃশ্য তোরণ। শহিদ আব্দুর রাজ্জাক ততক্ষণে পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারি, কারখানার শ্রমিক, মাঠের কৃষক, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশু, কিশোর, তরুণ, তরুণী, যুব-বৃদ্ধ সবাই এসেছিলেন দল বেঁধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ক্ষণগণনার অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানাতে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বর্ণ্যঢ্য অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এমএম মাহমুদুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসু দেব, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী, জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহিদুর রহমান প্রমুখ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন এবং কর্মের উপর আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুসফিকুর রহমান মিল্টন।

জেলা প্রশাসকের প্রেসব্রিফিং: এরআগে সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় শুরু হতে যাচ্ছে মুজিব বর্ষের ক্ষণগননা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কাউন্ট ডাউন উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা সেজেছে নানা সাজে নানা বর্ণে। এ উপলক্ষে সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পৌর দীঘির চারপাশে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন ও পৌর দীঘির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রতিকৃতি লাইটিংয়ের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে। জেলা শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভা পাচ্ছে মুজিব তোরণ। শহিদ আবদুর রজ্জাক পার্কে বসানো হয়েছে ক্ষণ গননার ঘড়ি। দুপুরে মুজিব র‌্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সুচনা করা হবে।

শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল তার সম্মেলন কক্ষে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, সমবেত কন্ঠে শুদ্ধস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা ও বিজয় ফুলের ওপর বিশেষ প্রদর্শনী শেষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সাথে সাথে শুরু হবে ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিকতা।

তিনি বলেন, এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন ছাড়াও ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে মুজিববর্ষের নানা অনুষ্ঠান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক হুসাইন শওকত, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, দৈনিক পত্রদূত’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, সাংবাদিক আবুল কাশেমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

হাজারো হাতের তালিতে মুখরিত শহিদ রাজ্জাক পার্ক: দুপুর গড়িয়ে বিকেল। ঘড়ির কাটা তখন ৪:৪০ মিনিট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর ক্ষণগণনা যন্ত্র উদ্বোধন করেন। এসময় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে হাজারো জনতার করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। হাজারো জনতার চোখ তখন ক্ষণগণনা যন্ত্রের উপর নিবদ্ধ। এরপর অতিথিবৃন্দ বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাঁজি বাজিয়ে ক্ষণগণনা যন্ত্রের উদ্বোধন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার সাথে সাথে গোটা পার্ক স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্লান্তিহীন দায়িত্ব পালন: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বর্ষ উপলক্ষে ক্ষণগণনায় হাজারো মানুষের ঢল নামে শহরের প্রত্যেকটি সড়কে। দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া র‌্যালিটি শেষ হতে সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। এসময় রাস্তার দুধারে যানবাহনে দাঁড়িয়ে থাকা শতশত মানুষ মানুষ হাত নেড়ে র‌্যালিকে অভিবাদন জানান। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনী ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের আইন-শৃঙ্খলার কাজে অংশ নিতে দেখা যায়। এসময় গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা কর্মীরাও অংশ নেন। বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা ছিলো লক্ষ্যণীয়। শহরে বাঁকে বাঁকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন নিরাপত্তার কাজে ব্যস্ত।সাতক্ষীরা জিপি জিম্ভু কুমার সিংহ এবং পিপি আব্দুল লতিফসহ সরকারী আইন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

More News


সম্পাদক র্কতৃক প্রকাশিত

e-mail: alorparosh@gmail.com