June 3, 2019
মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছায় কারাবরণের দাবিতে অর্ধশতাধীক সাংবাদিকের থানা অবরোধ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ:সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ২১ জন সিনিয়র সাংবাদিকের নামে হয়রানি মূলক মামলা দেয়ার প্রতিবাদে সদর থানায় অবস্থান করছেন কর্তব্যরত সাংবাদিকরা। তারা স্বেচ্ছায় গ্রেফতারের দাবি নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় অবস্থান ধর্মঘট করছেন। সোমবার (৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদের নেতৃত্বে সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চৌধূরী, আনিসুর রহিম, সহ-সভাপতি আশেক ই এলাহী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কারুজ্জামান, ইয়ারব হোসেন, আব্দুস সামাদ, আব্দুল জলিল, আমিরুজ্জামান বাবু, এম জিললুর রহমান, আব্দুল গফুর, আসাদুজ্জামান মধুসহ ২১ জন সাংবাদিক সাতক্ষীরা সদর থানায় স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হওয়ার দাবি নিয়ে সদর থানায় অবস্থান ধর্মঘট করছেন। তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি জিএম নূর ইসলাম, দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, প্রথম আলো সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকগণ।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ বলেন, গত ৩০ মে দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র হামালা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপি বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৯নং মামলা করেন। মামলায় আসামী করা মনিরুজ্জামান তুহিন, দৈনিক প্রবাহের জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল,মনিরুল ইসলাম মনি, শামিম পারভেজ ,আনিচুর রহমানসহ অনেকে।

কাউন্টার মামলা হিসেবে মনিরুজ্জামান তুহিন নামের এক কথিত সাংবাদিক সোমবার (৩ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানায় আর একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ০৫। এ মামলায় আসামী করা হয় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চৌধূরী, আনিসুর রহিম, সহ-সভাপতি আশেক ই এলাহী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, ইয়ারব হোসেন, আব্দুস সামাদ, আব্দুল জলিল, আমিরুজ্জামান বাবু, এম জিললুর রহমান, আব্দুল গফুর, আসাদুজ্জামান মধুসহ ২১ জন সাংবাদিককে। মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর থানা চত্তরে অবস্থান ধর্মঘট করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।
একই কথা বলেন, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চৌধুরী, আনিসুর রহিম, এম কামরুজজ্জামান, আশেক ই এলাহী, কল্যাণ ব্যানার্জী, জিএম নূর ইসলাম, হাবিবুর রহমান সহ প্রমুখ। বক্তারা এসময় স্থানীয় সদর এমপির নাম উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সাতক্ষীরায় নব্য জয়নাল হাজারী সেজে সাংবাকিদের লেখনি বন্ধ করতে চান। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল করতে তিনি নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন। সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায়। সাংবাদিকরা নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই। পুলিশ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নাটক করছে। বক্তারা বিষয়টি সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উল্লেখ্য গত ৩০ মে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল নিতে সাতক্ষীরা সদর আসনের জাতীয় সংসদ মীর মোস্তাক আহম্ম রবির মদদ পুষ্ট কিছু সাংবাদিক প্রেসক্লাবে হামলা চালায়। এতে প্রেসক্লাবের সভাপতি,সম্পাদক,সিনয়র সাংবাদিকসহ ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়।
এঘটনায় প্রতিপক্ষের ৮ জন সিনিয়র সাংবাদিক ও সহযোগী সদস্য মারাত্মক জখম ও আহত হয় বলে দাবী করা হয়।

এদিকে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাংবাদিকদের অপর একটি পক্ষ পাল্টা থানা ঘেরাও করে একই দাবী জানান। অবস্থান কর্মসূেিত রয়েছে, মনিরুজ্জামান তুহিন, দৈনিক প্রবাহের জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল,মনিরুল ইসলাম মনি, শামিম পারভেজ ,আনিচুর রহমানসহ অনেকে।
পুলিশের দ্বিমুখি আচার নিয়ে থানার ভেতর বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিকরা

একই রকম সংবাদ


আলোর পরশ ( সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক প্রকািশত) ৩০২/১-এ-নতুন পল্টন ঢাকা ১০০০. http://alorparosh.com/

Copyright © 2017 alorparosh.com. All rights reserved.