April 12, 2019
কাঁচা টক আমে ভরে গেছে সাতক্ষীরার বাজার: আড়ত না থাকায় হতাশ ব্যবসায়ীরা

আলোরপরশ নিউজ:   আমের মোরব্বা আর আচারে চাহিদার কথা মাথায় রেখে সাতÿীরার বাজারে কাঁচা টক আমের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন জেলার বাজারে শত শত মণ আম বেচাকেনা হচ্ছে। এবছর আমের আগাম মুকুল আসায় বাজার আগাম আম উঠতে শুরু করেছে। তবে ঝড় বৃষ্টির কারণে আমের মুকুল ও গুটি আমে ব্যাপক ÿতি হওয়ায় কাঁচা আমের দাম তুলনা মূলক বেশি। প্রতি দিন এ জেলা থেকে ৩ থেকে ৪ ট্রাক আম রাজধানী ঢাকার বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা আমা জেলার বাজারে উঠলেও গতকাল থেকে বাণিজ্যিক ভাবে কাঁচা আম কেনা-বেচা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছে প্রথম দিকে মণ প্রতি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় আম ক্রয় বিক্রয় হয়েছে। এখন বাজারে আমের সরবরাহ একটু বেশি থাকা দাম কমতে শুরু করেছে। চাষীরা বলছে কুয়াশা ও ঝড়ে যে পরিমাণে আমের ÿতি হয়েছে তাতে এবছর আমে লোকশান যেতে পারে। তবে দাম ভাল পেলে ÿতি পুশিয়ে যাবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় ৪ হাজার এক শ’ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২ শো’টি বাগান রয়েছে। চলতি বছরে এসব বাগানে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

গুণে ও মানে ভরা সাতক্ষীরার কাঁচা আমে এখন বাজার সয়লাব।প্রতিদিন সাতক্ষীরার বড় বাজারে শত শত মণ আম বেচাকেনা হচ্ছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখন সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজারে। অন্য বছরের তুলনায় এবার কাঁচা আমের দাম দ্বিগুণ। প্রতি মণ আম এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
আমের কদর বাড়ায় এখানকার আম রফতানি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। প্রতি কেজি কাঁচা আম বিক্রি করে পাচ্ছে কমপক্ষে ৬০-৮০ টাকা। আমের সাইজ বড় ও দেখতে সুন্দর হলে কেজি ১২০ টাকার উপরে। পাইকারি আম ব্যবসায়ীরা গ্রামের আম চাষীদের কাছ থেকে কম দামে সংগ্রহ করে ট্রাক ভর্র্তি করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ব্যবসায়িরা জানান, প্রতিদিন সাতক্ষীরা থেকে ৩-৪ ট্রাক কাঁচা আম যাচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলাতে। যার বাজার দর ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মতো।

জেলা ব্যাপি কাঁচা আমের জুড়ি নেই। লবণ-মরিচ মাখানো কাঁচা আম ছেলে-বুড়ো সবারই প্রিয় হয়ে উঠেছে। ডালে দুফালি কাঁচা আম দিলে যে টক ভাব আসে, ওতে অনেকের খানিকটা ভাত বেশি খাওয়া হয়ে যায়। আমের মোরব্বা আর আচার পেলে তো অনেকেই বর্তে যান। এ জন্য গরমের এ সময়টাতে কাঁচা আমের বেশ কদর বেড়েছে। আর সারা দেশে চাহিদা আছে বলেই জেলার বাজারে কাঁচা আমের ঢল নামে।

সাতÿীরার বড় বাজারে মিত্র বাণিজ্যালয়ের পরিচালক জয়ন্ত মিত্র জানান,বাজারে কাঁচা আম উঠতে শুরু করেছে। প্রতি দিন প্রতি দিন ৪ থেকে ৫ হাজার মণ কাঁচা আম সে ক্রয় করে ঢাকাতে পাঠান। বৃহষ্পতিবার সে ৫০ মণ আম ক্রয় করেন। সে জানায় গত কয়েক দিন ধরে সাতÿীরার বড় বাজার থেকে দুই ট্রাক আম ঢাকাতে যাচ্ছে। এছাড়া শেজার তালা,পাটকেলঘাটা,কলারোয়া,আশাশুনি থেকেও কাঁচা আম রাজধানিতে যাচ্ছে।

কাঁচা আমের পাইকারী ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম জানান, ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে আম কিনতে সাতক্ষীরা বড় বাজারে এসেছেন। তিনি ৩২ ঝুড়ি আম কিনে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। প্রতি ঝুড়িতে আম ধরে ১শ’ থেকে ১২০ কেজি।
অন্যদিকে মুজাহেদ নামের এক ব্যবসায়ী ঢাকার বাইফেল থেকে এসেছেন। তিনিও প্রায় ১শ’ মণ কাঁচা আম কিনে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।
কলারোয়ার কেড়াগাছি গ্রামের ওয়াজেদ মীরের ছেলে মীর ইনতাজ জানান,গত কয়েক দিন ধরে তিনি জেলার বাজারে কাঁচা আম বিক্রি করছেন। প্রথম দিকে ভাল দাম পেলেও এখন দাম কম পাচ্ছে। তিনি গতকাল ১৪শ টাকা দরে আড়াই মণ কাঁচা টক আম বিক্রি করেন।
সাতÿীরা শহর কাঁচা-পাকা বাজার সমবায় সমিতির সভাপতি কাজী কবিরুল ইসলাম জানান,দেশের বাজারের সাতÿীরা জেলার আম আগাম উঠতে শুরু করে। এবছর দু’দফায় আম গাছে মুকুল আসে। প্রথম দফার মুকুলে আমের গুটি বাঁধে। কিন্তু বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে দ্বিতীয় দফায় মুকুল ধরা আম গাছে আমের গুটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এবছর জেলাতে আমের ধরণ তুলনা মুলক কম। এর পরও দাম ভাল পেলে চাষীরা ÿতি পুশিয়ে নিতে পারবে। একই ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশনআলী জানান, জেলাতে সরকারী ভাবে কোন কাঁচা মালের আড়ত না থাকায় সংরÿণের অভাবে অনেক কাঁচা মাল নষ্ট হয়ে যায়। তার দাবী জেলার বড়বাজারে সরকারী ভাপবে কাঁচা মাড়ের আড়ত ও সংরÿণের ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের উপ-অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, সাতক্ষীরার আম গুণে-মানে সুস্বাদু। অন্যান্য জেলার থেকে সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। এ জেলার মাটি আম চাষের উপযোগী। বিগত বছর গুলোর মতো এবছরর এখানকার আম ইউরোপে রফতানি হবে। যে কারণে টার্গেটকৃত বাগান পরিচর্যা করা হচ্ছে বিদেশে আম পাঠানোর জন্য।-

একই রকম সংবাদ


আলোর পরশ ( সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক প্রকািশত) ৩০২/১-এ-নতুন পল্টন ঢাকা ১০০০. http://alorparosh.com/

Copyright © 2017 alorparosh.com. All rights reserved.